somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ ফরহাদ মিয়াজি ১
অপরাধ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছি পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে এবং ব্লগে টুকটাক লেখার চেষ্টা করছি।

Listening to grasshoppers: a field notes on democracy(ঘাস ফড়িংয়ের শব্দ শোনা যায়ঃ অ্যা ফিল্ড নোট'স অন ডেমক্রেচি) বই রিভিউ

১৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অরুন্ধতী রায়ের লেখা প্রথম বই "The God Of small things" পড়ে অনেক ভাল লেগেছিল।আর এই বইটি শেষ করার পর তো অন্য রকম এক অনুভুতি তৈরি হয়েছে লেখিকার প্রতি।সেই অনুভূতির মাঝ থেকে একটু প্রকাশ করতে চাচ্ছিঃ

"শেষ সীমানায় পা পরার পড়ে আমরা আর যাব কথায়?
শেষ আকাশে ডানা মেলার পরে পাখীরা আর উড়বে কোথায়?
বাতাসে শেষ বারের মত নিঃশ্বাস টানার পড়ে এই আরণ্যকুল যাবে কোথায়?
পৃথিবী যখন সীমিত হয়ে যায়।"

মাহমুদ দারবিশ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশ হচ্ছে ভারত।আমি এই কথাটিকে আংশিক সত্য বলে মনে করি।পুরু ভারতে আজকে সর্বত্র সমানভাবে গনতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান নয়।সারা ভারত আজ হিন্দুত্ববাদীদের নখদর্পণে।ভারতের শাসন ব্যবস্থা মুসলিমদের জন্য এক রকম আর হিন্দুদের জন্য অন্যরকম।"চীনারা যেমন খেলাধুলা পছন্দ করে বলে অলম্পিকের আয়োজন করেছিল,ভারত তেমনি গণতন্ত্র পছন্দ করে বলে নির্বাচনের আয়োজন করেছিল।দুটো ঘটনাই অনেক স্পন্সরদের আকর্ষণ করে,কারন দুটোইত টেলিভিশনে প্রদর্শন এর উপযোগী দর্শকগ্রাহী খেলা মাত্র"। পাঠ্যসূচীতে আজকে মিথ্যায় পরিপূর্ণ,মুসলিম বিদ্বেষী ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে।ছোট বেলা থেকেই তাদেরকে চরম মিথ্যা সাম্প্রদায়িক জ্ঞান চর্চা করানো হচ্ছে,ছোট ছোট বাচ্চাদের মাথায় মুসলিম বিদ্বেষী চিন্তার বীজ বপন করে দেওয়া হচ্ছে আর এর ফসল হিসাবে পরিণত বয়সে এক এক জন মুদী হয়ে উঠছে,এক এক জন আর আর এস কর্মী বনে যাচ্ছে।সংখ্যালঘুরা আজ শিক্ষা,চিকিৎসা,আইনের শাসন ও চাকরির অধিকারের মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিশেষ করে মুসলিমদেরকে ।পুরু ভারতজুড়ে চলছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম নিধন কর্মযজ্ঞ, এই নিধনযজ্ঞের বীজ কংগ্রেস গোপনে বপন করে গেছে আর এর ফসল বিজেপি মহাসমারোহে ঘরে তুলছে।নিধনযজ্ঞে বিজেপি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে আর কংগ্রেস পিছন থেকে আগুন জ্বালছে।বাহঃ কি চমৎকার!! সবাই মিলেমিশে মুসলিম নিধন কর্মসূচী এগিয়ে নিচ্ছে।

পুরু কাশ্মীরই হচ্ছে এখন কারাগার।কাশ্মীর উপত্যকা আজকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।কাশ্মীর উপত্যকা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সেনা অধ্যুষিত এলাকা এখানে প্রায় মিলিটারি এবং প্যারা মিলিটারির সংখ্যা ৭০০০০০ লাখের ও বেশি অর্থাৎ প্রতি ১৪ জনে একজন সেনাবাহিনী এছাড়া এখানে প্রায় ১২.৫ মিলিয়ন পুলিশ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০,০০০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে।

