
করমজলের ভেতরে কাঠের রাস্তা।
নতুন জামা কাপড় পড়ে পুরা দুই ঘন্টা অপেক্ষা করার পরে এলো আমার সুন্দর বনে যাওয়ার পিকনিকের গাড়ি।অপেক্ষা যে বড়ই বিব্রতকার তা আরেকবার হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। ভ্রমন বিষয়ে আমি কখনও লিখিনি। গত বছরে কুয়াকাটায় গিয়েছিলাম সেটা নিয়ে লিখব লিখব করে এই যে বছর পার করে দিলাম। তবুও লেখা হয়নি। ৯টায় আমাদের বাস ছাড়ল মংলা সুন্দর বনের উদ্দেশ্য। অফিস কলিকদের সাথে এটি আমার দ্বিতীয় আনন্দ ভ্রমান। যাই হোক প্রিয় তপুদার পাশেই একটি সিট পেয়ে আমার যাত্রার আনন্দ আরও বেড়ে গেল।
বাসের সিটে বসতে না বসতেই ইব্রাহীম ভাই আমার কাছে হাজির। লটারি হবে তার জন্য আমাকে টিকিট কিনতে হবে। যদিও আমি লটারি কাটা পছন্দ করি না তবুও ইব্রাহীম ভাইকে না করতে পারলাম না। বলাম ভাই আপনার অনারে তিনটি টিকিট কাটলাম। টিকিট তিনটি তপুদার কাছে দিয়ে দিলাম। আমার কপালে কখনও লটারি ভাগ্য ভাল নাই। তাই নিজের ভাগ্য আর পরীক্ষা না করার জন্যই টিকিট গুলি হস্তান্তর করে দিলাম।
চারপাশের প্রকৃতি দেখতে দেখতে আর তপুদার সাথে গল্প করতে করতে ঘন্টা দুই পরেই আমরা মংলাতে পৌছে গেলাম।
বাস থেকে নেমে দেখি আরও অনেক পিকনিকের বাস চারিদিকে । অনেক দূর থেকে লোকজন এসেছে । একটি বাসের সামনে ব্যানার দেখলাম তারা বগুড়া থেকে এসেছে। মনে মনে ভাবলাম যাক আমাদের ওদের মত এত জার্নি করা লাগে নি। পিকনিকে মংলা সুন্দর বন যাচ্ছি এতটুকুই জানা ছিল। ওখানে গিয়ে জানলাম আমরা সুন্দরবন কমরজলে যাচ্ছি।করম জলের কথা আগেই কামাল ভাই ওরফে সাদা মনের মানুষের লেখার মাধ্যমে জেনেছিলাম।
করমজলের কথা শুনেই আমার কামাল ভাইয়ের কথা মনে পড়ে গেল।
আমার কাছে কোন ক্যামেরাও ছিল না ছিলনা কোন ভাল মোবাইল যার মাধ্যমে আমি ছবি তুলব। সুন্দর স্থানে বেড়াতে গিয়ে ছবি না তুললে খারাপই লাগে।
টলার আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। আমরা সকলেই টলারে উঠলাম করমজলের উদ্দেশ্য রওনা হওয়ার জন্য। সবাই টলারের ছাদে উঠতে চাইছে ভেতরের দিকে কেউ বসতে চাইছে না। আমি ভেতরেই বসে বাইরের প্রকৃতি দেখছিলাম। ২৫-৩০ মিনিট পরে আমরা করমজলে পৌছে গেলাম। এর মধ্যে আহাদ ভাইয়ের মোবাইল নিয়ে নেমে পড়লাম ছবি তুলতে। আহাদ ভাইকে বললাম আমকে যেন ছবি গুলি ফেসবুকের ইনবক্সে দেয় কিন্তু তিনি আজ পর্যন্ত তা দিতে পারেন নি। তিনি নাকি ফেসবুকের ইনবক্সে কি ভাবে ছবি দিতে হয় জানেন না!

