somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধীর বিচার কতদূর?

০৮ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে সংশয় নয়।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ধৈর্য ধরারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বিচার হবেই। বর্তমান সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি। রাজাকার-আলবদরদের মতো অপরাধীদের রক্ষার প্রশ্নই অমূলক। তবে একই সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের জন্য দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের সুযোগ আপাতত নেই বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের গত ২৯ মে’র দেওয়া বক্তব্যের সমর্থন দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মন্ত্রী তো ঠিকই বলেছেন। আইনগতভাবে যেটা বাস্তব, সেটা বলেছেন।’ ফলে একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী জামায়াতের বিচার করা যায় না বলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পরই এ বিতর্ক ওঠে। মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জামায়াতের বিচারে সরকারের অবস্থান নিয়েও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ-কেউ বলছেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে জামায়াতের বিচার নিয়ে সরকারের রাজনীতি শুরু করার ইঙ্গিত রয়েছে। এই বিচার ঝুলিয়ে রেখে সরকার রাজনীতি করতে চায়। আবার কেউ-কেউ বলছেন, ফেনী ও নারায়ণগঞ্জের বিষয়টি থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে ফেরাতে সরকার জামায়াতের বিষয়টি সামনে টেনে আনছে। এসব তর্ক-বিতর্কের মধ্যে আমাদের দেশের ভয়ঙ্কর দানব জামায়াত-শিবিরের নৃশংসতার কথাই বারবার মনে আসছে। কারণ তাদের ইতিহাস কলঙ্কিত ইতিহাস; তাদের অতীত কলুষতায় পূর্ণ। ১৯৪৭ সালের পর থেকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামায়াত বারবার নিষিদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একে নিষিদ্ধ করেছিলেন।
আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও ইসলামি জামায়াত-শিবির। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় প্রদান করার সঙ্গে-সঙ্গে হরতাল ও নাশকতা সৃষ্টিতে মেতে ওঠে জামায়াত-শিবির। এমনকী জামায়াতের যে-কোনও অপরাধী নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর তারা হরতাল পালন করেছে একাধিক দিন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতনেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে গত বছর ৯ মে। তার আগে যাদের মৃত্যুদ-ের রায় পেয়েছি তারা সবাই জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াশীল, মৌলবাদী ও ক্যাডারভিত্তিক জামায়াত-শিবির সংগঠনের নেতাকর্মীরা যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের পর দেশের মধ্যে তা-ব চালিয়ে অনেক পুলিশসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। অথচ গোলাম আযম-নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদীর সমর্থক নতুন প্রজন্মদের এখনই জামায়াতের কবল থেকে বের হয়ে সুস্থ চিন্তায় নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। যারা এতদিন নেতা হিসেবে তাদের কর্তৃত্ব মেনে নিয়ে আদেশ পালন করে রগ কেটে, বোমা-গ্রেনেড মেরে মুক্তবুদ্ধির মানুষদের নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে তাদের এখন বুঝতে হবে এসব বড়-বড় অপরাধীর পেছনে নিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিয়ে দিনের পর দিন সময় নষ্ট করা বৃথা। তাদের সেই সব ধর্মপ্রাণ(?) নেতারা এখন জেলে, ফাঁসির অপেক্ষায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিশ্চই সমর্থকদের নজরে এসেছে। অপরাধগুলো ভয়াবহ। জামায়াতের নেতারা কখনও বাংলাদেশ চায়নি; তাই মুক্তিযুদ্ধের পরও তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এসব মানুষ পাকিস্তান ও ইসলামের নামে বাঙালি জাতিকে চিরতরে অন্ধকারে নিক্ষেপ করতে চেয়েছিল; তারা ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকা-ে সহযোগিতা, প্ররোচনা এবং অনেক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে একাত্তরের ৯ মাস আমাদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। আমাদের অকুতোভয় মুক্তিসেনাদের দৃঢ়তায় তাদের সব প্রচেষ্টাই ভেস্তে যায়। দেশ স্বাধীন হয়। আর দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই জামায়াত-শিবিররাও আজ নিজেদের শিক্ষিত করার সুযোগ পেয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছে। কেউ-কেউ নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জামায়াত নেতাদের পেছনের ইতিহাস সবার জানা দরকার। অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনের গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকেই দেশের মধ্যে গণহত্যা, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য আলবদরদের দায়ী করে বিচারের দাবি করা হয়। একই বছর ২৫ ডিসেম্বর বেগম সুফিয়া কামাল ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনসহ ৫২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার দাবি করেন। ২৮ ডিসেম্বর (১৯৭১) ১৩ জন লেখক শিল্পী ও আইনজীবীর যুক্ত বিবৃতিতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যায় যোগসাজশকারীদের খুঁজে বের করার আহ্বান ছিল। ১৯৭২ সালে কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে ঢাকা ‘শহরে বিক্ষোভ সভা ও মিছিল’ হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ ৫ জুন ১৯৭২ সালে ঘোষণা করেন- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। হত্যার তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগী ভূমিকা পালনকারী কথাসাহিত্যিক-চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান নিখোঁজ হলে দাবির আন্দোলন কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্ত দাবি করে ১৯৭২ সালের ৭ মার্চ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গ শহীদ মিনারে গণজমায়েত করেছিলেন এবং মিছিল করে বঙ্গভবনে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঘটনা তদন্তের নির্দেশ প্রদানের কথা জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলেও ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পুরো বাংলাদেশে ৩৭ হাজার ৪৭১ জন বাঙালি-বিহারি দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৭২ সালেই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদেশ জারি করা হয়েছিল। সে সময় ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ৭৫২ জন দোষী প্রমাণিত হয়, ২ হাজার ৯৬ জন ছাড়া পায়। তবে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বরের দালাল আইনে আটক কিছু ব্যক্তিকে বঙ্গবন্ধু সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর হন্তারক খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করে সাজাপ্রাপ্তসহ সবাইকে ক্ষমা ও খালাস করে দেন। জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৯০ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যৌক্তিক দাবি আবার উত্থাপিত হয়। