somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে ইকমার্স: অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ

২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরুর কথা:
সময়টি সম্ভবত ২০০০ সাল। বাংলাদেশে প্রযুক্তির ইতিহাসে অন্যতম মাইল ফলক হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে মুনসীজী ডট কম(http://www.munshigi.com/) বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন শপ। সে সময় বাংলাদেশের মানুষ ইকমার্স কি জিনিস তা বুঝা তো দূরের কথা ইন্টারনেটের নামই অনেকে শুনে নাই। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্ডার-পেমেন্ট করে বাজার করা যায় এটি শুনে অনেকেই চোখ কপালে তুলেছে। সময়ের অনেক আগেই কাজ শুরু করলে যা হয়, বাংলাদেশকে ইকমার্স যুগে প্রবেশ করিয়ে নিজেরা হারিয়ে যায় মাত্র অল্প কিছুদিনের মধ্যেই। কিন্তু তাদের হাত ধরে যে ইকমার্স বিজনেস বাংলাদেশে শুরু হয়, তা দিনে দিনে বিশাল থেকে বিশালতর হয়ে উঠেছে।


দুরুত্বের ব্যবধান ঘুচে ইকমার্সে:
মুনসীজি ডট কম এর দেখানো পথে একে একে অনেকেই ইকমার্সে আসেন। তাদের মধ্যে দেশী গ্রিটিংস(http://www.deshigreetings.com/) হোমভিউবাংলাদেশ ইবাজার(http://www.hvbbebazaar.com/ এখন বন্ধ) তাজাবাজার(http://www.tazabazar.com/) ইত্যাদি অন্যতম। এছাড়াও পরে চালু হয় আরফি গিফট, উপহারবিডি, হাটবাজার, দেশীমেগাশপ, আধুলি ডট কম(http://www.adhuli.com/), মুক্তবাজার ডট কম (http://www.muktobazaar.com/) রাজশাহী বাজার (http://www.rajshahibazaar.com/)সহ আরো অনেকে। এই সকল সাইটের টার্গেট কাস্টোমার হলেন সেইসকল বাংলাদেশী যারা বিদেশে থাকেন এবং বিভিন্ন উৎসবে বা প্রয়োজনে গিফট বা সাধারন বাজার দেশের মধ্যে কোনো আত্নীয়/বন্ধুকে পাঠাতে চান। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টুচেকআউট বা পেপ‌্যাল হয়ে টাকা পেমেন্ট হতো। বাংলাদেশ থেকে কেনার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না কেননা বাংলাদেশের কারো পেপ‌্যাল ছিলো না, আবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড ও ছিলো না। ফলে দেশের বাইরে যারা ছিলেন শুধুমাত্র তারাই এসকল সাইটের মুল ক্রেতা ছিলেন, আর উপহার/পন্য গ্রহীতা ছিলেন বাংলাদেশে বসবাসকারী কেউ।

স্থানীয়দের অনলাইনে কেনাকাটার জন্য নিজস্ব ডেবিটকার্ডের প্রচলন করে হোমভিউবাংলাদেশ এবং এর কিছু পরে ক্লিকবিডি(http://www.clickbd.com/)। বাজার করতে চাইলে কার্ড সংগ্রহ করে কার্ড রিচার্জ করে সেই টাকা বাজার করা কিছুটা বিলাসিতাই ছিলো। তাই এই সিস্টেমটি তেমন জনপ্রিয়তা পায় নাই।



ইকর্মার্সের আধুনিক যুগ:
বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে যে ইকর্মাসের জোয়ার চলছে তার শুরুটা বলতে গেলে এসএসএল কমার্স(https://www.sslcommerz.com.bd) এর হাত ধরে। ডাচ-বাংলা ব্র্যক ব্যাংক ইত্যাদি ব্যাংক সহ অনেক ব্যাংককেই একটি গেটওয়েতে নিয়ে আসার ক্রেডিট তাদের। এরফলে লোকাল ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিটকার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট অনেক সহজ হয়ে যায়।


bKash এর বিকাশ:
বিকাশ সিস্টেমে মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন সিস্টেমটি চালু হবার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে যায়। ফলে বর্তমান সময়ের অনেক ইকমাস সাইটই বিকাশ সিস্টেমটি গ্রহন করে ক্রেতার থেকে পেমেন্ট নিয়ে থাকেন।



ক্যাশ অন ডেলিভারী:
পন্য হাতে পেয়ে ডেলিভারীম্যানের হাতে ক্যাশ টাকা প্রদানকে আর যাইহোক ইকমার্স বলে না। তবে অবশ্যই তা অনলাইন বিজনেসের একটি অংশ। ইকমার্স শব্দটি ব্যবহার করতে হলে আপনাকে টাকার লেনদেনটি অবশ্যই ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতেই হতে হবে। ক্যাশ লেনদেন করলে হবে না।



নিয়ন্ত্রিত হবে জায়ান্টদের দ্বারা:
বাংলাদেশে আগামি দিনের ইকমার্স বিজনেসটি মুলত প্রধান নিয়ন্ত্রক হবে বিদেশী বড় বড় কোম্পানীগুলো। তারা বিগ বাজেটের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে স্বল্প খরচেই পন্য ক্রেতাদের হাতে দিবে যা স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ইকমার্সগুলোর পক্ষে সম্ভব হবে না। ফলে বাংলাদেশের ইকমার্সের জীয়নকাঠি থাকবে তাদের হাতে। যেমন বিক্রয় ডট কম(http://bikroy.com/) বা দারাজ ডট কম ডট বিডি(http://www.daraz.com.bd/) এমন কিছু প্রতিষ্ঠানই মুল চালকের ভুমিকাতে থাকবে। এদের বিগ বাজেটের মার্কেটিং এবং বিগ ভলিউম সেল এর কারনে কম দামে ক্রেতাকে পন্য দিতে তারাই পারবে।


পরিশেষে:
রাজনীতিতে শেষ বলে যেমন কিছু নেই, বিজনেসেও সুনিয়ন্ত্রিত প্রচেষ্টার সাথে একটু ভাগ্যের সুদৃষ্টি বদলে দিতে পারে অনেক কিছু। কাজেই লেগে থাকতে হবে। মাথায় রাখতে হবে "কাস্টোমারের সন্তুষ্টিই সর্বপ্রথম"। আশা করি তাহলে কারোর প্রচেষ্টাই বিফলে যাবে না।





আবু সাঈদ মাহমুদ হাসান
(২০০৩ সালে সে সময়ের বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ইকমার্স প্রতিষ্ঠান হোমভিউবাংলাদেশে চাকুরীতে যোগদান করে সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন ইকমার্স প্রতিষ্ঠানে কাজের সুবাদে সঞ্চিত অভিজ্ঞতাই এখানে শেয়ার করা হয়েছে, আর কিছু নয়)

৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×