ভাবলাম বাঙ্গালী পাকিস্তানি নিয়ে কিছু একটা লেখার আগে একটু প্রস্তুতি নিয়ে (রান্না করার আগে মাল মসলা যোগাড় করা..) করি। মূলতঃ সময়ের হিসাবে দুই পর্বে এদের ভাগ করা যায়। একটা প্রাক ৭১ এবং আরেকটা ৭১ পরবর্তী সময়কাল।
প্রাক ৭১ সময়কালঃ
এই সময়কালে যেসব বাঙ্গালী পাকিস্তানের সপক্ষে কাজ করেছে তারা হলো,
/পশ্চিম বঙ্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা ঘটি (যেমনঃ "বদ"রূদ্দিন উমর, আবদুল্লাহ আবু সাইদ, কবি গোলাম মোস্তফা, কবি ফররুখ আহমদ, কবি বেনজীর আহমদ...)।
/বাঙ্গাল বা এদেশে জন্ম নেয়া বাঙ্গালী (যেমনঃ ফরহাদ মজহার, সলিমুল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম চৌধরী, দিলারা চৌধুরী যার স্বামী জিডব্লিউ চৌধুরীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিলো....)
/পাকিস্তান প্রত্যাগত বাঙ্গালী সেনা অফিসার (এই যেমন "ফাহাম আবদুস সালামের বাপ"..., শাখাওয়াত হোসেন, এরশাদ....)
/ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক আর্দশে বিশ্বাসী বাঙ্গালী (জামায়াতে ইসলামি, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামি, পিডিপি....)
/চীনপন্থি বাম বা চিংকু বাম বাঙ্গালী (যারা ভারত ও রাশিয়াকে আধিপত্যবাদী মনে করতো আর বাংলাদেশি বনাম দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর লড়াই কে বলতো দুই শুয়োরের লড়াই)

৭১ পরবর্তী সময়কালঃ
প্রাক ৭১ সময়কালের রথী মহরথীরা কোনরূপ বাধা বিঘ্ন ছাড়াই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে তাদের বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে গেছে। এদের মিছিলে যোগ দিয়ে যারা বাংলাদেশ বিরোধীদের কলেবর বৃদ্ধি করেছে তারা হলো,
/জামায়াতে ইসলামি, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামি, পিডিপি... এদের বংশধর বা আন্ডা বাচ্চা (গোলাম আজমের ছেলে আজমী, নিজামীর ছেলে, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান (মোমেন), নাদিম তালহা, সাইদীর ছেলেরা যেমনঃ মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী.....)
/পাকিস্তান প্রত্যাগত সেনা অফিসারদের বংশধর বা আন্ডা বাচ্চা (এই যেমনঃ ফাহাম আবদুস সালাম....)
/পাকিস্তানপন্থী ঘটিদের বংশধর বা আন্ডা বাচ্চা
[sb/]পাকিস্তানপন্থী বাঙ্গালদের বংশধর বা আন্ডা বাচ্চা
উপরে বর্নিত লাল বদর/রাজাকার/বাঙ্গালী পাকিস্তানিরা organic বা প্রাকৃতিক ভাবেই এমন। মানে জিনগত ভাবে আম গাছে আমই ধরবে, কাঠাল তো ধরবে না। রাজাকারের বাচ্চারা, নাতি পুতিরা রাজাকারেরই legacy বহন করবে, এটাই স্বাভাবিক।
স্বাধীনতা পরবর্তী পর্যায়ে তৃনমূল পর্যায়ে বাঙ্গালী বাংলাদেশীদের বাঙ্গালী পাকিস্তানিতে রূপান্তরের জন্য জামায়াতে ইসলামী "হিরক রাজার দেশের যন্তর মন্তর (মগজ ধোলাইলের যন্ত্র/প্রক্রিয়া/পদ্ধতি/indoctrination)" চালু করে যা আমরা,
/ফুলকুড়ি আসর,
/বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবির,
/বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রী সংস্থা নামে চিনি।
ফি বছর এক পাল বাঙ্গালী বাংলাদেশী এই সব সংগঠনের এক প্রান্ত দিয়ে ঢোকে আর বেরোয় বাঙ্গালী পাকিস্তানি হিসেবে।
এই বাঙ্গালী পাকিস্তানিরা জন্মগত ভাবে inorganic/artificial/synthetic কারন এদের বাপ মা বা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে হয়তো কেউই ৭১ এ বাঙ্গালী পাকিস্তানি ছিলো না। কিন্তু ঐ জামায়াতিদের যন্তর মন্তরে পড়ে এরা হয়ে গেছে বাঙ্গালী পাকিস্তানি।
বিহারী পাকিস্তানি থেকে বাঙ্গালী পাকিস্তানি............ - (সূচনা)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





