somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বানিয়েছি বর্তমানে আমার সেরা ওয়ানডে ক্রিকেট একাদশ! আপনার একাদশ কি ?

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১। ক্রিস্টোফার হ্যানরীঃ নাম শুনে চমকে উঠেছেন নিশ্চয়ই!উনি গেইল। ক্রিস গেইল। বিধবংসী ব্যাটিং এর আরেক নাম। যদিও ধারাবাহিক না এত টা কিন্তু যেকোনো দল এবং বোলারের মনোবল নষ্ট করার জন্য গেইল ৫ ওভার ক্রিজে থাকা ই যথেষ্ট! হেলায় ফেলায় বোলার কে কিভাবে বেড়ধক পেটানো যায় তা গেইল এর ব্যাটিং না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না। আদি এবং পৈশাচিক আনন্দ পেতে গেইল এর ব্যাটিং অত্যন্ত উপাদেয়। উত্তেজনা সঞ্চারি; আনন্দ বিস্তারি এক বদ্ধ উন্মাদ!!



২। হাশিম আমলাঃ গেইল যদি হয় পৈচাশিক আনন্দদায়ী ব্যাটিংয়ের আরেক নাম, আমলা হচ্ছেন ধারাবাহিক আর শিল্পিত ব্যাটিংয়ের প্রতিশব্দ। ক্রিকেট বিশ্বে তার মতন ধারাবাহিক ব্যাটিং আগে কেউ করেনি। ধৈর্য্যের সাথে প্রতিপক্ষ বোলিং কে সামলিয়ে নিজের মত করে রান বের করে নেয়া আর কিভাবে যেনো সেঞ্চুরী করে ফেলা তার কাছে ডাল/ভাত হয়ে গেছে। খুশি মনে অন্যদের হার্ড হিটিং দেখতে দেখতে কখন জানি দেখবেন ‘আমলা’ আরেকবার ব্যাট উপরে তুলে সেঞ্চুরী উদযাপন করছেন, টের ই পাবেন না!!



৩। ব্রেন্ডন ম্যাককুলামঃ তিন নাম্বারে আমার বাজি ম্যাককুলামে! মাত্র ৫ ওভার! বিপক্ষ দল কে পুরা সুনামি’র স্বাদ পাইয়ে দিতে পারেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। গেইল যদি শুরুর দিকে আউট হয়ে যায়, তাইলে দর্শকদের গেইল হতাশা নিমিষেই ভুলিয়ে দিতে পারবে তিন নাম্বার এ নেমে আর যদি হাশিম আমলা আউট হন—একবার ভাবুন, বিশ্বের সেরা দুই হার্ড হিটিং ব্যাটসম্যান একসাথে ব্যাট করছেন! উফ, জিভে জল আনা অবস্থা পুরাই!



৪। কেইন উইলিয়ামসনঃ মাষ্টার ব্যাটসম্যান। ক্লাস আর ধারাবাহিকতার এক অনন্য সংমিশ্রণ। তার ব্যাটিং দেখলে ডি সিলভা কে মনে পড়ে খুব করে। আগামি এক দশক ক্রিকেট বিশ্বের শৈল্পিক ব্যাটিংয়ের অগ্রভাগেই থাকবে সে। ৪ নাম্বারে আমার পছন্দ ছিলো ভিরাট কোহলি কিন্তু উইলিয়ামসনের সাম্প্রতিক ফর্ম কোহলি কে সরিয়ে তাকে রাখতে বাধ্য করেছে আমাকে।



৫। এবিডি ভিলিয়ার্সঃ বিশ্বের সেরা ভার্সেটাইল ক্রিকেটার। একাধারে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা ফিল্ডার। কিপিংও অনেক ভাল প্লাস নতুন যোগ হয়েছে বোলিং!! উদ্ভাবনী ব্যাটিং এ সবার চোখ কে চড়কগাছে উঠাতে উনার জুড়ি নাই। তার জায়গা ৪ নাম্বার এ হতে পারত, কিন্তু নিখুঁত ফিনিশিং, মাষ্টার স্লগিং এর কারণে আমি তাকে পাঁচ নাম্বারেই রাখবো!



৬। সাকিব আল হাসানঃ বাংলাদেশের জান, সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বরপুত্র। খেলা চালিয়ে যাবেন আরো অনেক দিন তা ও নিঃসন্দেহে বলে দেয়া যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সত্যিকারের লিজেন্ড এর নাম সাকিব! অসাধারণ আঁটসাঁট বোলিং আর সময়োপোযোগি ব্যাটিং এর জন্য বিশ্বের যেকোন দল তাকে পেতে চাইবে। তাই আমার দলেও সে আছে ৬ নাম্বার ব্যাটসম্যান এবং কমপক্ষে আট ওভার নিঃসংকোচে বোলিং করানোর অস্ত্র হিসেবে।



৭। গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েলঃ তাকে ডাকা হয় অষ্ট্রেলিয়ার ‘গোল্ডেন বয়’ নামে। নামের সার্থকতা প্রমাণ করে চলেছেন অনেক দিন ধরেই। ৩৫ ওভারের পর তারমতো একজন কে ব্যাটিং এ পাওয়া যেকোন দলের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। সাথে আছে তার কার্যকর বোলিং আর দুর্দমনীয় ফিল্ডিং!



৮। মিশেল স্টার্কঃ ফাস্ট বোলার দের আকালের এই যুগে মিশেল স্টার্ক হয়ে এসেছেন আশির্বাদরূপে। অচিরেই ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন ! ৪৫ ম্যাচে ৮৯ উইকেট নিয়ে সব চেয়ে কম ম্যাচে ১০০ উইকেটের বিশ্বরেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে গত বিশ্বকাপের এই সেরা তারকা!




৯। ডেইল স্ট্যাইনঃ ‘স্ট্যাইন গান’ নামেই বেশি পরিচিত এই আগ্রাসি ফাস্ট বোলারের। দুর্দান্ত গতির সাথে ইনসুইং-আউটসুইং দুটোতেই পারদর্শিতা তাকে অন্য ফাস্ট বোলার দের থেকে আলাদা করেছে!



১০। ট্রেন্ট বোল্টঃ গত বিশ্বকাপ যারা দেখেছেন তাদের জন্য বোল্ট আর অচেনা নাম নন। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটধারী এই বোলার অসম্ভবরকম লাইন লেংথ বজায় রেখে বল করে যেতে পারেন পুরো ১০ ওভার। গতির সাথে লাইন লেংথ, আর কি চাই!




১১। সুনীল নারায়ণঃ রিয়েল ক্লাস! অসাধারণ একজন স্পিনার। ইমরান তাহির কে রাখবো বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু আমার দলে একজন লেগস্পিনার এর চাইতে ওয়ানডে টিমে অফস্পিনার কেই বেছে নিলাম। ইকোনোমি রেট দেখলে যে কারোরই ভয় ধরে যাবে, উইকেট টেকিং এবিলিটি চরম মাত্রার। অসম্ভব চতুর আর ভেরিয়েশন।



সুপার সাবঃ বিরাট কোহলি, সৌম্য সরকার, এঞ্জেলো মেথুস

ওয়ানডে টিমঃ

১। গেইল
২। আমলা
৩। ম্যাককুলাম
৪। উইলিয়ামসন
৫। ভিলিয়ার্স
৬।সাকিব
৭।ম্যাক্সওয়েল
৮।স্টার্ক
৯।স্টেইন
১০।বোল্ট
১১।সুনীল নারায়ণ

অতিরিক্তঃ কোহলি, সৌম্য, ম্যাথুস
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×