প্রতি মাসের ২০ তারিখ এলেই মনে মনে প্রস্তুতি নেই, বাকি কয়েকটা দিনের সকালের নাস্তা আর শুধু রাতের খাবারের টাকাটা কিভাবে যোগাড় করা যায়। টিউশনি থেকে বাসায় হেঁটে ফিরব আর কয়েকটা দিন শাহাবাগের আড্ডায় যাব না। কিছু চা সিগারেটের টাকা তো বেচে যাবে। ব্যাস, তাহলেই হবে। বাবাকে আমি প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে বলতে পারি না। তাকে বলতে পারি না যে, ঢাকা শহরে থাকা অনেক খরুচে ব্যাপার। জিজ্ঞেস করতে পারি না যে, আমাকে এখানে পাঠানো কি এতই জরুরি ছিল ?
--------------- # ---------------
সেদিন বিকেলে হঠাৎ ইচ্ছে হলো, আকাশ দেখবো, বিশাল মুক্ত আকাশ। একটা সরকারি উচু ভবন খুজে বের করতে হবে। যেটার উচু কোনো জানালায় দাঁড়ালে যতদুর চোখ যাবে, আমি আকাশ দেখতে পাবো। এই শহরে আকাশ দেখতে হলেও অনেক দূর হাঁটতে হয়।
--------------- # ---------------
একবার বাসা খুঁজতে বের হয়েছিলাম, একা। ইচ্ছে ছিল টিনের চালার একটা চিলেকোঠায় থাকব। বর্ষায় বৃষ্টি্র শব্দ শুনতে হবে, গ্রামের বাড়ীর মত। অনেক কষ্টে খুঁজে পেয়েছিলাম ও একটা। বাড়ীওয়ালা জিজ্ঞেস করল, 'বাসায় কি কোনো গেস্ট আসবে?' বললাম, 'অবশ্যই'। ব্যাস, ভাড়া হবে না। ............. "আপনার বাসায় কি গেস্ট আসে না?" - উনাকে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল, করি নি।
--------------- # ---------------
দিন কয়েক আগের কথা, সোরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতর হাঁটছিলাম। দেখলাম কিছু অরধনগ্ন কিশোর ক্রিকেট খেলছে। ওই যে মাঝখানে যে ছাউনিটা, সেখানে কিছু চায়ের দোকান, তার পাশের ওই খালি জায়গাটায়। ওদের কে দেখে ছোটোবেলার কিছু স্মৃতি মনে পরে গেল। হ্যাঁ, এমন একটা এক চিলতে খালি জায়গা তো আমাদের বাসার সামনেও ছিল। ক্রিকেট ফুটবল সবই খেলতাম ওইটুকু জায়গায়। ওই সময় আকাশের রঙ হয়তো এমনি ছিল, জীবন্ত। অনেক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখানে, ভালই লাগছিল। কিন্তু আর তো থাকা চলে না, মাদক নিতে হবে। আমি আবার হাঁটা শুরু করলাম।
--------------- # ---------------
ইদানিং একটা বিষয় বেশ পীড়া দিচ্ছে, কোনো সমাধান পাচ্ছি না। দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ছি। হ্যাঁ, আমি গর্বিত। দেশের সাধারন মানুষের টাকায় পড়ালেখা করছি, জ্ঞানী হচ্ছি। কিন্তু মানুষগুলো অথবা সুবিধাবঞ্ছিত মানুষগুলো কিংবা দেশের জন্য কি করছি? আমি শিক্ষিত হচ্ছি আর দিন দিন আমার দায়বদ্ধতা বাড়ছে। দেখি, শিক্ষা জীবন সংখিপ্ত করতে হবে, দ্রুত। দায়বদ্ধতাকে ভূলে যেতে হবে। পীড়াদায়ক কোনো কিছু নিয়া বসবাস করা কোনো কাজের কথা না।
--------------- # ---------------
এক বন্ধুর জন্মদিন। বলল, আসিস। বেশ ভাল একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন। গিয়ে দেখলাম, ১০-১৫ জন আমন্ত্রিত অতিথি।সবাই খুব সম্ভবত তার বন্ধুস্থানীয় হবে। কিছুক্ষন পরিচয় পর্ব চলার পর খাবার চলে এল। যদিও সামনে অনেকগুলো ছুরি চামচ, ভাবলুম হাত দিয়ে খেতে সহজ হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। দেখলুম কয়েকজন অদ্ভুত ভাবে তাকাচ্ছে। খাওয়া-দাওয়া পর্ব শেষ হওয়ার পর কারও সাথে তেমন কথা বার্তা হলো না আর। চলে এলাম। কিন্তূ ঠিক বুঝলাম না, কি সমস্যা ছিল !
