আমার জন্ম রাজশাহী জেলার বাগমারা থানায়।আমার পরিবারে আমরা দুই ভাই,দুই বোন।আমি সবার ছোট।আমার বড় আমার ভাই, তার বড় আমার দুই বোন।আমার বাবা স্কুল শিক্ষক,মা গৃ্হিনি।
আমি ছোটবেলা থেকেই ছিলাম একরোখা আর প্রচণ্ড জেদি। যখন যা চাইতাম তখন তাই পাওয়ার জন্য জেদ করতাম। আমার এই জেদ ই পরবর্তী জীবনে আমার জন্য কাল হয়ে আসে। আমি মনে করতাম আমি একাই সব সময় সবচেয়ে বেশী আদর নিব আমার বাবা-মা'র কাছ থেকে। কোনকিছুর ভাগ আমার ক্ষেত্রে কোনভাবেই কম হওয়া যাবে না।
আমরা দেখি, একজন ছেলে হোক আর মেয়ে হোক সে হয় তার মাকে ভয় করে না হয় তার বাবা কে ভয় করে,কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম ছিল।
সত্যি বলতে কি আমি না আমার বাবাকে না মাকে, কাউকেই তেমন ভাবে ভয় করতাম না। আমার বাবার কোন কাজেও তেমনভাবে সাহায্য করতাম(ইচ্ছে হলে করতাম) না। এ নিয়ে আমার আম্মার সাথে আমার আব্বার কতদিন যে ঝগড়া হতে দেখেছি তার ইয়ত্তা নেই। কারন আমার আম্মা সবসময় আমার পক্ষ নিতেন।আমার আম্মা আমার সকল অপরাধের ত্রাণকর্তা ছিলেন। আমি জানি হয়ত সবার ক্ষেত্রেই মনেহয় তার মা তাকে অন্য সব ছেলেদের মায়ের থেকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসে; কিন্তু আমার মায়ের ভালবাসা আমার কাছে "বিশ্বসেরা" ।
শৈশব থেকেই আমি কিছুটা আলাদা ছিলাম অন্যদের থেকে।অন্য ছেলেদের মত আমার খুব বেশী ফুটবল, ক্রিকেট খেলতে ভাল লাগত না। আমার ছোটবেলায় একটা খেলার মেয়ে সাথী ছিল। তার নাম ছিল 'রিনা'।
আমি তার সাথে তার খেলা গুলোই বেশী খেলতাম। মানে মেয়েদের খেলাই খেলাতাম বেশি।এরপর দেখা যায় আমার মধ্যে কিছুটা মেয়েলি ভাব। এছাড়াও আমার বড় দুইবোন থাকায় তাদের দেখাদেখি অনুকরণ করতাম।
এ জন্য সবাই আমাকে ক্ষেপাতো। হয়ত তাই এরপর থেকে যত জায়গায় গেছি, আমি আমার সেই স্বভাব এখনও বদলাতে পারিনাই। এমন কি ভার্সিটি লাইফেও আমি এইটা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছি।
যা হোক আমি অন্যদের মত প্রাইমারি স্কুল শুরু করি। আমার প্রথম স্কুল লাইফে আমি খুবই খারাপ ছাত্র ছিলাম। এজন্য ক্লাস থ্রী তে আমার বাবা আমাকে দুই বছর রেখেছিলেন। সে সময় আমার মন খুব খারাপ হয়েছিল, অন্য ছেলেরা নতুন ক্লাসএ উঠল কিন্তু আমি পারলাম না। কিন্তু পরে আমার ভুল বুঝতে পেরেছিলাম। কারন পরের বছরই আমি ভাল রেজাল্ট ভাল করে ক্লাস ফোরে উঠলাম। রোল নম্বর হল ৩। সেই শুরু।
এরপর আর আমি পিছনে ফিরে দেখি নাই। ক্লাস ফাইভ থেকে পুরো স্কুল লাইফ আমি ছিলাম ফার্স্টবয় ।
এখন বুঝি, সে সময় আমার আব্বার সিদ্ধান্ত কতই না সঠিক ছিল। তা না হলে আজ আমি এ অবস্থানে আসতে পারতাম না। সেদিন ও আমার আম্মা আমার পক্ষ নিয়েছিল, সে দিন আম্মা জিতে গেলে হয়ত আমি সেই গর্দভ ছাত্রই রয়ে যেতাম। ধন্যবাদ বাবা তোমাকে। আমি তোমাকেও অনেক ভালোবাসি।
এরপর ক্লাস ফাইভে আমি বৃত্তি পাই। এতে করে আমার বাবার উৎসাহ বেড়ে যাই,উনি আমাকে শহরের স্কুলে পড়াতে চেয়ে ছিলেন। এজন্য শহরের স্কুলে পরীক্ষাও দিয়েছিলাম,কিন্তু চাঞ্চ পেলাম না।
এতে আমার পরিবারের সবার মন খারাপ হয়ে যায়। আমাকে ভর্তি করানো হল আমার পাশের গ্রামের স্কুলে।
নতুন স্কুল, নতুন পরিবেশ,নতুন সতীর্থ, নতুন শিক্ষক। যাহোক কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে যায়। আমি আমার পারফরমেন্স দিয়ে শিক্ষক ও আমার বন্ধুদের মন জয় করে নিই। আবার সেরা ছাত্র হলাম ।
চলবে.....।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



