প্রাক্তন এমা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বর্তমানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এ.আই.ইউ.বি.) নিয়ে কিছু কথা লিখতে ইচ্ছা হলো। তবে এগুলো কোন গল্প নয়। আমার ঐ ইউনিভার্সিটিতে পড়া কিছু বন্ধুদের কাছ থেকে শোনা সত্য কথাই লিখছি আজ আমি। 1997 এর কোন এক টাইম পিরিয়ডে ঐ ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদের একটি লিগাল আন্দোলন হয় এবং ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে মাস্তান ভাড়া করে ছাত্রদের আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হয়। ট্রান্সফার নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা দিয়ে ইউনিভার্সিটি ছেড়ে চলে যায় কিছু স্টুডেন্ট। আজ প্রায় 10 বছর পর ঐ কথাগুলো ব্লগ আকারে লিখে রাখার চেষ্টা করছি শুধু স্মৃতিচারণের জন্যই নয় বরং সকলকে জানানোর জন্য যে, কি কি ঘটেছিল এই ইউনিভার্সিটিতে এর গোড়াপত্তনের দিকে। গোপনীয়তা রক্ষার্থে ক্ষেত্রবিশেষে, আসল নামের পরিবর্তে ছদ্ম নাম ব্যবহার করা হল।
ঘটনা 1
এ কথা অজানা নয় অনেকেরই যে এ.আই.ইউ.বি. এর, মসফেট ও জেফেট নামের দুই ডিরেক্টর এইচ.এস.সি পাশ। এর পর ফিলিপাইন চলে গিয়ে কি করেছেন তারা জানি না তবে সমাবর্তনের সময় কেন তারা গাউন এবং মাথায় টুপি পড়েন, তা আমার বোধগম্য নয়। ফিলিপাইনি মহিলা ভি.সি.-এর সাথে রয়েছে জেফেট -এর একরকম বৈধ(!) লিভিং টুগেদার সম্পর্ক যা ঐ ইউনিভার্সিটির দারোয়ান-বুয়া সবাই জানে। ওহ, বলা হয় নাই যে, মহিলা ভি.সি.-এর দুই মেয়ে আছে!
ঘটনা 2
মসফেট ও জেফেট নামের দুই ডিরেক্টর কিছু পি.এইচ.ডি. প্রফেসরদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা একরকম অভ্যাসে পরিণত করলে ঐ প্রফেসরগণ সাধারণ ছাত্রদেরকে আন্দোলনে লেলিয়ে দেন। ইস্যু হিসেবে দেখানো হয়, লাইব্রেরীতে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অব্যবস্থা ইত্যাদি। এ ব্যাপারে প্রফেসারদেরও দোষ দেয়া যায় না কারন, কোন ইন্টারমিডিয়েট পাস করা ব্যাক্তি যদি পি.এইচ.ডি ডিগ্রীধারীদের সাথে অনবরত খারাপ ব্যবহার করতে থাকে, তাহলে কাহাতক সহ্য করবেন তারা? রক্ত গরম তরুণ ছাত্ররাও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষাগ্রহন করল নিজেদেরকে সংশোধন করে নেওয়ার; মাঝখান থেকে মাস্তান ভাড়া করে ছাত্রদের সাথে গোলমালে লিপ্ত হল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু ছাত্র-ছাত্রী অনিশ্চিত ভবিষতের দিকে পা বাড়াল।
ঘটনা 3
মসফেট ও জেফেট নামের দুই ডিরেক্টর মেয়ে পিপাসী। ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক ছাত্রীর বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি। এমিটার নামের ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী মসফেট তাকে প্রেম নিবেদন করে এবং বিয়ে করতে চায়। আবার ডিরেক্টর জেফেট- ও ঐ ছাত্রীকেই প্রেম নিবেদন করে। একটি কথা বলা হয়নি যে মসফেট এবং জেফেট দুই আপন ভাই! চলতে থাকে এমিটার-এর প্যারালাল প্রসেসিং মসফেট ও জেফেট-এর সাথে!! এখন এমিটার নামের ঐ ছাত্রীটি একদিন একইসাথে দুই ভাইকে একটি কক্ষে ডেকে এনে দুই জনের ঘটনা দুই জনকেই বলে দেয় এবং সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ডিরেক্টারদের এই অবস্থার কথা পত্রিকার মাধ্যমে সারা দেশবাসীকে জানিয়ে দিবে বলে ভয় দেখায়!! বিপাকে পড়ে যায় দুই ভাই। অবশেষে ছাত্রীর হাতে পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে কাউকে কিছু না বলতে বলে তারা ব্যপারটি মিউচুয়াল করেন এবং ঐ ছাত্রীর চার বছরের টিউশন ফি বলতে গেলে প্রায় পুরোটাই মওকুফ করে দেন!!!
