somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ যেন নতুন বাংলাদেশ

০২ রা আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তির আনন্দে ভাসছে ‘অবলুপ্ত’ ছিটমহলবাসী। ১১১ ছিটজুড়ে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। দিকে দিকে বইছে আনন্দধারা। ‘আর নয় ছিটবাসী আমরা এখন বাংলাদেশী’ সেøাগানে মুখর ‘ছিটমহল’। বাঁধভাঙ্গা আনন্দ-উল্লাসে ভাসছেন ছিটের মানুষ।
৬৮ বছর গ্লানিকর জীবন শুক্রবার মধ্যরাতের বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে এখন শুচিস্নিগ্ধ। শনিবার ভোরে উঠেছে তাদের জীবনের নতুন সূর্য। পরিচয়হীন জীবনের নিগড় ছিঁড়ে এখন ওদের সামনে সমৃদ্ধ জীবনের হাতছানি। কুড়িগ্রামের আমিনুল, রতœা, কামালদের ভাষায় ‘আমরা আজ স্বাধীন, প্রাণ ভরে নিতে পরছি স্বাধীনতার শ্বাস।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা, গান বাজনা, তোরণ সাজানো ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শনিবার প্রহর থেকে ছিটমহলবাসী মাতে মুক্তির উৎসবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বরণ করে নেয়া হয়।
কুড়িগ্রাম ॥ স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম থেকে জানান, নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে শুক্রবার রাত বারোটা ১ মিনিটে ফুলবাড়ীর দাশিয়ার ছড়া ছিটমহলে শুরু হয় মুক্তির উৎসব। ছিটের মানুষ ভাসে উৎসবে-পার্বণে। শনিবার ভোর পাঁচটা ২০ মিনিটে দাশিয়ার ছড়া ছিটমহলের কালিরহাট বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ফুলবাড়ীর ইউএনও নাসির উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বদরুদ্দোজা। পরে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাফর আলী সকাল এগারোটায় দাশিয়ার ছড়া ছিটমহলের কালিরহাটে পৌঁছলে ফের পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিনের মুক্তির উৎসব শুরু করে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি। তারপর ছিটবাসীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। দুপুর দুটোয় শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ জাফর আলী। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মঈনুল হক, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ও দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের সভাপতি আলতাফ হোসেন। বক্তারা দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিটবাসীর মধ্যে সঙ্গীত, নাটক, নৃত্য ও জারি সারি গান পরিবেশিত হয়। শনিবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছিটমহলের মানুষ এসব উপভোগ করেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ১১১ ছিটমহলে একযোগে এ কর্মসূচী পালন করে। এ সময় শত শত কণ্ঠে গেয়ে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত-‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’। এর আগে শনিবার মধ্যরাতে রাত বারোটা ১ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসিয়ার ছড়ায় ৬৮ মোমবাতি জ্বালিয়ে দীর্ঘ ৬৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানো হয়। ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, ‘আমরা এখন থেকে বাংলাদেশের নাগরিক।’বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মঈনুল হক জানান, ‘শনিবার মধ্যরাত থেকেই আমরা বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি। এখন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ছিটের মানুষের জন্য দ্রুত সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’
নীলফামারী ॥ স্টাফ রিপোর্টার জানান, ডিমলা উপজেলায় সদ্য অধুনালুপ্ত চারটি ছিটমহলে ১ আগস্ট সূর্যোদয়ের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরিবেশন করা হয় জাতীয় সঙ্গীত। বড় খানকি খারিজা গিদালদহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মজিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসেন, ডিমলা উপজেলার চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলামসহ বিলুপ্ত ছিটমহলের বাংলাদেশের নবাগত নাগরিকগণ। অপর দিকে বড় খানকিবাড়ী (১) খারিজা গীতালদহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ডিমলা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এসএম সফিকুল ইসলাম, বড় খানকিবাড়ী (২) খারিজা গীদালদহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ডিমলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এমদাদুল হক, নগর জিগাবাড়ী ছিটমহলের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জেএ সিদ্দিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।
