somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চায়ের কাপের তলে কোরআনের অবমাননা প্রসঙ্গে

১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চায়ের কাপ রাখার কারনে কোরআন অবমাননার ধুঁয়া তুলে অনেক কথা হচ্ছে; কয়েকটা লাশ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। কিন্তু আসুন ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে দেখি যে কোরআনকে আসলেই অবমাননা করা সম্ভব কিনা।

প্রথমেই মুহাম্মদকে দিয়ে শুরু করি। তার করা কিছু কাজ।
মনে করে দেখুন; বিভিন্ন দেশের প্রধানদের কাছে মুহাম্মদ কিন্তু চিঠি আকারে কোরআনের আয়াত লিখে পাঠাতেন। সেসব চিঠি এখনো বিভিন্ন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রধানেরাই মুহাম্মদের সেই চিঠি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে টয়লেটে নিক্ষেপ করেছিলেন। মুহাম্মদ কিন্তু জানতেন যে এমনটা হতেই পারে; তবুও তিনি কেন কোরআনের আয়াত চিঠি আকারে লিখে পাঠালেন?
তিনি কোরআনের আয়াত লিখে তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন এর কারন কোরআনের আয়াত লেখা পাতার তেমন আলাদা কোন গুরুত্ব নেই; গুরুত্ব আছে ভেতরে লেখা কথা গুলোর।

এবার আসুন অন্যভাবে বিষয়টা তলিয়ে দেখি।
কোরআন পড়তে বা ধরতে হলে নাকি উজু করতে হয়। এমন আজব কথা কোরআনে তো দূরে থাক কোন জাল-জঈফ হাদিস থেকেও কেউ দেখাতে পারবেন না। কোরআন ধরতে হলে বা পড়তে হলে উজু করতে হবে এমন নির্দেশ ইসলামে নেই।
অনেকেই এই বিষয়ে একটা আজব হাদিস শোনাই। ওমর যখন খোলা তলোয়ার হাতে তার বোন এবং বোন জামাইয়ের বাড়ি জান তাদের ইসলাম গ্রহণের অপরাধে হত্যা করতে তখন ওমর কোরআনের সুমধুর বানি শুনে কোরআনের প্রেমে পড়েন। যখন তিনি তার বোনকে বইটা তার হাতে দিতে বলেন তখন তার বোন বলেন যে, "আপনি ওজু করে আসুন; তার পর পাঠ করুন"।
আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি; উক্ত হাদিসটা সহি মুসলিমে থাকলেও "উজু করে আসুন" অংশটি দুনিয়ার কোন হাদিসে নেই।

কোরআন থেকে আরেকটি আয়াত আনা হয় কোরআন উজু করে ধরা প্রসঙ্গে।
সেটি হল "ইহা পবিত্র কিতাব; পবিত্রতা ছাড়া যা কেউ স্পর্শ করতে পারে না"। এখানেও গলদ; কারন একটু আগে পিছের আয়াত গুলো পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন যে এখানে কোরআন বলতে লাওহে মাহফুজের কোরআনের কপির কথা বলা হয়েছে যা কেউ পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করতে পারেনা। পৃথিবীতে থাকা কোরআন স্পর্শ করতে কোন ওজু ফজুর দরকার নেই; আর ১০ টি সাধারন বইয়ের সাথে এর কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য শুধু ভেতরে থাকা কালামে।

উপরের যুক্তিগুলো বলে যে লিখিত কোরআন অবমাননার কিছু নেই। এখন আসুন প্রকৃত অর্থে কোরআন অবমাননা বলতে কি বোঝায় সেটা খুঁজে দেখি। কোরআনে শতবার মুনাফেকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে; আর মুনাফেকরা অবশ্যই মুসলমান। আবার বলা হয়েছে "তারা কোরআনের কিছু অংশ আমল করে কিছু অংশ ছেড়ে দেয়"। এরাও কিন্তু কেবল মুসলমান।
কোরআন অবমাননা বলতে মূলত বুঝায় এর মধ্যেকার আদেশ নিষেধ গুলোকে অস্বীকার করাকে। যারা কিছু অংশ মানে কিছু অংশ মানেনা তাদের। লানত কেবল তাদের দেয়া হয়েছে।

আবার দেখুন কোরআনে স্পষ্ট ভাবেই লেখা আছে যে কাফেররা কোরআন কোনোদিন স্বীকারই করেনি। মুহাম্মদের আমলেই তারা তার সামনেই কোরআন অস্বীকার করেছে। কোরআন অস্বীকার করলে তাই কাফেরদের ইহকালে কোন শাস্তি নেই; কিন্তু শাস্তি আছে মুসলমান হয়েও যারা কোরআন অস্বীকার করে তাদের। আর লিখিত কোরআন অবমাননা বলে যে কিছু নেই সেটা একটি মাথা খাটালেই বুঝতে পারবেন। অসভ্য বর্বর মল্লারা কোরআন পূজার প্রচলন করেছিলেন; ইসলামে লিখিত কোরআন অবমাননা বলে কিছু নেই।

