আবারও শুরু হয়েছে নিপা ভাইরাসের প্রকোপ। এবার নিপা ভাইরাস শুরু হয়েছে রাজশাহী ও জয়পুরহাট যেলায়।জানিনা আমার এলাকার অবস্থা এখন কেমন।
কালের কণ্ঠ পত্রিকায় দেখলাম, জয়পুরহাটে ইতিমধ্যে ৪ জন মারা গেছে। এদের সবাই শিশু।ধারনা করা হচ্ছে এরা সবাই খেজুরের রস খেয়েছিল। এরা হল-শাকিলা বেগম (৯), মরিয়ম (৭),তৌহিদুল ইসলাম (৮) ও অনিক(৭)।
মরিয়ম ও তৌহিদুল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা গেছে। কয়েক দিন চিকিৎসার পরও শাকিলার জ্বর ভালো না হওয়ায় শনিবার তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় সে মারা যায়। একই হাসপাতালে আগের দিন শুক্রবার মারা যায় অনিক।
এদিকে একই রকম উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বামনডাঙ্গা এলাকার মামুনুর রশিদ নামে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্র রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে মামুনের অবস্থা অনেকটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারপরও তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঢাকার রোগতত্ত্ব ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল বগুড়া, রাজশাহী ও জয়পুরহাটে পাঠানো হয়েছে। রক্তের নমুনা পরীক্ষার পর বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে যে, এটি নিপা ভাইরাস কি না। তিনি পরামর্শ দেন, 'এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে নাক-মুখ ঢেকে পরিচর্যার পর হাত-মুখ সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কোনোক্রমেই খেজুরের রস পান করা যাবে না। ফলমূল খাওয়ার আগে অবশ্যই তা ধুয়ে পরিষ্কার করে খেতে হবে। পাকিতে খাওয়া ফলমূল খাওয়া যাবে না।'
রামেক হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শিরাজী নাজমুল হাসনাইন বলেন, 'আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, মৃত দুই শিশু মরিয়ম ও তৌহিদুলের মতো চিকিৎসাধীন মামুনও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ ভাইরাসের এখনো কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অন্য ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের মতোই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।'
আক্রান্তদের রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা ঢাকায় নিয়ে গেছে আইসিডিডিআর-বি'র একটি প্রতিনিধিদল। শনিবার সন্ধ্যায় তারা রামেক হাসপাতালে এসে নমুনা সংগ্রহ করে। ওই নমুনা ঢাকা থেকে আবার আমেরিকায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওই তিন শিশু নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল কি না তা বলা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. আলী নওরোজ। তিনি বলেন, 'আক্রান্ত শিশুদের প্রাথমিক লক্ষণ দেখে আমরা অনেকটাই নিশ্চিত যে, তারা নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। তবে নমুনা পরীক্ষার আগে এখনই আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছি না, আসলেই তারা এ ভাইরাসে না অন্য কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল।
হাসপাতাল ও মৃত শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট পৌর এলাকার সরদারপাড়ার জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে মরিয়ম গত শুক্রবার প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই দিনই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার গভীর রাতে মরিয়ম মারা যায়। মরিয়মের মা আলম আরা বেগম জানান, ১০-১২ দিন আগে খেজুরের রস খাওয়ার পর সে জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর তাকে স্থানীয়ভাবে নানা রকম চিকিৎসার পর গত ২০ জানুয়ারি রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সদর উপজেলার চকদাদড়া গ্রামের শিশু তৌহিদুলকে একই রোগের কারণে জয়পুরহাট হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় শুক্রবার রাতে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তৌহিদুল গতকাল রবিবার সকাল ৮টায় মারা যায় বলে তার মামা বেলাল হোসেন জানান। তৌহিদুলের মা নাসিমা বেগম জানান, তাঁর ছেলেও গত ১০-১২ দিন আগে খেজুরের রস পান করে জ্বরে আক্রান্ত হয়।
এদিকে ক্ষেতলাল উপজেলার ইকরগারা গ্রামের রফিকুল ইসলামের শিশুকন্যা শাকিলা ১০ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। গত বৃহস্পতিবার তাকে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে একদিন অবস্থান করার পর শুক্রবার বিকেলে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও তার অবস্থার পরিবর্তন না ঘটায় বাবা রফিকুল ইসলাম শনিবার সকালে তাকে ক্ষেতলালের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। সন্ধ্যায় সে মারা যায়।
শাকিলার চাচা শফিকুল ইসলাম বলেন, '১৫ দিন আগে বাড়িতে খেজুরের রস খাওয়ার পাঁচ দিন পর শাকিলা জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর জ্বর ভালো না হলে প্রথমে জয়পুরহাট হাসপাতাল এবং পরে শজিমেক হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হলে চিকিৎসকরা জানান, শাকিলা সম্ভবত নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কাজেই এ রোগের কোনো চিকিৎসা এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। তখন অনেকটা নিরুপায় হয়ে শনিবার সকালে শাকিলাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি এবং সন্ধ্যায় সে মারা যায়।
গত শুক্রবার ভোরে জয়পুরহাট পৌর সদরের সরদারপাড়ার মরিয়মের চাচাতো ভাই অনিক একই রোগে শজিমেক হাসপাতালে মারা যায়।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন বাঘার মামুনের মা সেলিনা বেগম বলেন, '১২-১৩ দিন ধরে মামুন জ্বরে ভুগছে। ২০ জানুয়ারি বিকেলে তাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আগে মামুন খেজুরের রস খেয়েছিল।'
জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন জানান, গত তিন দিনে জয়পুরহাটে চার শিশু মারা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে একটি তদন্ত দল মাঠে কাজ করছে। তিনি বলেন, 'মারা যাওয়া শিশুরা ইনকেফালাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এ রোগটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। কাজেই পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এটা যে নিপা ভাইরাস তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তিনি এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
রামেক হাসপাতালের ডা. শিরাজী নাজমুল হাসনাইন বলেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ হলো_শরীরে জ্বর হওয়ার পরে খিঁচুনি ও বমি হওয়া। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৮০ ভাগেরও বেশি। এ ভাইরাস রোগীর ব্রেনে গিয়ে আক্রমণ করে। এ জন্য রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। নিপা ভাইরাস এড়াতে হলে রস এবং জুস জাতীয় কোনো কিছু পানিতে না ফুটিয়ে পান করা যাবে না। এ ছাড়া পাখিতে অর্ধ খাওয়া ফলও খাওয়া যাবে না। এতেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। ভাইরাস আক্রান্তদের কাছে থাকতে হলে নাক-মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে।
তদন্ত দলের ডা. অপূর্ব চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁরা বগুড়া ও রাজশাহী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এ নমুনা ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করা হবে।
লক্ষ্য করে দেখুন যারা মারা গেছে তাদের সবাই কিন্তু শিশু।তাই আপনারা এখনই সচেতন হন।বাচ্চাদের কে খেজুরের রস দেয়ার তা অবশ্যই সাবধান থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