ছিটমহলে ১ আগস্টের প্রথম প্রহরে ৬৮ মোমবাতি ও ৬৮ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলিত হয়, পোড়ানো হয় আতশবাজি। বনভোজন ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ৬৮ বছরের বন্দী জীবনকে স্মরণীয় করে রাখা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ছিটমহলের ঘরে ঘরে ছিল বিভিন্ন আয়োজন। রাত বারোটার আগে থেকে তারা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ওসি রহুল আমিন খান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামসহ ছিটমহলের বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। বড় খানকিবাড়ী (১) খারিজা গিদালদহ ছিটমহলে মিজানুর রহমানের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্বলন করেন সেখানকার নাগরিকরা। এ ভাবে প্রতিটি ছিটমহলে শুরু হয় বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। চলে গভীর রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পরে বনভোজন। সারারাত কোন বাসিন্দার চোখের পাতা এক ছিল না। সারা রাত তারা নেচে গেয়ে রং মেখে জয় বাংলার সেøাগানে মুখরিত করে রেখেছিল। বড়খানকি খারিজা গিদালদহের হামিদুল ইসলাম ও আবদার রহমান বলেন, আমরা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এতদিন সাপের গর্তে বাস করে আসছিলাম। না ছিল নিরাপত্তা, না ছিল নিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন পর হলেও নাগরিকত্ব পাওয়ায় আমরা নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম।
পঞ্চগড় ॥ স্টাফ রিপোর্টার জানান, ৬৮ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে উড়ানো হলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। সবাই মিলে গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত। শনিবার সকাল ছ’টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিটমহলবাসীদের বাংলাদেশী হিসেবে বরণ করে নেয়া হয়। জানানো হয় উঞ্চ অভিনন্দন। জেলা পুলিশের ব্যান্ড দলটি ছিটমহলের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
জেলার অন্যান্য ছিটমহলে সব ইউএনও সকাল ছ’টায় একইভাবে ছিটবাসীকে বাংলাদেশী হিসেবে বরণ করে নেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মূল অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় সদর উপজেলার গারাতী ছিটমহলের মাদ্রাসা মাঠে। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শামছুল আযম ও পুলিশ সুপার মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শামছুল আযম, পুলিশ সুপার মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মির্জা আবুল কালাম দুলাল, গারাতী ছিটমহলের চেয়ারম্যান মফিজার রহমান। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহাবুবুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম আযম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা মুনতাজেরী দিন, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মমিনুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছিটমহল বিনিময়ের সময় গণনার কাউন্ট-ডাউনের শেষদিন বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে মেতেছিল পঞ্চগড়ের ৩৬টি ছিটমহলের মানুষ। এই ক্ষণটিকে ছিটমহলবাসী ঈদ উৎসব হিসেবে পালন করে। প্রায় ছয় যুগ ধরে উন্নয়নবঞ্চিত পশ্চাৎপদ এসব ছিটমহলের বাড়ি ও মেঠোপথগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছিল। বিশেষ করে সদর উপজেলার গারাতী ছিটমহলের প্রতিটি মুসলমান বাড়ির উঠোনে জ্বালানো হয়েছিল ৬৮টি মোমবাতি এবং হিন্দু বাড়িতেও একইসংখ্যক প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন থেকে আলোর পথে আসায় রাত বারোটার পরই ছিটমহলের সড়কে মশাল জ্বালিয়ে আলোকিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এসব আয়োজন করা হয়েছিল।
বিদ্রোহী শিশু-কিশোর থিয়েটারের আয়োজনে ছিটমহলে বসবাসকারী শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় মানবতার মহাকবি নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। ওই নাটকে ছিটবাসীদের ৬৮ বছরের দুঃখ-দুর্দশা ও মানবতাহীনতার চিত্র তুলে ধরা হয়। নাটকটি রাতে মঞ্চায়নের সময় অনেক দর্শকই চোখের জ্বল ধরে রাখতে পারেনি। ঐতিহাসিক এই নাটকটির রচনা ও নির্দেশক ছিলেন পঞ্চগড়ের সিনিয়র সাংবাদিক ও নাট্যকার রহিম আব্দুর রহিম। এছাড়াও রাতভর চলে বর্ণাঢ্য নানা অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানমালা ছিটমহলের মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ এলাকার হাজারো মানুষ মিলেমিশে উপভোগ করেন। ছিটমহলের প্রতিটি বাড়িতে ছিল পোলাও, মাংস ছাড়াও বিশেষ খাবারের আয়োজন। ছিটবাসীরা নিজেও যেমন খেয়েছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশীদেরও খাইয়েছেন। সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন হিসেবে একে অপরকে মিষ্টিমুখের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি মিষ্টি বিতরণ করেন। ছিটমহলে বাস করেন অনেক হত-দরিদ্র পরিবারেও ছিল পোলাও মাংসের আয়োজন। এমনও একজন আফাজ উদ্দিন। বাড়ি গারাতী ছিটমহলের ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে। পেশায় দিনমজুর। তারও বাড়িতে রাতের আয়োজন ছিল পোলাও-মাংস। ছিটমহলের আরেক বাসিন্দা মসলেমউদ্দীন বলেন, ‘আজকে আমার কীযে আনন্দ হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আজ থেকে আমরা মুক্ত।’