করমজলের ভেতরে প্রথমে ঢোকার রাস্তা।
টলারে উঠেই আমাদের সকলের খুব ক্ষিদে পেয়েছিল। তাই প্যাকেট করে আনা বিরিয়ানি সবাইকে দিতেই আমিও সবার মত খেতে বসে গেলাম। খাওয়া শেষে খাবারে প্যাকেট নদীটাকে ডাষ্টবিন মনে করে তার মধ্য সকলে ছুড়ে ফেলছিল। আমার খাওয়া শেষে আহাদ ভাইকে বললাম ভাই কি করব? আহাদ ভাই বলে কি আর করবেন সকলে যা করছে তাই করুন। শেষে আমিও খাবারের খালি প্যাকেট নদীর জলে ভাসিয়ে দিলাম। পেছনে তাকিয়ে দেখি সাদা প্যাকেট গুলি সব নদীতে ভাসছে। আমাদের পরিবেশ সচেতনাতা দেখে সত্যি অবাক লাগছিল।

প্রিয় তপু দা।
করমজলে নেমে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম। চারিদিকে মানুষ আর মানুষ। বেশির ভাগ দেখি ছবি তোলায় ব্যাস্ত। মনে হচ্ছে এরা সুন্দর বনে শুধু ছবি তোলার জন্যই এসেছে।সামনে এগিয়ে যেতেই হরিন আর কুমিরের বাচ্চা দেখলাম। এখানে কুমিরের চাষ হয়।একটা পুকুর পাচিল দিয়ে ঘেরা তার মধ্যে একটি বড় কুমিরকে ঘুরে বেড়াতে দেখলাম।
আরেকটু সামনে এগিয়ে যেতেই কাঠের সেতু দেখালম বনের ভেতরে ঢুকে গেছে।আমি আর তপু দা সেই সেতু দিয়ে হাটতে লাগলাম। প্রচুর মানুষ সবখানেই। আমাদের দলের সবাই যে যার মত ঘুরতে লাগল। কাঠের সেতু দিয়ে হাটছি তো হাটছি ফুরাচ্ছেই না। তপু দা বলল, কি জন্য আসলাম কি আছে এখানে দেখার খালি গাছ ছাড়া। আমি তপু দাকে বললাম একটি বিষয় খেয়াল করেছেন আমরা অনেকক্ষণ ধরে হাটছি অথচ এই কাঠের সেতু শেষই হচ্ছে না আমার মনে হয় এটিই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাঠের সেতু। তপু দা বলল আমারও তাই মনে হয়। তাহলে মনকে এই বলে শান্তনা দিন যে সুন্দর বনে এসে আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাঠের সেতুটি দেখে গেলেন। আমরা সামনে এগিয়ে গেলাম। এই প্রথম বনে একটি বাদর দেখলাম।বাদটিকে দেখে খুবই অসহায় মনে হচ্ছিল। এক সময় আমরা ওয়াচ টাওয়ারের কাছে পৌছে গেলাম। এখানেও প্রচুর মানুষ।ভিড় ঠেলে আমরা উপরে উঠলাম। চারিদিকে তাকিয়ে সবুজ অরন্য ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ল না।আমরা ফিরতি পথ ধরলাম। তিনটার দিকে আমরা রওনা দিলাম করমজল থেকে।

করমজলের হরিন।

হরিনকে খাবার খাওয়াচ্ছে দর্শনার্থীরা।

শান্তনু দার সাথে আমি তবে আমি কোনটা কইতাছি না পারলে বুইঝা লন।

ফেরার সময় পথের ধারে ফুটে থাকা নাম না জানা ফুল।

ফুলের ছবি কিন্তু আমি তুলছি হু।
যে ভাবে মানুষ করমজলে যাচ্ছে আর আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে তাতে করে সুন্দর বনের কি পরিমান ক্ষতি হচ্ছে তা আমরা হয়তো আচ করতে পারব না। তবে ভবিষ্যতে যে এ কু প্রভাব সুন্দর বনের উপর পড়বে না তা বলা যাবেনা।
সুন্দর বনে যারা বেড়াতে যায় তাদের উপর কড়া নজর দারি করতে হবে। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা নিষেধ করা ছাড়াও সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নানান উদ্যেগ সরকারকেই নিতে হবে।
আমরা যারা সুন্দর বনে যায় তারা সকলেই একটি সুন্দর মন নিয়েই ঘুরতে যায়। কিন্তু আমরা সেই সুন্দর মনের পরিচয় সুন্দর বনের সাথে দেখাতে পারিনা।
আপনারাও সুন্দর বনে ঘুরে আসুন। আমাদের সুন্দর বন আসলেই একটি সুন্দর বন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



