somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার শিক্ষাগুরু

২৮ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন শিক্ষার্থীর সোনালি দিন হল তাঁর স্কুলজীবন, এই স্কুলজীবনই তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। ভবিষ্যতে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার মূলে রয়েছে এই স্কুলজীবন। আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি, কারন আমার স্কুলজীবনে আমি সেই সব শিক্ষক-শিক্ষিকার সান্নিধ্য লাভ করতে পেরেছি যারা শুধু আমার শিক্ষক-শিক্ষিকাই ছিলেন না, ছিলেন আমার অভিভাবকও। তাই তাঁদের স্থান আমার পিতা-মাতার সমান। তাঁদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন তিনি হলেন “গোলজার আহমদ খান” আমার “গোলজার স্যার”। আমি সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, স্কুল মানেই পরাশুনা, খেলাধুলা, দুরন্তপনা আর এই সবকিছুর মধ্যে শিক্ষকদের আদর ও তিরস্কার। গোলজার স্যারকেই প্রিয় শিক্ষক বলার কারণ হল তাঁর মধ্যে যে গুণাবলী গুলো ছিল তা ছিল অনুকরণীয়, যা সচরাচর সবার মধ্যে ছিল না। তিনি একদিকে যেমন ছিলেন কঠোর তেমনি ছিলেন কোমল। তাঁর সাথে প্রথম দেখা হয় আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, তিনি আমাদের বিজ্ঞান পড়াতেন। তাঁর পড়ানো আমাদের মন্ত্রমুগ্ধ করত, শুধু তাই নয় তাঁর বচনভঙ্গি আমাদের এতই আকৃষ্ট করত যে, সব পড়াই আমরা সহজে আয়ত্ত করতাম। তিনি সবসময় আমাদের বলতেন তোদের সব পড়তে হবে, জানতে হবে, জ্ঞানের এই অসীম ভাণ্ডার তোদের উপলব্ধি করতে হবে। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের মধ্যে যে চেতনা লক্ষণীয় তার সবটুকু ছিল স্যার এর মধ্যে যা তিনি নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিলিয়ে দিতেন তাঁর ছাত্রদের মধ্যে। স্যারকে আরও পাশে পাই যখন আমি দশম শ্রেণীতে, তখন স্যার ছিলেন আমাদের শ্রেণী শিক্ষক। একজন শ্রেনী শিক্ষক হিসেবে যে দায়িত্ব তাঁর ছিল, আমার মনে হয় তাঁর চেয়েও বেশী দায়িত্ব স্যার আমাদের ক্ষেত্রে পালন করেছিলেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের ছদ্মনামে ডাকতেন এতে আমাদের প্রকৃত নাম যেমন, শীর্ষেন্দু, মাহীন, অপু, রাহুল, দেবাশীষ বদলে হল যথাক্রমে শীর্ষ ছেলে, রত্ন ছেলে, দেব ছেলে, রাতুল, বিশ্ব ছেলে ইত্যাদি। এভাবে আরও অনেকের নাম বদলে গেল। তাঁর প্রশংসা করার মাত্রা ছিল অন্যধরনের, কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সাথে সাথে বলতে থাকতেন “বাঃ বাঃ দেখছ দেখছ” যা আমাদের কাছে প্রেরণার উৎস ছিল। তাঁর বচনভঙ্গি এতটাই মধুর ছিল যে, পড়াশুনাটা আমাদের কাছে বোঝা না হয়ে আনন্দদায়ক হত। তবে তিরস্কারের ক্ষেত্রেও তিনি কোঠর ছিলেন কোন কিছু ভূল করলে একটি কথাই শুধু বলতেন “পিঠের চামড়া তুলে ফেলব” যা আমাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করত। খেলাধুলা, বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় স্যার আমাদের উৎসাহ দিতেন অংশগ্রহনের জন্য শুধু তাই নয় বি.এন.সি.সি, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট ইত্যাদি সংগঠনের সদস্য হিসেবে আর্তমানবতার সেবায় ছাত্রদের ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান করতেন। বই পড়তে তিনি সর্বদা ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করতেন তাইতো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের “বই পড়া কর্মসূচিতে” আমাদের ছিল সফল অংশগ্রহন। তিনি আমাদের মানুষের মত মানুষ হবার প্রেরণা দিয়েছেন, শুধু তাই নয় জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছেন। শিক্ষকদের মুখ্য কাজ যদি শিক্ষাদান হয়, আমি মনে করি স্যার আমাদের শিক্ষার পাশাপাশি জীবনের মূল উদ্দেশ্য খোঁজার উৎসাহ দিয়েছেন। আজ আমার এই এতদূর পর্যন্ত আসার মূলে রয়েছে স্যার এর অবদান। স্যার আপনি সুস্থ থাকেন এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা কারণ আমাদের মত অগণিত শিক্ষার্থী আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৪:৩৮
৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কাহ চুক্তি কি ?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯



মক্কাহ চুক্তি লেখা হয়েছে আরবি ভাষায়। বাংলাদেশের পত্র পত্রিকা - পূর্ণাঙ্গ “মক্কাহ চুক্তি” বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করছে না কেনো ? দেশের মানুষ কিভাবে জানবে এই চুক্তিতে কি লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ঢাকার হারানো গন্ধ

লিখেছেন রাজসোহান, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৯



নাজিরাবাজারের মোড় থেকে যে গলিটা ভেতরের দিকে সেঁধিয়ে গেছে, ঠিক তার মুখে শামসুর দোকান। দোকান বলতে সাড়ে চার হাত বাই সাত হাত কুঠুরি, সামনে কাচের শোকেস, শোকেসের ভেতরে সাজানো শিশি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×