ঘটনা 4
তৎকালীন সময়ে এমা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষক (পি. এ্ইচ. ডি), সিমোস নামের এক ছাত্রীর প্রেমে মাতোয়ারা হন। ভাল কথা, হতেই পারেন। কিন্ত ঐ প্রফেসর সিমোস নামের ছাত্রীকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল এর মাধ্যমে একদিন নিরালায় পেয়ে ধর্ষন করতে উদ্যত হন! বলা বাহুল্য, অসহায় ছাত্রীটিকে রক্ষা করার মতো কেউ ঐ ঘটনাস্থলে ছিল না। তবে ছাত্রী সিমোস-ও কম যায় না! ডিরেক্টর মসফেট ভাই না কি, ক্লাসে প্রায়ই ছোট-খাটো ভাষণ দিতেন এবং এরকম এক ভাষণে কথা প্রসঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তিনি বলেছিলেন যে, "ধর্ষণ যখন অনিবার্য, তখন তা উপভোগ করাই শ্রেয়"!!! মসফেট ভাইয়ের এই মহান বাণীতে উদ্ভাসিত ও উদ্দেলিত হয়ে ছাত্রী সিমোস তখন নিজেকে ঐ প্রফেসরের কাছে তার স্বর্বস্ব বিকিয়ে দিতে উদ্যোত হলে, প্রফেসর হতবাক হয়ে পড়েন এবং বিবেকের তাড়নায় দংশিত কিংবা অবাক হয়েই সিমোস নামের ছাত্রীকে ছেড়ে দেন। আফটার অল হি ওয়াজ আ পি. এ্ইচ. ডি. তাইনা? বলা বাহল্য যে এটা সম্পূর্নই ঐ ছাত্রীর বক্তব্য।
বর্তমানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এ.আই.ইউ.বি.)- এর শ্লোগান হল " হোয়্যার লিডারস আর ক্রিয়েটেড"। ক্রিয়েটরস অফ লিডারদেও গোড়া যদি হয এই, তবে কি ধরনের ইন্টিগ্রিটি সম্পন্ন লিডার এ.আই.ইউ.বি. তে তৈরি হচ্ছে, প্রকৃতিই জানে! আর আমার উপরে বর্ণনা দেওয়া ঘটনা ছিল এই বিশ্ববিদ্যায়ের গোড়াপত্তনের সময়কার বাস্তব চিত্র।
আমি আগেই বলেছি যে, প্রায় বছর দশেক আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো আমার ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কিছু বন্ধুর কাছ থেকে শোনা কাহিনী মাত্র, যা আমি এই লেখার মাধ্যমে সকলের সাথে শেয়ার করতে চেয়েছি। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এ.আই.ইউ.বি.)- এর প্রতি আমার কোন ব্যাক্তিগত ক্ষোভ, রাগ, বা সম্পর্ক নেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কোন ছাত্র- ছাত্রী এই লেখাটি পড়ে মনে দুঃখ পেলে, আমি দুঃখিত। কারন বাস্তব সত্য বড়ই করুণ এবং নির্মম।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই লেখাটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এ.আই.ইউ.বি.)- কে হেয় প্রতিপন্ন বা ছোট করার জন্য বা কাউকে কোন রকম ব্যক্তিগত আক্রমনের জন্য লেখা হয় নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