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ জাহানারা ইমামকে সভাপতি করে ১২ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘গণআদালত’ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্মরণাতীতকালের বিশাল সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার সরকার গণআদালতের সঙ্গে জড়িত ২৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় জড়িয়ে দেয়; নাজেহাল করা হয় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ব্যক্তিবর্গকে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানবাদী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির যে তৎপরতা শুরু হয়েছিল তারই অনিবার্য ফল হচ্ছে বিএনপির মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান। রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় মৌলবাদী রাজনৈতিক সংগঠনের অপরাজনীতি শেকড় গেড়ে বসে। উল্লেখ্য, ক্ষমতা গ্রহণের পর জেনারেল জিয়া ১৯৭৬ সালে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি উন্মুক্ত করতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন (বিশেষ অধ্যাদেশ ৪ মে ১৯৭৬ এবং বাংলাদেশ সংবিধান, ৫ম সংশোধনী, ২২ এপ্রিল ১৯৭৭)। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের জামায়াতের অপরাজনীতি শুরু হয় এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের কতিপয় নেতা ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ সালে ঢাকায় সমবেত হয়ে পরিবর্তিত নাম ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’ ধারণ করে নতুনভাবে কর্মকা- শুরু করে। এদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের মতো বাংলাদেশকে পরিচালনা করা। এ লক্ষ্যে শিবির দেশের ছাত্র ও যুবসমাজের মধ্যে গভীরভাবে প্রবেশের পরিকল্পনা করে। ১৯৮০-এর দশকে আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধে আমেরিকা ও পাকিস্তান আফগানিস্তানকে সহায়তা করেছিল। সেই যুদ্ধে আফগানিস্তানের পক্ষে শিবিরের সদস্যসহ বেশ কিছু বাংলাদেশি যুদ্ধে অংশ নেয়। এরা পাকিস্তানে আইএসআইয়ের পক্ষে এবং আফগানিস্তানে তালেবানদের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে এদের মধ্যে কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি প্যালেস্টাইন ও চেচনিয়া যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল। এরা প্রায় সবাই বাংলাদেশে ফিরে আসে। এসব যুদ্ধ ফেরত সদস্যরাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আইএসআই-তালেবান ও আল কায়েদার স্থানীয় সদস্য হিসেবে এ দেশে আইএসআই-এলইটির (লস্কর-ই-তৈয়বা) এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করে। এভাবে আশির দশকের পর জামায়াতসহ মৌলবাদী সংগঠন ও তালেবানপন্থী গোষ্ঠী সংগঠিত হয়ে রাজনীতির আড়ালে ও ইসলামের নামে জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ বাংলাদেশকে মৌলবাদী ও তালেবান রাষ্ট্র বানানোর একই অভীষ্ট লক্ষ্যে কাজ আরম্ভ করে। ১৯৯১-এ জামায়াতের সমর্থনসহ বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর ১৯৯২ সালে জামায়াতের সহযোগিতায় ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ‘হরকাতুল জিহাদ’ আত্মপ্রকাশ করে প্রকাশ্যে জিহাদের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী সময়ে কথিত জিহাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামি শাসন চালুর অভিন্ন আদর্শে জামায়াত ও ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের কার্যক্রম গোপনে চলতে থাকে ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলেও। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে জঙ্গিবাদের বিস্ময়কর উত্থান বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দেয়। কারণ জোট প্রশাসন জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল। ২০০৪ সালে দেশব্যাপী বোমা বিস্ফোরণের কথা আমরা ভুলিনি। সে সময় বিদেশি পত্রিকা থেকে আমরা জেনেছিলাম, লাদেন এ দেশে এসেছিল। ২০০৪ সালে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে আল কায়েদা বা হামাসের সম্পর্ক খতিয়ে দেখার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জঙ্গিরা যে অধিকাংশই জামায়াতের সদস্য সে পরিচয় স্পষ্ট পাওয়া যায় তখন থেকেই।
যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারে ট্রাইব্যুনালের বর্তমান আইন কোনও বাধা নয়। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, বিএনপিনেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় হয়েছে। এসব রায়ের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে জামায়াতকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের বিচার করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করা হয়েছে। এর সূত্র ধরে তদন্ত সংস্থা জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। গত ২৭ মার্চ প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আমরা সবাই জানি, জামায়াত বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। সবার প্রত্যাশা- তারা যেন এ দেশে রাজনীতি করতে না পারে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩-এর ২০(২) ধারায় অপরাধী ব্যক্তির শাস্তি কী হবে, তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অপরাধী কোনও সংগঠনের শাস্তি কী হবে তা বলা নেই। তবে আইনে বলা আছে- অপরাধ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল যেরূপ মনে করে, সেরূপ শাস্তি দিতে পারবে। আইনের এই ধারার সুযোগে ট্রাইব্যুনালের বিচারে দোষী যে-কোনও সংগঠনকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নজির হিসেবে নুরেমবার্গ ট্রায়ালের আদেশ অনুসরণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন অনেক আইনজ্ঞ। আইনি জটিলতা ও অস্পষ্টতাকে সরিয়ে জামায়াত-শিবিরের নৃশংসতা থেকে আমাদের নিরাপদ করতে তাদের অপরাধ বিষয়ে বিচার সম্পন্ন করা জরুরি বলে আমরা মনে করি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবৈধ উপার্জনের সুযোগ ও উৎস বন্ধ করুন - মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি এমনিতেই কমে যাবে ।

