আজ পূর্ণিমা ।
নির্জন ফুটপাত ধরে, পেছনে ছায়া নিয়ে হাটছিল ধ্রুব "।
মাথার ওপরের চাঁদটাও যেন হাটছিল সাথে সাথে। অবচেতন মনেই একসময় ঝাপসা চোখে ভেসে উঠলো একটুকরো অতীত . . . . . . . . . . ।
সময়টা ছিল বিকেল ৪.৪৫ । কিছুক্ষন পরপর নিরত্তর ঘড়ি দেখা কিছুটা বিরক্ত করে তুলছিল ধ্রুবকে। ৫টা বাজতে আরও বেশ খানিকটা সময় বাকি। ধ্রুব দাড়িয়ে আছে . . . . . . . . . . 'র সামনে। কিছুটা নার্ভাসনেস থাকলেও বেশ পুলকিত হচ্ছিল সে। হৃদয়ের একবছর ধরে জমে থাকা অব্যক্ত ভালবাসা হয়ত আজ একটা রূপ পেতে যাচ্ছে। অদেখা ভূবনের প্রতি সহজাত আকর্ষন আর, একজন দেবীকে কল্পনা করে, বাধনহারা ভালবাসা। প্রচন্ড আবেগে হৃদয়কে পুড়িয়েছে বারবার। তবুও বলা হয়নি ছোট্ট একটি কথা। ছোট্ট স্বপ্নটি পায়নি বাস্তবতার ছোঁয়া।
" বিকেল পাঁচটায় নন্দিনি আসবে এখানে। সেদিন গার্লস স্কুলের সামনে দিয়ে আসার সময় ধ্রুব তার এক বন্ধুকে পাঠায় নন্দিনির কাছে, তার সাথে কথা বলবে বলে। অবশেষে নন্দিনি রাজি হয় ধ্রুবর সাথে কথা বলতে। . . . . . . . . . . 'র সামনে অপেক্ষায় থাকতে বলে ধ্রুবকে। নন্দিনি এখনও আসছেনা কেন ? হয়তো কোথাও আটকে আছে। ধীরে ধীরে পাঁচটা বাজে। ধ্রুবর চঞ্চল চোখ একবার ঘড়িতে, একবার পথের দিকে যায়। যতদুর চোখ যায়, শূণ্য পথ একটা অচেনা বিষাদ তৈরি করে ধ্রুবর মনে। শঙ্কিত মনে নিজেকে প্রবোধ দেয় ধ্রুব। . . . . . . . . হ্যাঁ। ঐতো নন্দিনি আসছে। রিকশায় করে। আনন্দে নেচে ওঠে ধ্রুবর মন, একসাথে কেঁপে ওঠে সবগুলো নিউরণ। আপনমনে বিড়বিড় করে ধ্রুব . . . . . . . . দেবী । . . . . . . . . আমার দেবী . . . . . . . . ।
কিন্তু একি ? নন্দিনি ওকে দেখে একটা তাচ্ছিল্লের হাসি ছুড়ে দিয়ে, চলে যায় সামনে দিয়ে। স্তব্ধ, বিমূঢ় ধ্রুব কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে অবাক চোখে। কি অর্থ এ হাসির ? কেন সে দাড়ালনা একটিবার ? এর জবাব ধ্রুবকে পেতেই হবে। রিকশায় চড়ে বসে ধ্রুব। দ্রুতলয়ে ঘুরে চলে চাকা, তার চেয়েও দ্রুততর গতিতে চলে ধ্রুবর নাড়ীর স্প্ন্দন। ছুটে যায় নন্দিনির বাসার গেট পর্যন্ত। পথ আগলে দাড়ায় নন্দিনির। প্রশ্ন করে, " এসবের অর্থ কি ? " কিছুই না বলে নন্দিনি পাশ কাটিয়ে চলে যায় গেটের ভেতর। ঠোটে ঝুলছিল তাচ্ছিল্লের হাসিটুকু। ধ্রুব শেষবার চিৎকার করে ওঠে, নন্দিনি দাঁড়াও . . . . . . . . . . . . . . . . !!
এরপর শুধুই নিস্তব্ধতা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়। সন্ধ্যা নামে ধ্রুবর জীবনেও। জীবনে প্রথমবারের মত নিকোটিনের বিষকে আপন করে নেয় ধ্রুবর হৃদয়। ধূসর ধোঁয়ায় অজস্র ভালবাসার ফুলগুলি শুকিয়ে আসে। রাস্তার আলো-আধারি ছুয়ে ছুয়ে ধ্রুব হেটে চলছে একাকী পথে। পূর্ণিমার আলোয় আজ তার চারপাশে শুধুই নিজের কালো ছায়া । "
সামনে তাকায় ধ্রুব ।
একটা আশ্চর্যরকম প্রশ্নবোধক ছাড়া, কিছুই নেই সেখানে !!
(একটি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ ভোর ৬:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


