সম্প্রতি দেশের বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন তাদের ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণা চলাচ্ছে। ‘গ্রামীণফোন থাকলে ইন্টারনেটতো পকেটেই’ এমন শেস্নাগান নিয়ে তারা তাদের বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করছে। এতো প্রচারের ডামাঢোল না থাকলেও অন্য মোবাইল অপারেটরগুলো- বাংলালিংক, একটেল, সিটিসেল, টেলিটক ও ওয়ারিদ জিপিআরএস বা এজ-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। ইন্টারনেট সেবা দেয়ার জন্য এই কোম্পানিগুলো প্রায় এক বছর আগে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি’র লাইসেন্স নেয় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) থেকে। প্রায় ছয় লড়্গ টাকা ব্যয়ে নেয়া এই লাইসেন্সের আওতায় তারা তাদের বর্তমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে। এই লাইসেন্স তারা নেয় বিটিআরসির পূর্ববর্তী বিতর্কিত চেয়ারম্যান ওমর ফারম্নকের আমলে। লাইসেন্সটি এক বছর পরপর প্রায় চার লড়্গ টাকা দিয়ে ‘রিনিউ’ করে নিতে হয়। সারা দেশে সহজে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দিতে এটি একটি ভাল প্রক্রিয়া হলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একই অর্থ ব্যয়ে লাইসেন্স নেয়া আইএসপিদের সংগঠন বাংলাদেশ আইএসপি এসোসিয়েশন। তারা পুরো বিষয়টিকে তাদের ব্যবসার প্রতি হুমকিস্বরূপ দেখছেন।
আইএসপি এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেল রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড আর থাকলো না। এর দায়-দায়িত্ব বিটিআরসির। মোবাইল কোম্পানিগুলোকে তাদের বর্তমান অবকাঠামো ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা দানের সুবিধা তারা দিয়েছে। সেখানে আমাদেরকে অর্থ ব্যয় করে অবকাঠামো তৈরি করে সেবা দিতে হচ্ছে। মোবাইল কোম্পানিগুলোর মূল ব্যবসা ভয়েজ, তাদের জন্য ইন্টারনেট হলো একটা ভ্যালু এডেড সার্ভিস। তারা চাইলে এটা ফ্রিও দিতে পারে। যা আমাদের ব্যবসাকে দারম্নণ হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। তারা তাদের বর্তমান গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা দিয়ে বলছে সারাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তাদের সর্বোচ্চ। কিন্তু তারা যদি শুধু ইন্টারনেট সেবা দিয়ে তাদের গ্রাহক সংখ্যা এই পর্যায়ে আনতো তাহলে তাদের মুখে এই কথা মানাতো। আসলে পুরো বিষয়টিতে একটা অসমতা তৈরি হয়েছে’।
ইতোমধ্যেই গ্রামীণফোন জানিয়েছে তাদের ২৫ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছে যা দেশের মোট ফিক্সড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর চেয়ে বেশি। তবে তারা এও স্বীকার করেছে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার ড়্গেত্রে তারা ভর্তুকী দিচ্ছে।
পুরো বিষয়টিতে আরো কিছু বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ইন্টারনেট সেবা দেয়ার জন্য ‘মডেম’ আমদানী করতে চলিস্নশ শতাশং ট্যাক্স দিতে হয় এবং প্রতি বছর রেডিও মডেমের জন্য প্রতিটি মডেমের উপর বিটিআরসিকে ২০০০ করে টাকা দিতে হয়। সেখানে যে মোবাইলগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে তার জন্য তারা মাত্র একবার চারশ টাকা ট্যাক্স দেয়। উলেস্নখ্য এক একটি রেডিও মডেমের দাম এক থেকে দেড় হাজার ইউএস ডলার।
কেন মোবাইল কোম্পানিগুলো ইন্টারনেট নিয়ে এমন আগ্রহ দেখাচ্ছে। এমন প্রশ্নের জবাবে রাসেল টি আহমেদ বলেন- ‘আমরা একবার শুনে ছিলাম বৈধ ভিওআইপি লাইসেন্সের ড়্গেত্রে আইএসপি গুলো একটা ‘ফেভার’ পাবে, ফলে আমার ধারণা কিছু মোবাইল কোম্পানী চাইছে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। যাতে বৈধ ভিওআইপি’র লাইসেন্সের জন্য একমাত্র দাবীদার তারা থাকে’। এরই সূত্র ধরে আইএসপি এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন- ‘অবৈধ ভিওআইপি’র মামলা থাকার কারণে কিছু আইএসপির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই অভিযোগে কয়েকটি মোবাইল কোম্পানির বিরম্নদ্ধেও মামলা হয়েছে। তাহলে তাদের লাইসেন্স কেন বিটিআরসি বাতিল করছে না? তাদেরটাও বাতিল করা হউক।’ তিনি গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট সার্ভিস নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনগুলোকে ‘চাইল্ডিশ’ উলেস্নখ করে বলেন ‘আমাদেরকেও ‘ভয়েসে’র ব্যবসা করবার সুযোগ দেয়া হউক। আমরা চাই ফেয়ার কম্পিটিশন করবার সুযোগ’। এটা কোনভাবে অস্বীকার করবার উপায় নেই দেশের বর্তমান ইন্টারনেট খাতের যে বিসত্মৃতি তার কৃতিত্ব দেশী আইএসপিগুলোর। তারা হয়তো অনেক বড় স্কেলের রাজস্ব দেবার মতো খাত নয়, কিন্তু ইন্টারনেটের একটা পরোড়্গ প্রভাব আমাদের উন্নয়নের বিভিন্ন ধারায় পড়েছে। সেটা গার্মেন্টস সেক্টর থেকে শুরম্ন করে রপ্তানী কার্যক্রম এবং শিড়্গা খাতেও। গত দশবছর ধরে যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে নিজ উদ্যোগে তাদের নিয়ে বিটিআরসির দ্রম্নত ভাবনা জরম্নরী। মোবাইল কোম্পানী বা আইএসপি উভয় পড়্গই বিটিআরসির অধীনসত্ম। সুতরাং সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া উচিত বলে আইটি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তারা আরো মনে করেন ভিওআইপির সমস্যা আশু সমাধান করলে অনেক অযাচিত সমস্যা থেকে ভবিষ্যতে রেহাই পাওয়া যাবে। আইএসপি এসোসিয়েশন গত সপ্তাহে এই বিষয় নিয়ে বিটিআরসির সাথে কথা বলেছে। এই সপ্তাহে তারা বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মনজুরম্নল আলমের সাথে বিসত্মারিত আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে এই বৈষম্য দূর করার জন্য কি সিদ্ধানত্ম আসে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
০ জুবায়ের আহমেদ
সুত্র: ইততেফাক: ১৬-০৭-২০০৭
মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট: হুমকির মুখে দেশী আইএসপি কোম্পানি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
‘ছুটি’র স্মৃতি
(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)
আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে কারণে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনার ঘরেই উঠবে B-)

কারণ আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, মেসি-মার্তিনেজরা অপ্রতিরোধ্য। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচেই একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে জয়লাভ করে প্রবল বেগে ফাইনালের দিকে ধ্বাবিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে গতবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইরানে দরীদ্রদের হাতে নগদ টাকা পৌঁছানোর নীতি বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে

ইরানের ২০১০ সালে প্রবর্তিত 'টার্গেটেড ক্যাশ ট্রান্সফার' বা সরাসরি গরিবের হাতে নগদ টাকা পৌঁছানোর নীতিটি বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সাহসী পরীক্ষা হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন
হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লবের শরিকরা
যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।