somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজা উজিরের স্বর্গে যাত্রা এবং...

২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরোনো আরো একটি গল্প আজ নতুন করে আপনাদের বলবো। গল্পটি হলো...
ওস্তাদ আর সাগরেদ এক সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। ঘুরতে ঘুরতে তারা হাজির হলো এক সবুজ শ্যামল দেশে। আহা !?! তার আকাশে বাতাসে সেকি সৌরভ সুভাস। সাগরেদ তিড়িং-বিড়িং করে নাচতে লাগলো। ওস্তাদ বললো- এ দেশের মানুষগুলো কতোই না সুখী। যে দেশের আকাশে বাতাসে এতো সৌরভ তারা কি কখনো অসুখী হতে পারে। সাগরেদ সঙ্গে সঙ্গে সায় দিয়ে বললো অবশ্যই অবশ্যই না, তারা সুখী, আলবাত সুখী।
ভীষণ মন খারাপ ওস্তাদের আর সাগরেদ খুশী, মহা খুশী। দুপুরের খাবার নিয়ে বাঁধলো যত সব গণ্ডগোল। সবকিছুই ঘি দিয়ে রান্না করা। বত্রিশ (৩২) জায়গায় ঘুরেও সাধারন খাবার জুটলো না ওস্তাদের কপালে। আর এদিকে সাগরেদের পোয়া-বার অবস্থা। চিন্তায় পড়ে গেলেন ওস্তাদ। অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করলেন দেশটি সম্পর্কে সঠিকভাবে খবর নিতে হবে আগে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগে পেয়েও গেলেন অনেক কিছু। সাগরেদকে বললো- চল এক্ষুণি এ দেশ ছাড়তে হবে। যে দেশে তেল আর ঘি এর দাম এক সে দেশে আর নয়। আমার মনে হয় আমরা ‍"আজব দেশের তাজব রাজার দেশে" এসে গেছি। এখানে বেশীক্ষণ থাকা মানে নিজদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মারা। সাগরেদ কিছুতেই রাজি হচ্ছে না দেশ ছাড়তে।বাধ্য হয়ে ওস্তাদ একাই চলে গেলেন।
দিন যায়. মাস যায়.. বছর গড়ায়...। ঘিয়ে ভাজা খাবার খেতে খেতে সাগরেদের শরীর-স্বাস্থ্য হয়ে ওঠে নরম তুলতুলে আর নাদুসনুদুস।
হঠাৎ বদলে যেতে থাকে দেশের পরিবেশ। দেশে দেখা দেয় খাদ্য অভাব দুর্ভিক্ষ। টনক নড়ে তাজব রাজার। ডাকা হলো উজির-নাজির-পাইকপেয়াদা আর রাজ জ্যোতিষীদের। রাজার শেষ ভরসা যারা। মিটিং চললো টানা ৩ দিন ৩ রাত। ৪ দিনের মাথায় এক রাজ জ্যোতিষী জানালো প্রায় ১ বছর ধরে আমাদের দেশে একজন ভিনদেশী বাস করছে। সেই হলো বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। রাজার হুকুমে ধরে আনা হলো সাগরেদকে। সভা-পরিষদে সিদ্ধান্ত হলো তাকে শূঁলে চড়ানো হবে। রাজ জ্যোতিষী ঠিক করে দিলো সেই মহেন্দ্রক্ষণ।
মহেন্দ্রক্ষণ এসে গেলো। রাজ্যের উৎসুক জনতা হাজির হতে থাকলো শূঁল মঞ্চের চারদিকে। সৌভাগ্যক্রমে সেদিন ওস্তাদ বাড়ী ফিরতে ছিলো আজব দেশের ভিতর দিয়ে। লোক মুখে শুনতে পারলো আজ এক ভিনদেশীকে শূঁলে চড়ানো হবে। বুকের ভিতরটা আনচান করে ওঠলো। আমার সাগরেদ নয়তো আবার। তিনিও গেলেন শূঁল মঞ্চের কাছে, পিলে চমকে ওঠলো। আরে এতো আমার সাগরেদ। যে করেই হোক তাকে বাঁচাতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। চিৎকার করে উঠলো ওস্তাদ, জাঁহাপনা তাকে নয়, আমাকে শূঁলে চড়ান। আমি শাস্ত্র-জ্ঞানে পণ্ডিত, এ দিনে অপেক্ষায় এতোদিন। এই মহেন্দ্রক্ষণে যে শূঁলে চড়বে, সে বিনা হিসাবে স্বর্গে যাবে। হতছাড়া এ অধমকে কখনোই স্বর্গে যেতে দিবেন না। তাজব রাজার মনে স্বর্গে যাবার স্বাদ জেগে উঠলো। হুংকার দিয়ে বললো এই তুই কি সত্যি কথা বলছিস। ওস্তাদ বললো- জাঁহাপনা কেউ কি বিনা লাভে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মরতে চায়। উজির বললো হুজুর মনে হয় সে সত্যি কথা বলছে, কেউ জীবনের মায়া ত্যাগ করতে পারে না। রাজা বললো- উজির সাহেব আপনি যখন বলছেন আমি ওর কথা বিশ্বাস করলাম। কিন্তু আমার অনেকদিনে শখ স্বর্গে যাওয়ার। আজ যখন হাতের কাছে সুযোগ আসলো তবে হাত ছাড়া করবো কেন। আর ভালো করেইতো জানেন আপনাকে ছাড়া আমি এক মিনিটও থাকতে পারিনা। এক সঙ্গে আমরা আজ স্বর্গে যাব। ওস্তাদের চালাকি সাগরেদ বুঝতে পেরে সেও চিৎকার করতে লাগলো না আমি স্বর্গে যাবো, স্বর্গে যাবো। তাজব রাজা হুকুম দিলো এ আহাম্মকটাকে সরিয়ে, উজির সাহেবকে আগে শূঁলে চড়া তারপর আমাকে...
আর সুযোগ বুঝে ওস্তাদ সাগরেদকে নিয়ে সরে পড়লো তাজব রাজার আজব দেশ থেকে।
(ফুটনোট: বর্তমানে তেলে দাম ১৩৫/- টাকা লিটার, তেল আর ঘিয়ে দাম এক হয়ে যাবে সে দিন আর বেশী দূরে নয়। এ দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির রাজা-উজিরের হাত থেকে সাগরেদ রূপী আমাদের বাঁচাতে কোন ওস্তাদ কি আমরা পাবো?)
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×