somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মহিউদ্দিন হায়দার
"জীবন শেখায়, আমি লিখে রাখি। গল্প অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এটাই আমার ছোট্ট জগৎ" গতানুগতিক সাধারণ মানুষ

রামিসার রক্তের উপর চেতনা আর ধর্মের ব্যবসা

২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শিশু রামিসার ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের বুক খালি করে দেয়নি, পুরো সমাজের বিবেককে রক্তাক্ত করেছে। একটি শিশু, যে পৃথিবীটাকে চিনতেই শিখছিল, তাকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে মানুষের ভেতরের মনুষ্যত্ব কতটা পচে গেছে। ভয়ঙ্কর সত্য হলো, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাষ্ট্রজুড়ে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক বিকার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মাদক, পর্নোগ্রাফি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভাঙন মিলেই তৈরি করেছে এই ভয়ংকর বাস্তবতা।

শুধু সরকারকে গালি দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কারণ এই পচন পুরো সিস্টেমের। পরিবার থেকে রাজনীতি, শিক্ষা থেকে সংস্কৃতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক সংগঠন, সর্বত্র এক ধরনের নৈতিক দ্বিচারিতা ঢুকে গেছে। আমরা এমন এক সমাজে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শিশুর কান্নাও এখন কারও কারও কাছে রাজনৈতিক পুঁজি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার পরিবারের পাশে গিয়ে যে মানবিক অবস্থান নিয়েছেন, অন্তত রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে সেটি দায়িত্বশীলতার পরিচয়। তিনি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, সমবেদনা জানিয়েছেন, বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলেছেন। তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ যে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার নয় বরং বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এই ঘটনার পর আরেকটি ভয়ংকর চেহারা সামনে এসেছে। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী, কিছু তথাকথিত “চেতনা মঞ্চ”, কিছু ধর্মব্যবসায়ী, কিছু ইউটিউব বিপ্লবী রামিসার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের দোকান খুলে বসেছে। কেউ ১০ জন মানুষ নিয়ে ব্যানার হাতে মিছিল করে ফেসবুক লাইভে বিপ্লব বিক্রি করছে, কেউ শিশুটির লাশকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র হিসেবে, আবার কেউ শরীয়া আইনের নাম করে মানুষের আবেগকে ব্যবসার পণ্যে পরিণত করছে।

সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো, এদের অনেকেরই লক্ষ্য রামিসার বিচার নয়। লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের ক্ষোভকে ক্যাশ করা। মানুষের কান্নাকে ব্যবহার করে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানো। কেউ ভোটের হিসাব করছে, কেউ সংগঠনের সদস্য বাড়াচ্ছে, কেউ ভিউ আর ফলোয়ার বাড়াচ্ছে, কেউ ধর্মের বাজার গরম করছে। রামিসা যেন আর মানুষ নেই, হয়ে গেছে একটি “ট্রেন্ডিং টপিক”।

যারা আজ সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছে, তাদের অনেককেই অতীতে শিশু নির্যাতন, নারী নিপীড়ন, মাদকের বিস্তার, সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কখনও ধারাবাহিক অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। কারণ সমস্যা সমাধান হলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। সমাজে আগুন জ্বলতে থাকলেই তারা নিজেদের রাজনৈতিক রুটি সেঁকতে পারে।

বাস্তবতা হলো, শুধু কঠোর শাস্তি দিলেই হবে না। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিশু সুরক্ষা আইন কার্যকর করতে হবে। ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা ফিরিয়ে আনতে হবে। পর্নোগ্রাফি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে। রাজনৈতিক মঞ্চ, ধর্মীয় মঞ্চ, সামাজিক সংগঠন, মিডিয়া সবাইকে দায় নিতে হবে।

আর সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর রক্ত দিয়ে রাজনীতি, ব্যবসা আর চেতনার বেচাকেনা বন্ধ করতে হবে। এই ব্যবসায়ীরা বিচার কে,সামাজিক সচেতনতা কে বিভিন্ন চেতনার নামে শরীয়ার নামে বাধাগ্রস্ত করে।

কারণ রামিসা কোনো স্লোগান নয়। রামিসা কোনো ব্যানার নয়। রামিসা কোনো রাজনৈতিক বিনিয়োগ নয়। রামিসা এই রাষ্ট্রের বিবেকের সামনে ছুঁড়ে দেওয়া এক ভয়ংকর প্রশ্ন।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরেকটা পদ্মা সেতু না বানিয়ে দেশ উন্নয়নের নিনজা টেকনিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৫




আগে জানতাম উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ লাগে, চাহিদা অনুযায়ী শিল্প গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় - তারপর দেশের উন্নতি হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতা ২.০-এ এসে উন্নয়নের সংজ্ঞাই পাল্টে গেছে।

এখন উন্নয়নের নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×