সিগারেটের ধোঁয়ায় ভরে আছে সারা ঘর। এটা মেসের একটা কক্ষ-দুপাশে দু দেয়ালের পাশের মেঝেতে দুটো বিছানা পাতা-মালিক চারজন। সন্ধ্যার পর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত অবশ্য আরো অনেকের কাছে মালিকানা বদল হয়। এ মুহুর্তে এ দুটো ব্রিজ খেলোয়াড় দের দখলে। মেঝেতে পুরোনো পেপার, ছেড়া খাম, মলিন ডিকশনারী, পাতা উল্টানো বিসিএস গাইড ও কবিতার বই মিশে আছে যত্রতত্র ফেলে রাখা সিগারেটের টুকরার সঙ্গে। একপাশে বইএর শেলফ্-বইগুলোর বেশিরভাগই স্থানচু্ত, কোনটা আবার গড়াগড়ি খায় মেঝেতে। শেলফের উপর ছোট্ট একটা কালার টিভি। লোডশেডিং এর সময় ছাড়া ওটা বন্ধ থাকতে দেখেনি কেউ- সারাক্ষন চলছে কোন না কোন চ্যানেল; দেখার মানুষ ও খুব একটা নেই-খেলা পাগল মাহমুদ আর হিন্দি গানের ভক্ত রহমানের মধ্যেই বলতে গেলে সীমাবদ্ধ, মাঝে মাঝে বিবিসির খবর শুনার জন্য বাগড়া দেয় সরোয়ার। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা হলে অবশ্য হই হই করে দেখে সবাই। এখন আপাতত মাহমুদের দখলে, পরম ধৈর্য্য নিয়ে দেখছে ঘুম পাড়ানি ধারা ভাষ্যে উত্তেজনাহীন টেস্ট ক্রিকেট। ওদিকে আরেকদল খেলছেও না টিভি ও দেখছেনা-চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছে রাজনীতির-কোন একটা চ্যানেলে টকশো বলে চালিয়ে দেয়া যাবে; ইতিমধ্যে তারা দুদলে বিভক্ত -দু্'একজন উচ্চকন্ঠ তার্কিত দু দলে, বাকিরা বেশিরভাগই কবিগানের দোয়ারের মত, চান্স পেলে ধুয়ো দেয়-রীতিমত গরম করে রেখেছে আড্ডার আসর। এক কোনে বসে বাপ্পি যে ছেড়া কাগজটা মনোযোগ দিয়ে দেখছে সেটাকে সকালবেলা এলে আজকের পত্রিকা বলে চেনা যেত। এটা যেন একটা মিনি বাংলাদেশ-কোন কাজ নেই, ভাবনা নেই; সময় যেন এখানে, এই ঘরে বাংলাদেশের মতই স্থির হয়ে আছে যার চারপাশে ঘিরে আছে সিগারেটের ধোঁয়ার মত অনিশ্চয়তার চাদর।
..........................
ভাল লাগলে বাকিটা .............................................. লিখব।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


