somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশী মানবতা!- কাঁদতে দে... কাঁদতে দে...

১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একখানা ইট যদি পাওয়া যেতো
নোংরা মুখটা করতাম থেঁতো
ভাবতে ভাবতে গেলো একজন
ক্ষত-বিক্ষত ছেলেটার দিকে...

সেদিন পত্রিকায় একখানা খবর দেখে মনটা আবারো বিষিয়ে উঠলো। কেনো আমরা মানবতাকে বিসর্জন দিই, কেনো ভুলে যাই "পাপী নয়, পাপকে ঘৃণা করো"। ঘটনাটা ছিলো এরকমঃ

বাজারে ছুটে যাওয়া মুরগি ধরার মতো করে চারজন লোক দৌড়াচ্ছিলেন সামনের দিকে। যানবাহনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে খুঁজছিলেন কাউকে। কিছুক্ষণ পর একটি বাসের আড়াল থেকে এক হেরোইনসেবী বের হতেই তাকে পাকড়াও করলেন তারা। শুরু হলো চারজনের ধোলাই। চারজনের একজন বয়স্ক। সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা ও টুপি পরা এ লোকটা এক খন্ড ইট নিয়ে মারতে লাগলেন হেরোইনসেবীকে। কিছুক্ষণ পর ক্লান্ত হয়ে পেটানো থেকে ক্ষান্ত দিলেন তারা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। যাত্রাবাড়ি গিয়ে গাড়ি জ্যামে আটকা পড়ে। তখনই সবার সামনে সামনে গাড়ির সামনের 'লুকিং গ্লাস' খুলে পালাচ্ছিল এই নেশাখোর। সবাই মিলে আচ্ছামতো ধোলাই দিয়ে ফিরিয়ে নিল গ্লাসটি। তাদের যাওয়ার পরও হেরোইনসেবীকে পেটাচ্ছিল জড়ো হওয়া লোকজন। চোরের একটু বাঁচার চেষ্টাও নেই, নেই শরীরে শক্তি। অনেকে ভাবছে মরে গেছে কিনা। একজন শব্দ করলো, "পুলিশ আসছে!" এ কথা শুনে সরে পড়তে লাগলো সবাই। একটু পরেই ক্ষত-বিক্ষত লোকটা এদিক-ওদিক তাকিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটতে লাগলো। ...

এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। শুধু নেশাখোর চোর কেনো, পকেটমার, ছিনতাইকারি ইত্যাদি ধরা পড়লেই গণপিটুনির শিকার হয়; হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই ফাঁকে সবাই চাই মনের ঝাল মিটিয়ে নিতে। আইনের হাতে তুলে দেয়ার কথা মনে আসে না; আসবেই বা কেনো? আইনের লোক তো বড়ো চোর। কিন্তু সেখানে আমরা নীরব। কারণ তারা লাইসেন্সধারী চোর। আরে আমি তো অন্য পথে চলে যাচ্ছি! যা বলছিলাম- আমরা সবাই জানি এদের মেরেকেটে লাভ নাই। তবুও মারি। অপরাধকে নির্মূল করার লক্ষ্যে মেরে যাই। মানবতার দোহাই দিয়ে কোনো লাভ নেই। যতই বুলি আওরাই না কেনো- "অপরাধী নয়, অপরাধকে ঘৃণা করো"। ব্যাপারটা যে শারীরিকভাবে মানে গায়ের জোরে নির্মূল হবে না- এ-ও আমাদের অজানা নয়। তবুও একটাকে পেলে আচ্ছামতো ধোলাই দেয়া চাই। পারলে একেবারে নরকের দুয়ারে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু আমরা কি নিশ্চিত যে, এ চোরটা নরকেই যাবে! এই না হলো লেখকের ধরণ! শুধু লেন পাল্টে অন্য লেনে চলে যাওয়া চাই। যাহোক আবার ফিরে আসি। আসলে মাথার ভিতর এতো কথার ঝড় ওঠে যে মাঝেমধ্যে তাল হারিয়ে ফেলি।

লেখার আকার বেশ বড়ো হয়ে গেলেও এখনো মূল কথাই হয়তো পাঠককে বোঝাতে পারেনি। যখন চোখের সামনে ভেসে উঠে ডজনখানেক মানুষ একজন মানুষকে পেটাচ্ছে তখন আর সহ্য হয় না। বিরুধিতাও করতে পারি না, পাছে নিজে মার খাই। তাই "পুলিশ! পুলিশ আসছে!" বলে আড়ালে চিৎকার করে ওঠি। যদি একটু বাঁচানো যায় মার খাওয়া মানুষটাকে। আর মন মনকে বলে ওঠে, কাঁদতে দে... কাঁদতে দে...

একটি শিকড়, স্থির যেন সে সেই শিকেড়ের মতো
যে চায়, কাড়ে, শিকড় বাড়ে- হাতের ছোঁয়া চোখের আড়ে
পাতালে যায়, পাতালে যায়... দুরন্ত, সংহত
একটি শিকড়, স্থির যেন সে সে-ই শিকড়ের মতো।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×