কারো জানার অধিকার নেই কেন তাকে গ্রেফতার করেছে!! কতদিন বিনাবিচারে কারাগারে থাকতে হবে সে টা জানে না!! সে জানে শুধু এটুকুই যে,কিছুক্ষণ পর তার উপর নেমে আসবে নির্যাতনের স্টিম রোলার। ভারতের সেনাবাহিনী বেছে বেছে ডাক্তার,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,বুদ্ধিজীবী এবং ছাত্রদের,তাদের বাড়ি থেকে উঠিয়ে গুম করে দেওয়া দেয় কিংবা হত্যা করে দেয় যেমনটা আমাদের দেশে ফাকিস্তান করেছিল ১৪ ডিসেম্বর,১৯৭১ সালে যাতে করে কাশ্মীর আর তার মাথাতুলে দাড়াতে না পারে, সুস্থ সবল দেহ নিয়ে আর এগুতে পারে,সর্বোপরি তারা তাদের স্বাধিকারের কথা ভুলে যায়। এই উপত্যকা থেকে মানবতা বিলীন হয়ে গেছে সেনাবাহিনীর বুটের নিচে পিষ্ট হয়ে।প্রতিদিন এখানে মা-বোনদেরকে ইজ্জলুণ্ঠন করা হয়,যুবকদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে নিরবিচারে হত্যা করা হয়,ছেলে বুড়ুদের উপর চলে পাশবিক নির্যাতন।কিন্তু কেউ জানে তার অপরাধ কি!!!!!

এখানেও প্রতিদিন একটি সূর্য উঠে নতুন স্বপ্ন নিয়ে কিন্তু সেই স্বপ্ন প্রভাতেই ডুবে যায়,যখন তাদের উর্বর ফসলের জমিকে ধ্বংস করে দিয়ে সেখানে সেনাছাউনি বানানো হয়......তখনি তাদের স্বপ্নগুলো নিবে যায়,যখন তাদের ঘর বাড়ি গুলোকে ঐ নির্লজ্জ বেহায়া নিষ্ঠুর সেনাবাহিনী এসে বুলড্রেজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়ে যায়.........তখনি তাদের স্বপ্নগুলো মরে যায়,যখন তাদের কর্মক্ষম পরুষগুলোকে বাড়ি ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ওই পাপিষ্ঠ জানোয়ারগুলো...............তখনি তাদের স্বপ্নগুলো উবে যায়,যখন পবিত্রতার প্রতীক নারী তার প্রিয়তমার প্রতি এবং পুষ্পসম শিশুগুলি তাদের বাবার ফিরার পথটির পানে চেয়ে থাকে কিন্তু আর ফিরা হয় না...........................

"যুগ যুগ ধরে কাশ্মীরের মানুষ দখলদার বাহিনীর অধীনে বসবাস করে আসছে, যেখানে সৈন্যরা যেকোনো সময় যার-তার ঘরে অনুপ্রবেশ করতে পারে,তাদেরকে কোন কারন ছাড়া যেকোনো সময় গ্রেফতার করতে পারে এবং বিনা বিচারে তাদের উপর বর্বরোচিত এবং কাপুরুষচিত নির্যাতন চালাতে পারে,যখন খুশি যেভাবে খুশি কাশ্মীরের মা বোনদের ধর্ষণ করার মেন্ডেট ভারতের সংবিধান তাদেরকে দিয়েছে!!!!!!!!!!!!!!!!!!"

ভারত সরকার তার নিজস্ব পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকগুলি জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে যেগুলো কাশ্মীরকে অস্থিতিশীল করে রাখে,আর এই আজুহাতে কাশ্মিরে ভারতের সেনাবাহিনী নিরীহ স্বাধীনতাকামী মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে দাবিয়ে রাখতে চাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:৩৯
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×