আমি আসলে আজ ঢুঁ-মারা বাকভঙ্গি নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম। লিখতে বসে দেখি ঢুঁ-মারা শব্দটা আমার প্রাত্যহিক জীবনে দারুনভাবে প্রভাব ঘটিয়েছে। ঢুঁ-মারা নিয়ে লেখা শুরুর আগে আমার জীবনে এই শব্দের প্রভাব নিয়ে কিছু কথা।
আমার এক সহপাঠী বন্ধু দু-তিন মাস যাবৎ আমায় ব্লগে আসতে বলছিল। আমি ভেতর থেকে তেমন একটা সাড়া পায়নি; তাই 28 জুলাই-এর পূর্ব পর্যন্ত ইন্টারনেট এঙ্প্লোরারের অ্যাড্রেস বারে কখনো ব্লগের ঠিকানা লেখা হয়নি। লিখবো কি করে অ্যাড্রেসই তো জানতাম না! কিন্তু ঐদিন সহপাঠী বন্ধুটির কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে ভাবলাম একবার ঢুঁ-মেরে দেখি। যেই ভাবনা সেই কাজ। আমার নিজস্ব ব্লগ রেজিস্টিকৃত করলাম। নেশায় পেয়ে বসলো। 28 তারিখ হতে আগস্টের এই প্রথম দিন পর্যন্ত এ পোস্টখানা সহ মোট পোস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে 19-এ। জনৈক ব্লগারের ভাষায় প্রসবে প্রসবে ভারাক্রান্ত ব্লগ। এই ঊনিশখানা পোস্টের একটাতেও আমার বলা হয়নি 'অবশেষে এলাম তোমাদের দোরগোড়ায়, নেবে কি আমায়?' ভেবেছিলাম একবার ঢুঁ-মেরেই যাত্রায় দাড়ি টানবো। কিন্তু এখানে এসে দেখি অন্য এক জগৎ। অনায়াসে সময় কেটে যায়। কখনোই বোরিং মনে হয় না। ঢুঁ-মারতে এসে আমি আমার একাকীত্বের একটা দারুন সঙ্গী পেয়ে গেছি। অসংখ্য ধন্যবাদ আমার সেই সহপাঠী বন্ধুকে। আর আমার সেই না বলা কথাটা বলতে ইচ্ছে করছে খুব। আমি কি একটু বেশি দেরি করে ফেলেছি???
যাহোক এবার মূল লেখায় চলে যাই- যার জন্যে এতো কথা। ঢুঁ-মারা বাকভঙ্গিটার উৎপত্তির জন্য সাহায্য নিয়েছি শব্দের চালচিত্র গ্রন্থ হতে।
ঢুঁ-মারা
যে অর্থে ব্যবহৃত হয়ঃ
খোঁজখবর নেয়া। প্রায় উদ্দেশ্যহীনভাবে কোথাও কিছুক্ষণের জন্যে যাওয়া।
উৎপত্তিঃ
গরু কিংবা ছাগল প্রায়ই শিং দিয়ে যত্রতত্র গুঁতো মেরে বেড়ায়। গুঁতো মারার কায়দাটাকে আমরা ঢুষ শব্দ দিয়ে প্রকাশ করে থাকি। এই ঢুষ মারা থেকেই ঢুঁ-মারা বাকভঙ্গির উৎপত্তি। গরু-ছাগলের ঢুঁ-মারাটা একেবারেই স্বল্পস্থায়ী। তাই শিং না থাকা সত্ত্বেও মানুষ যখন কোথাও ক্ষণিকের জন্য উঁকি দিতে যায় তখন গরু-ছাগলের ঐ স্বল্পস্থায়ী ঢুঁ-মারার কথাই চিত্রকল্পরূপে আমাদের মুখের কথায় প্রয়োগ হয়।
_____________________________________________
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



