somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"মশা সমস্যা সমাধানে ঢাকার সিটি মেয়রদ্বয়ের ব্যর্থতা ও দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি; সমস্যা সমাধানে সরকারের জন্য একটি প্রস্তাবনা "

০৫ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৩:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
************* সবাই মিলে পথে নেমে পড়ি; ঢাকা শহরকে মশার উৎপাত মুক্ত করি ********************



প্রত্যেক দেশে বা সমাজে কিছু-কিছু সমস্যা আছে যেগুলো পৃথিবীর কোন সরকার বা বাহিনীর পক্ষে একাই সমাধান করা সম্ভব হয় না। ঢাকা শহরের মশা সমস্যা তেমনি একটি।

"মশা সমস্যা সমাধানে ঢাকার সিটি মেয়রদ্বয়ের ব্যর্থতা ও দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি; সমস্যা সমাধানে সরকারের জন্য একটি প্রস্তাবনা " শিরোনামে একটি ব্লগ লিখেছিলাম ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। মশা নিধনের সে প্রস্তাবনাটি আবারও তুলে ধরলাম।

ঢাকা শহরে প্রতিবছর বর্ষার সময় যেভাবে ম্যালেরিয়া, ডেংগি ও এবছরের থেকে যোগ হওয়া চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে বা কষ্ট ভোগ করতেছে তাতে করে সময় এসেছে ১লা বৈশাখ বা একুশে ফেব্রুয়ারির মতো বছরের একটি দিনকে জাতীয় মশক নিধন দিবস ঘোষণা করার।

নির্দিষ্ট করে এই দুইটি দিবসের কথা বলার কারণ হলো এই দুইটি দিন দল-মত-বয়স ভেদে দেশের জনসংখ্যার বিশাল একটা অংশ পালন করে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয় বাসা থেকে বের হয়ে অংশ গ্রহণ করে। মশক নিধন দিবসে একই ভাবে সবাই ঢাকা শহর পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করবে। বাবা-মায়ের নেতৃত্বে সন্তানরা, অফিসের বসের নেতৃত্বে কর্মীরা, স্কুল-কলজের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে ছাত্র-ছাত্রীরা, সেনা-নৌ-বিমানবাহিনীর প্রধানদের নেতৃত্বে সৈনিকরা ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী-এমপিরা।

১লা বৈশাখের উৎসবটি যেমন করে সার্বজনীন হয়ে উঠেছে তেমনি করে মশক নিধন দিবসটিকে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে হবে। ডেঙ্গু রোগের পোষক মশা কামড়ানোর সময় কে রিকশাওয়ালা, কে পুলিশের ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তার স্ত্রীর তা দেখে কামড়ায় না। তাই দল-মত, সরকারি কর্মকর্তার পদমর্যাদা ভুলে গিয়ে সকল মানুষকে মশক নিধন দিবসে মাঠে নামে নিজ হাতে মশক নিধনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। এই দিবসটি যেন সরকারি কর্মকর্তাদের র‌্যালির সামনে ব্যানার ধরে শো-অফ করা কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সম্মেলন কক্ষের তাওয়ালা দেওয়া চেয়ারে বসে আলোচনা সভায় সীমাবদ্ধ না থাকে যে কাজগুলো বাংলাদেশের বেশিভাগ আমলারাই করে থাকেন।


ছবি: উজবেকিস্তানের স্কুল ছাত্রীরা মাঠে তুলা আহরণ করছেন (ছবি সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস)

মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের প্রধান রপ্তানি দ্রব্য হলও তুলা যেমনটি ছিলও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পাট ১৯৭০-১৯৮০ দশকে। বিশ্বে অনেক দেশে প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীদের সামরিক ট্রেনিং নেওয়া বা সামরিক বাহিনীতে নির্দিষ্ট সময় চাকুরী করা বাধ্যতামূলক। উজবেকিস্তানে তেমনি একটা আইন আছে তবে সেটা হলও তুলা আহরণে স্বেচ্ছা শ্রম দেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রতিবছর তুলা আহরণের সময় সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষকে (স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কেউই ঐ আইনের ব্যতিক্রম না) মাঠে গিয়ে তুলা আহরণ করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কেউ তুলা আহরণের কাজ করতে না চাইলে ঐ সময়ের জন্য সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মাইনে দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করতে হবে, যারা তার পক্ষে তুলা আহরণ করবে।

In Uzbekistan, the Practice of Forced Labor Lives On During the Cotton Harvest

Every year the government of Uzbekistan forcibly mobilizes over a million citizens to grow and harvest cotton

ঢাকা শহরের মানুষকে মশা বাহিত রোগ ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া ও এবছরের নতুন প্রাদুর্ভাব ডেংগি থেকে রক্ষা করতে চাইলে উজবেকিস্তানের তুলা আহরণের মতো বাধ্যতামূলক আইন করার জন্য সরকারকে ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।


************* সবাই মিলে পথে নেমে পড়ি; ঢাকা শহরকে মশার উৎপাত মুক্ত করি ********************




সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৩:২৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন রহস্যময় !

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪



মনে করেন আপনি জন্ম নেন নাই। যেহেতু নিজের জন্মের উপর আপনার কোন হাত নাই । সেহেতু সে ক্রেডিট আপনি নিতে পারেন না। তো জন্ম না নিলে কি হতো ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

» মানুষ, ভুত পেত্নি জীন সাপ দেখতে হলে ঢুকে পড়ুন নির্দ্বিধায়..(ফান পোষ্ট)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪

১। দাদী বুড়ি :D



©কাজী ফাতেমা ছবি
=ফ্রেমবন্দির গল্প=
নেই কাজ তো খই ভাজ্, যদিও আমার ক্ষেত্রে কথাটা সত্য না। কাজে কামে ব্যস্ততাতেই বেশী থাকতে হয়। কিন্তু বুড়া বেডি আমি মন যেনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদূরদর্শিতা, অবিশ্বাস এবং দুর্ভাগ্য - ২য় পর্ব

লিখেছেন মাহের ইসলাম, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯



প্রথম পর্বের লিংক অদূরদর্শিতা , সন্দেহ এবং দুর্ভাগ্য

দুই
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে উপজাতি সম্প্রদায়কে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো সম্পৃক্ত করেনি বলে অভিযোগের সুর শোনা যায়। এমনকি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবীজি - হুমায়ুন আহমেদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১১



‘আরব পেনিনসুয়েলা। বিশাল মরুভূমি। যেন আফ্রিকার সাহারা। পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে পার্শিয়ান গালফ। উত্তরে প্যালেস্টাইন এবং সিরিয়ার নগ্ন পর্বতমালা। সমস্ত পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। এখানে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের কথা বলে এদের পাত্তা দিবেন না।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০১


আমাদের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা এবার নতুন করে উঠছে না। তবে হ্যাঁ, এবারের মত প্রচার হয়তো আগে হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করার পর খন্দকার মোশতাক ২৫শে আগস্ট অর্থাৎ দশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×