কোরআন থেকে আয়াত খুঁজে দেখুন; কোরআন অস্বীকার কারীদের পরকালের বিচার থাকলেও ইহকালে তাদের কোন শাস্তি দেয়ার বিধান নেই। শাস্তি আছে তাদের যারা কোরআন নিয়ে ব্যাবসা করে; যারা মুনাফেক। মিথ্যা বলেও যারা কোরআনের আর আল্লার কসম খায় তাদের। রোজা রেখেও যারা ঘুস খায় তাদের। শুয়োর খায়না কিন্তু মদ ছাড়া যাদের চলেনা তাদের।

তাই কোরআনের পাতা দিয়ে কেউ যদি নাক ঝারে; তাতে অবমাননার কিছু নেই। কোরআন পুরোনা বা পড়ার অযোগ্য হলে তাকে তো ধ্বংস করতেই হয়। এতে অবমাননার কিছু নেই। তাই তো সৌদিতে হাজীদের ফেলে যাওয়া কোরআন প্রায়ই পাওয়া যায় নর্দমায়।

মুসলিম হয়ে কোরআনের বানীকে যেনেও না মানাকে অবমাননা বলে; লিখিত কোরআন অবমাননাকে নয়। সাধারন একটা হিসাব শুনুন; কোরআনে বলা আছে "নামাজ কায়েম করো"। এখন কায়েম কিভাবে করতে হবে? সাধারন ভাবে কায়েম করা মানে দখল করা বুঝায়। নামাজ তো আর দখল করার জিনিস না; তাহলে? নামাজ কায়েম মানে হল নিজে পড়ে অন্যকে পড়তে বলে কায়েম করা। অবশ্যই নিজে নামাজ না পড়ে অন্যকে লাত্থাইয়া নামাজ পড়তে বলাকে কায়েম করা বলেনা ইসলামী পরিভাষায়। অমুসলিমদের নামাজ পড়তে বাধ্য করাকে তো আর নামাজ কায়েম করা বলা যায়না; তাইনা?
একই ভাবে কোরআনকে সম্মান করা বলতে বুঝায় যারা এতে বিশ্বাস করে তাদের একে মেনে চলা। যারা এতে বিশ্বাস না করে তাদের কোরআনকে মেনে চলা ফরজ নয়। যেমন ফরজ নয় অমুসলিমদের নামাজ পড়া। তাই যারা কোরআনে বিশ্বাস করেনা কোরআনকে কোন ভাবেই অবমাননা করতে পারে না; কারন সেই সিস্টেম নেই।

আশা করি কি বোঝাতে চাইছি বুঝেছেন; পাড়লে একটি আয়াত বা হাদিস দেখান যেখানে লিখিত কোরআন অবমাননা কারিদের শাস্তির বিধান আছে। খুঁজে বের করুন কাফেরদের কোরআন অস্বীকার করার জাগতিক শাস্তির বিধান; যদি আপনারা সত্যবাদী হন তবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:২৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমি চিরন্তন

লিখেছেন সামিয়া, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৮



মানুষজন আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার সঙ্গে নাকি আর যোগাযোগ নেই? আমি শুধু হাসি। কীভাবে বোঝাই, কথা না হলেও কিছু মানুষ প্রতি রাতেই এসে মনের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে; ঘুমানোর প্রস্তুতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশপ্রেম হুমকি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬


তুমি আউয়াল বাওয়াল
দলকানা এক উম্মাদ;
তুমি কাকে বলছো সন্ত্রাস!
যদি সন্ত্রাস বুঝ- তাহলে
তুমি মস্তবড় সন্ত্রাস!

তুমি রক্ত দেখলে না
লাশ দেখলে না আর
লক্ষকোটি জনস্রোত-
ক্ষমতায় দেখলে সুদ্ধ
খুনির হাতে রক্তাক্ত-
বুঝলে না বুঝলে না।

তুমি আউয়াল বাওয়াল
দলকানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখিত! আবার একটা গিটার ভিডিও পোস্ট করলাম।

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

দুঃখিত! আবার একটা গিটার ভিডিও পোস্ট করলাম।

কেমন লাগল জানালে খুশি হব।

C Note in E Major Scale



টিউনটা 'ই' মেজর স্কেলে করা কিন্তু টিউনের মধ্য ইচ্ছা করে অনেকবার 'সি' নোটটা বাজাইছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CIDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×