somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক

৩০ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আজ একটি কার্যকর আন্তরিকতার পর্যায়ে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা শুধু নয়, সীমান্ত সুরক্ষা, প্রযুক্তি বিনিময়, মহাকাশ গবেষণা, সাইবার নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি, শিপিং, নদী খননসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতার দিগন্ত ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে দুই দেশই উপকৃত হচ্ছে। এমনই সময়ে আগামী ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন। তাঁর এ সফরে দুই দেশের সম্পর্ক যে নিশ্চিতভাবে আরো গতিশীল হবে, সে আশ্বাসই ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। সোমবার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া পরিদর্শনে এসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যেকোনো উদ্যোগকে ভারত স্বাগত জানাবে এবং সমর্থন দেবে। জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগকে যারা অস্বীকার করে তারা বিশেষ উদ্দেশ্যে ইতিহাসকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চায়। জাতিকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে একটি গোষ্ঠী বরাবরই অপপ্রচার করে। কারণ তাদের রাজনীতির পুঁজিই হলো ভারতবিরোধিতা ও সাম্প্রদায়িক উসকানি। এরাই পাকিস্তানের শোষণ, নির্যাতন ও সর্বশেষ ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বর্বরতাকে বাংলাদেশে বহাল রাখার চেষ্টা করেছিল। তারা আবার শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে আগে নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের এজেন্ডায় সামরিক চুক্তির উল্লেখ না থাকলেও তারা সেটি বলে বলে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে, তা পৃথিবীর প্রায় সব দেশই অন্যান্য দেশের সঙ্গে করে থাকে। বাংলাদেশেরও এ ধরনের সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অনেক দেশের সঙ্গেই আছে। ভারতের সঙ্গে একই সমঝোতা থাকলে অসুবিধা কোথায়? এর আওতায় তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের ক্ষতি কোথায়? তারা বলছে, তিস্তা চুক্তি না হলে আর কোনো চুক্তিই হবে না। তিস্তা চুক্তি হতে যদি আরো এক বছর লেগে যায়, তত দিন পর্যন্ত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নদী খনন, গবেষণা এমন নানা বিষয়ে কোনো চুক্তি করা না হলে ক্ষতি কার হবে? তিস্তার পানির হিসসা আমাদের অবশ্যই প্রয়োজন। তা না হওয়া পর্যন্ত বাকি সব বন্ধ করে রাখা কি কোনো যৌক্তিক পদক্ষেপ হবে?
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে গঙ্গা চুক্তি হয়েছে। অমীমাংসিত স্থলসীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের অবসান হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ভারসাম্য আসছে। বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বেড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে। মানুষের মাথাপিছু আয় কয়েক গুণ বেড়েছে। যাঁরা অপপ্রচার করেন তাঁদের সময়ে কী হয়েছে? অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে? ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে মানুষকে এসব বলে বোকা বানানো যাবে না। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×