--------------- # ---------------
এই শহরটায় কোন্ জিনিসটা সবচেয়ে বেশি আছে? উত্তর নিশ্চই, মানুষ। আর দেখার মতো জিনিস ? আমি আবারো বলবো, মানুষ। ................. আমি হাঁটি, সেটা সকাল হোক অথবা বিকেল কিংবা মধ্যরাত। না না, হিমু সংক্রান্ত কোনো কিছু না। আমি মানুষ দেখি। দিনের একেক ভাগে একেক ধরনের মানুষ দেখা যায়। দেখতে ভালই লাগে।
--------------- # ---------------
একবার একটা অদ্ভুত খেয়াল হলো, জানিনা ভালবাসা থেকে নাকি অভিমান থেকে। যেদিন আমার কাছে অনেক টাকা হবে সেদিন শাহাবাগের সব ফুল কিনে ফেলব। একসাথে কিনলে হয়ত সস্তাতেই পাওয়া যাবে কিছুটা। সেদিন কোনো প্রেমিক তার প্রেমিকা কে ফুল দিতে পারবেনা আর। আমার থেকে ফুল কিনতে হবে তাদের, অনেক চড়া দাম দিয়ে। ফুল কোনো সস্তা জিনিস না। আবার ভাবলাম, সেদিন তো কেউ কারও এপিটাফ এ ফুল দিতে পারবেনা। এটা উচিত হবেনা নিশ্চই। চিন্তাটা বাদ দিলাম।মৃত কিছু মানুষের জন্য ভালবাসাটা এই যাত্রায় হয়ত বেঁচেই গেল। ভালবাসা না হয় বেঁচে থাকুক, অভিমানটুকুর কোনো দাম নেই।
--------------- # ---------------
মনে আছে, ছোটোবেলায় পহেলা বৈশাখে স্কুলের মাঠে মেলা বসতো, সত্যিকার মেলা। হ্যাঁ, অনেক ছোটো ছিল হয়তো। কিন্তু অনেক অদ্ভুত আর মজার জিনিস পাওয়া যেত সেখানে। তবে বিশেষভাবে প্রতিবার একটা নতুন খেলনা বের হতো যা প্রায় সবাই অবশ্যই কিনতো। আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম সেই মেলার জন্য। এখন আর করিনা, দরকার হয় না। অনেক বছর হয় সেই বৈশাখী মেলা দেখিনি কোথাও।
--------------- # ---------------
বিশ্ববিদ্ব্যালয়ের একটা অফিস ভবনের কোনায় একটা বিশাল শিমুল গাছ আছে। এবার শীত আস্তে দেখি গাছটায় একটাও ফুল বা পাতা নেই। গত ৫টা বছর কখনই এমন হয়নি। এখানে প্রথম আসার পর থেকে প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় এখানে বসা হতো। হ্যাঁ, একটা মেয়েও থাকতো সে সময়। ৫বছর অনেক বড় সময়। হয়তো দু-এক বছর আগে থেকেই গাছটা বিবর্ণ হতে সুরু করেছিল। আমি লক্ষ্য করিনি। আমি লক্ষ্য করিনি যে আমারো বয়স বাড়ছে, আমিও বড় হচ্ছি। এটাকে ফ্রেমে ধরে রাখতে হলে আমি ওই গাছটার নিচে দাড়ানো অবস্থায় আমার ৫বছরের ৫টা ছবি চাইতাম হয়তো। দেখি, গাছটাকে মনে রাখবো, আরো ৫টা বছর।
--------------- # ---------------
পরিশিষ্ট : -
চলুন, একটা দুর্দান্ত স্বপ্ন দেখে ফেলা যাক। .............. সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষে ঠিক রাত ১০টা ১৭ মিনিটের একটা বাসে মানুষ বাড়ি ফিরছে।.......... শাঁ শাঁ করে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে, দুপাশে কোনো আলো নেই। শুধু রাস্তার মাঝখানে একসারি মৃদু সোডিয়াম বাতি, আর বিশুদ্ধ অন্ধকার। ................. আপনি কিছু দেখতে পাচ্ছেন ?
--------------- # ---------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


