somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি জামাতের অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টানা অবরোধের কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপিঠগুলোতে এখন ক্লাস পরীক্ষা অনিয়মিত। একের পর এক পরীক্ষা স্থগিত হচ্ছে। আর বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা হচ্ছে না। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধের কারণ দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা একের পর এক স্থগিত করা হচ্ছে। আর বাকিগুলোর ক্লাস হলেও পরীক্ষা নিয়মিত হচ্ছে না। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের ক্লাস হলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি খুবই নগণ্য।
হরতালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষকও ক্যাম্পাসে আসেন না। অবরোধের মধ্যে হরতাল আহ্বান করা হলেও ক্লাস পরীক্ষা উভয়ই বন্ধ থাকে। ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা দুইটিই অনিয়মিত। ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কোর্স শেষ করা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সেশনজটের কবলে পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের।
অবরোধ ও হরতালের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্র নিহত হওয়া ও ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের কারণে ১ মাস ৬ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। গত ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও ৯ জানুয়ারি থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল শতাধিক ক্লাস ও পরীক্ষা। আবাসিক হল খোলা থাকলে সহিংসতা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অবরোধ ও হরতালে ক্লাস ও পরীক্ষা না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বছর পেরিয়ে যাবে এমন শঙ্কা শিক্ষার্থীদের।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিভাগেই ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। ১ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি শেষে ১২ জানুয়ারি ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। টানা অবরোধে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন বর্ষের চলমান পরীক্ষা একের পর এক স্থগিত করা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী সেশনজটের কবলে পড়বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ চলাকালীন ক্লাস ও পরীক্ষা চললেও দুই দিনের হরতালে ক্লাস হয়নি, তবে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় একশ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের বাইরে খুব একটা বের হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অবরোধে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ক্লাস সংখ্যা এবং শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। হরতালের কারণে দুইদিন বন্ধ ছিল শাটল ট্রেন। এ কারণে বিভিন্ন বিভাগে একাধিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করছে তাদের মধ্যে শঙ্কা রয়েই গেছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধে কোন গাড়ি চলছে না। ভাড়া করা ১১টা গাড়ি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আনা নেয়া করতো; কিন্তু অবরোধে এগুলো বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি নিজস্ব গাড়ি রয়েছে। এ গাড়ি দুইটি ক্যাম্পাসের বাইরে বের হচ্ছে না। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আনা নেয়া করা যাচ্ছে না। যারা ক্যাম্পাসে আসছে তারা নিজ উদ্যোগে আসছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস পরীক্ষা অনিয়মিত, উপস্থিতিও নগণ্য। লোক প্রশাসন বিভাগের একটি পরীক্ষা নভেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরীক্ষা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ক্লাস পরীক্ষা নিয়মিত হলেও অবরোধে কমে গেছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক বিভাগ স্বাভাবিক থাকলেও অনেকটাই শিক্ষার্থী শূন্য। ক্লাস পরীক্ষা অনিয়মিত।
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ক্যাম্পাসের বাইরে আসা-যাওয়া করে না। যেসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকে তারা নিজ উদ্যোগে ক্যাম্পাসে আসে।
অন্যদিকে অব্যাহত হরতাল-অবরোধের মুখে আগামী সপ্তাহে দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা। পূর্্বেই নির্ধারিত এই পরীক্ষা আগামী ২ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে অনড়। তবে শিক্ষামন্ত্রী গতকাল বুধবার বলেছেন, পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে অবরোধ অন্তরায়। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। এরকম বাস্তবতায় আজ বৃহস্পতিবার সকল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন শিক্ষামন্ত্রী। এই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়।
এদিকে গতকাল একাধিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করে ইত্তেফাককে বলেছেন, গ্রামাঞ্চলে পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি না থাকলেও শহরে এই ঝুঁকি প্রবল। তাই সার্বিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়ে এক ধরনের শঙ্কা থাকছে। তারা বলছেন, আজকের বৈঠকে বিষয়টি তারা মন্ত্রণালয়ের নজরে আনবেন। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে বোর্ডগুলো তা বাস্তবায়ন করবে। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শেষ হবে ১০ মার্চ। এরপর ১১ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা দেখে ফল প্রস্তুত করতে তিন মাস লাগবে। সে ক্ষেত্রে যথাসময়ে পরীক্ষা শেষ হলেই জুনের শেষ সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা সম্ভব। শিক্ষাবর্ষ অনুসারে, ১ জুলাই থেকে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবার এপ্রিলের শুরু থেকেই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। ফলে মন্ত্রণালয় যথাসময়ে পরীক্ষা শেষ করতে বদ্ধপরিকর।
আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময় এখন। যথাসময়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে না পারলে এইচএসসি পরীক্ষাও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে এর প্রভাব পড়বে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপরও।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×