somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেগম রোকেয়া : বাঙালির চিন্তা-চেতনায় উৎকর্ষতা

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বেগম রোকেয়া : বাঙালির চিন্তা-চেতনায় উৎকর্ষতা
মোহাম্মদ মাসুদ

“আমরা সমাজেরই অর্ধঅঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিরূপে? কোন ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়ে রাখিলে, সে খোঁড়াইয়া খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? পুরুষদের স্বার্থ এবং আমাদের স্বার্থ ভিন্ন নহে-একই ”। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা এভাবেই উচ্চারিত করেন নারীসমাজের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) তাঁর ‘স্ত্রী জাতির অবনতি’ প্রবন্ধে। আজ ৯ ডিসেম্বর। রোকেয়া দিবস। ১৮৮০ সালের এই দিনে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ও রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানীর কোল জুড়ে পৃথিবীর আলো দেখেন নারী জাগরণেরর পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া।
তিনি বুঝার পর থেকেই অনুমান করেন পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর অবস্থান কোথায় এবং তা কতটা অসম্মানবোধের। সে সময় নারীরা পর্দা-প্রথার আইনে ছিল আবদ্ধ; চারদেয়াল বা চার বেষ্টনীর মধ্যে। নারীদের পুরুষদের সাথে কথাবলার মধ্যেও ছিল সীমাবদ্ধতা। বাড়ির বাইরে অবাধ বিচরণে ছিল নিষেধাজ্ঞা। শিক্ষার ক্ষেত্রে- পাঠশালা বলতে ছিল বাড়ির আঙ্গিনাই; সেখানেও ছিল সীমাবদ্ধতার দেয়াল। বাড়িতেই নারীদের আরবি শিক্ষা শিক্ষিত করা হতো। আর সর্বোচ্চ উর্দু বা ফারসি ভাষা শেখানো হতো। অন্যদিকে একজন পুরুষ পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সর্বক্ষেত্র থেকেই সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করে। এটা অবশ্য পুরুষশাসিত সমাজ বলেই সম্ভবপর ছিল। তিনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুভব করেন এভাবেই- “যে পর্যন্ত পুরুষগণ শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে স্ত্রীলোকদিগকে তাহাদের প্রাপ্য অধিকার দিতে স্বীকৃত না হয়, সে পর্যন্ত তাহারা স্ত্রীলোকদিগকে শিক্ষাও দিবে না। যাহারা নিজের সমাজকে উদ্ধার করিতে পারিতেছে না, তাহারা আর দেশোদ্ধার কিরূপে করিবে? ”(তথ্যসূত্র: মোস্তফা মীর, সম্পাদিত, বেগম রোকেয়া রচনাবলী, তৃতীয় মুদ্রণ, ফেব্রুয়ারি ২০১০, বর্ণায়ন, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০, পৃ-২০৮)
বেগম রোকেয়া বৃহৎ জাতির এই অসঙ্গতির বিরুদ্ধে হাতে তুলে নেন কলম। একটি উন্নত জাতি গঠনে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ জরুরি; তা না হলে অসম্ভব। তিনি তাঁর ‘স্ত্রী জাতির অবনতি’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, “পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয়, তাহাই করিব। যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে হাহাই করিব। আবশ্যক হইলে আমরা লেডীকেরাণী হইতে আরম্ভ করিয়া লেডীম্যাজিস্ট্রেট, লেডীব্যারিস্টার, লেডীজজ-সবই হইব! ” বেগম রোকেয়ার স্ত্রী জাতির স্বাধীনতা অর্জনে এই বলিষ্ঠ কণ্ঠই আজ নারীদের রাষ্ট্রের সম্মানিত চূড়া থেকে এভারেস্টেরর চূড়ায় নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তবে এটাও সত্য- এসমাজেই আবার তনু, রাইশা ও খাদিজার মতো অনেক বালিকাকে হারিয়ে যেতে হয় পুরুষশাসিত সমাজেরই দাপটে।
স্ত্রী জাতির উন্নয়ন আজ আমাদের চোখে পড়লেও তা প্রকৃত পক্ষে কতটুকু, সবাই সেটা অনুমান করতে পারি। আজ যতটুকু উন্নয়ন বাহিরের দিক থেকে হচ্ছে তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন মনের দিক থেকে হওয়ার। এই একটি জায়গায় যদি বাঙালি নিজেদের চিন্তা-চেতনায় উৎকর্ষসাধন করতে পারে; তবেই বাঙালি প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নের কাঠগড়ায় পৌঁছতে পারবে। আর অন্যথায় সব ম্লান হবে এটাই স্বাভাবিক। বেগম রোকেয়া প্রকৃতপক্ষে নারীদের স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা চেয়েছেন বাঙালি জাতির চিন্তা-চেতনার উৎকর্ষতার জায়গা থেকেই; এটাই ছিল তাঁর লেখনী শক্তির মূল উপজীব্য দিক।

লেখক : কলামিস্ট।

[বি.দ্র: এসএনএন২৪.কম-এ প্রকাশিত। লিংক: http://www.snn24.com/sn-4425]
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সুখ

লিখেছেন সামিয়া, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে সুমনের, জিপিএ ৫ পেয়েছে জানার পর পুরো দিনটিই বদলে গিয়েছে ওর আনন্দে।যেন পৃথিবীর সব খুশির দরজা একসঙ্গে খুলে গেছে ওর জীবনে।
ছেলেটা ওর বাবা মায়ের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×