লিখেছেন স্বামী বিশুদ্ধানন্দ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:২৯

দুর্নীতিই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা | আমরা যেমন অক্সিজেনের মধ্যে বসবাস করি বলে এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি না, আমাদের গোটা জাতি এই চরম দুর্নীতির মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রয়েছে বিধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রভাতী প্রার্থনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৫


প্রভাত বেলার নব রবি কিরণে ঘুচুক আঁধারের যত পাপ ও কালো ,
অনাচার পঙ্কিলতা দূর হোক সব ,ভালোত্ব যত ছড়াক আলো ।

আঁধার রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ১৫: যবনিকা পর্ব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪১

এর আগের পর্বটিঃ আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ১৪: বেলা শেষের গান


শ্রীনগর বিমান বন্দর টার্মিনালের মেঝেতে বিচরণরত একটি শালিক পাখি

টার্মিনাল ভবনের প্রবেশ ফটকে এসে দেখলাম, তখনো সময় হয়নি বলে নিরাপত্তা প্রহরীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মপক্ষ সমর্থন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৯



আর কিছুদিন পর সামুতে আমার রেজিস্ট্রেশনের ৮ বছর পূর্ণ হবে।রেজিস্ট্রেশনের আগে সামুতে আমার বিচরণ ছিল। এই পোস্ট সেই পোস্ট দেখে বেড়াতাম। মন্তব্য গুলো মনোযোগ সহকারে পড়তাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালোটাকা দেশে বিপুল পরিমাণে বেকারত্বের সৃষ্টি করছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৫



কালোটাকা হলো, দেশের উৎপাদনমুখী সেক্টর ও বাজার থেকে সরানো মুদ্রা; কালোটাকা অসৎ মালিকের হাতে পড়ে স্হবির কোন সেক্টরে প্রবেশ করে, কিংবা ক্যাশ হিসেবে সিন্ধুকে আটকা পড়ে, অথবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×