somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারী কর্মকর্তা জড়িত যারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত করে কিংবা প্রশাসনকে দলীয়করণের মাধ্যমে অনেক আগেই যে সর্বনাশা পথের সূচনা করা হয়েছিল, তারই সর্বশেষ সংস্করণ ছিল ২০০৬ সালের উত্তরা ষড়যন্ত্র। ২০১৪ সালে এসে আবার প্রকাশ পেল গুলশান ষড়যন্ত্রের কথা। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনোভাবেই দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কথা নয়। চাকরিবিধি অনুযায়ীও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কিছুসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কিভাবে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বৈঠকের কথা অস্বীকার করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ভিত্তিহীন বলা হচ্ছে, কিন্তু প্রকাশিত খবরে নামধাম উল্লেখ করে কে কখন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢুকেছেন, তার উল্লেখসহ যেভাবে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বিএনপি নেতাদের এই দাবি ধোপে টেকে না। এর আগে ২০০৬ সালেও উত্তরায় রাতের গোপন বৈঠকের পর অপেক্ষমাণ ক্যামেরার সামনে মুখ ঢেকে কর্মকর্তাদের পালাতে দেখা গিয়েছিল। তার পরও বিএনপির পক্ষ থেকে সেই বৈঠকের কথা অস্বীকার করা হয়েছিল। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ ব্যাপারে গতকাল কালের কণ্ঠে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে জানা যায়, সেসব বৈঠকে সরকারের কাজকর্মে অসহযোগিতার মাধ্যমে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচিকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তারই পরিকল্পনা হচ্ছিল। এটিকে অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা উচিত।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকারের পরিবর্তন হবে, একেকবার একেক দল ক্ষমতায় আসবে। বাংলাদেশের নিকট অতীতও সে কথাই বলে। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা একই থাকবে এবং দলনিরপেক্ষভাবে বিদ্যমান সরকারের সব কর্মসূচি এগিয়ে নেবে, আর তা করতে হবে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিন থেকেই আমরা তার ব্যত্যয় লক্ষ করে আসছি। দলীয়ভাবে যেমন নিয়োগ-পদোন্নতি হয়, তেমনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাও দলীয় স্বার্থে কাজ করে থাকেন। তারই প্রমাণ গুলশানের অফিসে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈঠক। বিএনপির কয়েকজন নেতা তা অস্বীকার করলেও প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বিএনপিরই অনেক নেতা এ ধরনের বৈঠকের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে এ জন্য গুলশান অফিসের কিছু কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন। কেউ কেউ একে অপরিণামদর্শী কাজ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তদুপরি আমরাও অবাক হই, যে স্তরের এবং যে মানের কর্মচারীদের নিয়ে এই বৈঠক হয়েছে, একাধিকবার ক্ষমতায় থাকা বিএনপির মতো একটি দলের কাছ থেকে তা কোনোক্রমেই আশা করা যায় না।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবিধি এতে গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের স্বার্থেই যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা আশা করব, রাজনীতিবিদরাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকবেন।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×