লালমনিরহাট ॥ ছিটমহলে ঘরে ঘরে উড়ল বাংলাদেশের পতাকা। সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনি। যেন ’৭১’র পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মুক্তিযোদ্ধারা গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে জয়ধ্বনি দিচ্ছে। তখনই বেজে উঠল ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’। শেষ পর্যন্ত সব বাধা অতিক্রম করে দীর্ঘ ৬৮ বছর বন্দী জীবনের অবসান ঘটে গেল।
শনিবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাট জেলার অভ্যন্তরে ৫৯টি ছিটমহলেÑযা পহেলা আগস্ট হতে বাংলাদেশের ভূখ-। এখন ছিটমহল অতীত। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় সকলে জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে ওঠে। পরে ছিটমহল ও মূল ভূখ-ের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, কিশোর-যুবা গেয়ে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’।
মধ্যরাতের বৃষ্টিস্নাত ছিটের মানুষ শনিবার সকালে দেখল নতুন সূর্য।
শনিবার সকালে সরকারীভাবে ভারতীয় পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে লালমনিরহাট জেলার ভেতরে থাকা ভারতীয় ৫৯ ছিটমহলে। লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুদ রানা ও পুলিশ সুপার মুজাহিদুল ইসলাম জেলা সদরের বাঁশ পেচাই ভেতর কুটি ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
ছিটমহলে স্থানীয় নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। কেউ কেউ ছিটমহলে গিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতাদের।
কুলাঘাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হামিদুল হক ভ্যা-ার। শনিবার বিকালে বাঁশ পেচাই ভেতরকুটি ছিটমহলে গিয়ে ছিটমহল আন্দোলনের সভাপতি মোঃ রমজান আলীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। ছিটমহলের বাসিন্দারা নতুন নাগরিক হওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে।
বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয় স্বজনদের ভিড় ॥ ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সেলিনা আক্তার শিল্পী। ৫ বছর পর বাঁশ পেচাই ছিটমহলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। সে স্বচক্ষে ছিটমহল বিনিময় অনুষ্ঠান দেখেছে। শিল্পী জানায়, নানার বাড়ি ছিটমহলে বলে মানুষ নাক সিটকাত। লজ্জা লাগত। বাবা-মা নানা বাড়িতে বেড়াতে আসতে দিত না। ছিটমহলে যদি কিছু হয়। আইনী সহায়তা, চিকিৎসা পাওয়া যাবে না। সেই দিনের অবসান হয়েছে। এখন ছিটের মানুষ পরিচয় পেয়েছে। বরং আট দশটি অখ্যাত গ্রামের চেয়ে ছিটের গ্রামের খ্যাতি সারা বিশ্বে রয়েছে। হয়তো সেদিন দূরে নয়। প্রতিটি ছিটের গ্রাম পর্যটন গ্রাম হয়ে উঠবে।
মুজিব-ইন্দিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমিদান ॥ জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের বাঁশ পেচাই ছিটমহলে মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক বৃদ্ধা রাস্তার পাশে ৪৬ শতাংশ জমি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুনিটি ক্লিনিক নির্মাণে দান করেছেন। তার ইচ্ছা মুজিব-ইন্দিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে নামকরণ করা হোক। তার এক মেয়ে ছিটমহলে বসবাস করে ভুয়া পরিচয়ে লালমনিরহাট সরকারী কলেজে বাংলায় অনার্স পড়ছে। সে সদর উপজেলায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান অধিকার করায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম তাকে একটি মডেম উপহার হিসেবে দিয়েছে। এখন ছিটমহলটির মানুষ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ায় তাকে আর ভুয়া পরিচয় দিতে হবে না।
জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান ॥ রাত বারোটা ১ মিনিটে জেলায় একযোগে ৫৯ ছিটমহলে ঘরে ঘরে স্মরণীয় জমকালো জাঁকজমক অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। বাঁশ পেচাই ভেতরকুটি ছিটমহলে জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, লালমনিরহাটের এমপি এ্যাডভোকেট মোছাঃ সপুরা বেগম রুমি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মোঃ মতিয়ার রহমান। সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ সিরাজুল হক। দৈনিক জনকণ্ঠ
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×