somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তনু হত্যাকাণ্ড :কিছু কথা

১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনার পর সতের দিন অতিবাহিত হয়েছে। অথচ তনু হত্যাকাণ্ডের কোনো কুল, কিনারা হয়নি। সকলের দাবি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করতে হবে। না হলে অনেকেই এই বিষয়টিকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা করবে। ইতোমধ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সেখানে তনুকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাহলে ফেসবুক ও অনলাইনে রক্তাক্ত নারীর ছবিটি কার? সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী দ্রুত ধরা পড়ুক এবং শাস্তি পাক এই প্রত্যাশা আমাদের। তবে এই হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে নানা মাত্রায় এবং বিচিত্র ভঙ্গিতে অপপ্রচার চলছে। সেখানে সেনানিবাস এবং সেনাবাহিনীকেও জড়িত করা হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী তাদের পেশাদারিত্বের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে। এজন্য সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা তনু হত্যায় জড়িত থাকলে তার বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক।
২০ মার্চ হত্যার পর ঢাকা সেনানিবাসে আইএসপিআর থেকে বিবৃতির মাধ্যমে তনুকে সেনা পরিবারের সন্তান দাবি করে এ ঘটনায় দোষীদের ধরতে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ‘অসাধারণ’ কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বলেছে- তনুর বাবা মো. ইয়ার হোসেন বিগত ত্রিশ বছর যাবত্ কুমিল্লা সেনানিবাস ‘ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে’র একজন বেসামরিক কর্মচারী। তিনি সেনাপরিবারের সদস্য এবং তনু কুমিল্লা সেনানিবাসেই বড় হয়েছে। তাই তনুর নির্মম হত্যাকাণ্ডে সেনাসদস্যরা দারুণভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছেন। তাছাড়া সেনাবাহিনী জনসাধারণের অংশ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেদিন সেনাবাহিনী তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিল। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আকাঙ্ক্ষা তাদেরও। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রথম থেকেই সকল তদন্তকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী সম্পর্কে অনুমাননির্ভর ও মনগড়া বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের মতামতের দিকে দৃষ্টি দিলে সেনাবাহিনী এবং তনু হত্যা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্যের উপস্থাপনা চোখে পড়ে। এ বিষয়ে তারা দায়িত্বশীল হওয়ার পরিবর্তে নির্বিচারে নানা মন্তব্য করে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টায় লিপ্ত। হত্যার ঘটনায় সেনাবাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তার দায় কোনোভাবেই পুরো বাহিনীর নয়। সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী আমাদের অহংকার। অথচ সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার জন্য তনুকে নিয়ে মিথ্যাচারে মেতে উঠেছে কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীরা। দেশ ও জাতির গৌরব এবং শক্তির প্রতীক আমাদের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে ক্ষমতালোভীদের হাতে দেশকে তুলে দেয়ার স্বপ্ন-জাল বুনছে অনিষ্টকারীরা। এমন আশঙ্কা করছেন অনেকে।
সেনাবাহিনী তনুকে নিজেদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি করেছে। এমনকি তাদের কেউ জড়িত থাকলে শাস্তি পেতে হবে সেটাও বলা হচ্ছে। তবু সুশীল সমাজ গলা ফাটাচ্ছে কেন সেটাই আমাদের বোধগম্য নহে। এমনকি হত্যার ঘটনায় তদন্তে সর্বপ্রকার সহায়তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এজন্য প্রমাণ হওয়ার আগেই সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। সেনাবাহিনীকে হেয় করা বা আসল খুনিকে আড়াল করার চেষ্টা, সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে শান্তিরক্ষা মিশনে অনন্য ভূমিকা পালন করেও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অর্জন করেছে। গোটা বাঙালি জাতি এখন তাদের নিয়ে গর্ব বোধ করে। প্রকৃত খুনি কে তা প্রমাণ করার সুযোগ না দিয়ে দোষারোপ করলে তা হবে ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তের অংশ। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবি তাদেরও। সেনাবাহিনীকে তদন্ত করার সময় ও সুযোগ না দিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলে দোষী হিসেবে প্রচার করা হলে তা হবে আত্মঘাতী।
অন্যদিকে তনুর ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত এবং বিবস্ত্র দেহের যে ছবি প্রচার করা হয়েছে তাও সত্য নয়। মাথার চুল কাটা ছবিটিও তনুর নয়। তনুর মৃতদেহ স্ট্রেচারে শায়িত, শান্ত, ছিন্ন-ভিন্ন নয়- এই ছবি কোনো মিডিয়া প্রচার করল না কেন? বরং একজন মৃত নারীকে ধর্ষণের অপবাদ দিয়ে ছোট করা হচ্ছে সারা দেশ জুড়ে।
মূলত বর্তমান পরিস্থিতিতে এক শ্রেণির লোকের অতি উত্সাহ মানুষকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করতে পারে। প্রতিবাদ বা আন্দোলন হবে হত্যাকারীর বিরুদ্ধে, নিশ্চয় কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দ্রুততম সময়ে বিচার করা গেলে সাধারণ মানুষের সংশয় দূর হবে।
ড. মিল্টন বিশ্বাস লেখক :অধ্যাপক এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেন লিখলাম? ইচ্ছে হলো তাই। কেন ইচ্ছে হলো?

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

একজন নিহিলিস্ট হিসেবে যা-ই লিখি তা-ই হয়তো অর্থহীন হয়ে ওঠে। কিন্তু যা ‘অর্থহীন’ তা কি কখনো কিছু ‘হয়ে ওঠা’? যেহেতু জন্মেছি এবং মৃত্যুর জন্য নিরন্তন অপেক্ষা- সেই অপেক্ষাকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু কিছু স্মৃতি ভুলার মত না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৯

আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি ২০১১ সালে। ঐ পরীক্ষার এক মাসের কথা এখনো মনে পড়ে। ১ম পরীক্ষার সময় খাতা পাওয়া, রোল নাম্বার লেখা, প্রশ্ন হাতে পাওয়া এগুলো এখনো মনে পড়ে। মাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×