somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইয়ের সাথে সেলফি!!!

২৯ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরনো আমলের লোকজন কেমন বইয়ের সঙ্গে ছবি তুলতেন মনে আছে৷? খুব পণ্ডিত মানুষ না হলেও, পিঠ-উঁচু চেয়ারে বসে ছবি তোলার সময় পাশে যে নিচু টেবিলে একটা অলস হাত রাখা থাকত, সেই টেবিলের ওপর দু-তিনটে বইও থাকত৷‌ নেহাত না থাকলে ছবি রি-টাচ করার সময় বইগুলো এঁকে দেওয়া হত৷‌ হাতে আঁকা ছবি হলেও অবশ্যই থাকত বই৷‌ আর মানুষটি পেশায় শিক্ষাবিদ হলে তো কথাই নেই৷‌ ভাঁজ করে বুকের কাছে তুলে রাখা ডান হাতে নিশ্চিত ধরা থাকত একটি-দুটি বই৷; ঠিক যেভাবে লড়াকু সৈনিক চিতিয়ে রাখা বুকের ঠিক পাশে শক্ত মুঠিতে ধরে থাকে শাণিত বর্শা৷‌ কিংবা শিকারীর পায়ের নীচে মৃত বাঘ আর হাতে দোনালা বন্দুক; কতকটা অভিজ্ঞানের মতো৷‌ ওই ছবির মানুষটি কীরকম, উনি পড়ুয়া৷‌ ওই যে হাতে ধরা বই! উনি সৈনিক; কিংবা উনি শিকারী।

আমাদের এই বইন্যাওটা অভ্যাসটা রয়ে গিয়েছে৷‌ এখনও বহু লোক ছবি তুলতে হলে সটান গিয়ে বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন৷‌ নিজের সঙ্গে নিজের বই-ভাণ্ডার দেখাতে এঁরা সমান উৎসাহী৷‌ এর মধ্যেও এক ধরনের দেখানেপনা থাকে৷‌ কিন্তু সেটা কি ‘এই দেখো, আমি কত পড়াশোনা করি’, না ‘এই দেখো, আমার কত বই’? নাকি দুটোই?

বহু শিক্ষিত মধ্যবিত্তকে প্রচ্ছন্ন গর্ব নিয়ে বলতে শুনেছি, ‘লোকের বাড়িতে দামী জিনিসপত্র, টাকাপয়সা, সোনাদানা থাকে। কিন্তু আমার বাড়িতে, হেঁ হেঁ, বই ছাড়া আর কিছুই পাবেন না৷‌’ কিছু লোক অবশ্য থাকেন, যাঁরা ছুতোনাতায় জাহির করতে ভালবাসেন যে তাঁরা পড়াশোনা ছাড়া অন্য কিচ্ছুটি করেন না৷‌ টিভি দেখেন না, ফুটবল বিশ্বকাপ বা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে অর্বাচীনের হুজুগ ভাবেন, তাস-দাবা-পাশা, চা-পান-দোক্তা, মদ-মাংস-ইয়ে, কোনও নেশা নাকি তাঁদের নেই, এক পড়াশোনা ছাড়া!

কিন্তু এর বাইরেও একদল লোক আছেন, যাঁরা আদতেই বইয়ের প্রেমে বিভোর৷‌ বহু বছর পর দেখা হলেও তাঁরা ‘কেমন আছেন’ না জিজ্ঞেস করে প্রথমেই জানতে চান, ‘এখন কী পড়ছেন?’ এবং এই প্রশ্নের পিছনে একটা সুপ্ত ইচ্ছে থাকে, তাঁরা নিজেরা কী পড়ছেন, সেটা জানানোর৷‌ এঁরা মাসমাইনের টাকা বাঁচিয়ে বই কেনেন, বোনাসের টাকার কিছুটা বইমেলা কেন্দ্রিক সাহিত্যে অর্পণ করেন এবং যা খুশী তা বই কিনে আহ্লাদে আটখানা হন; বই হলেই হল৷, লেখক দেখার টাইম নাই। নতুন বই কিনে এঁদের বাড়ি পৌঁছনোর তর সয় না, ছুটন্ত বাসে বা লোকাল ট্রেনের কামরায়, কিংবা রিকশায় সম্তর্পণে প্যাকেট খুলে পুনঃ পুনঃ নতুন বইয়ের মুখচন্দ্রিমা দর্শন করে শিহরিত হন৷‌ নীলক্ষেতের ফুটপাতে পুরনো বইয়ের দোকানে এঁরা হামলে পড়ে গুপ্তধন খোঁজেন৷‌ চেনা দোকানদার হলে পুরনো প্রেমের মতো চোখে চোখে ইশারা হয়, নতুন কিছু এল নাকি?

এই সম্প্রদায়ের মধ্যে যাবতীয় সামাজিক আলাপচারিতা হয় মূলত বই নিয়েই৷‌ কী কিনলেন, কী পড়লেন, কোনটা বেশ সরেস লাগল, কোনটা অখাদ্য৷‌ নতুন বই কিনলে স্ট্যাটাস বা ছবি আপলোড করে পাঁচজনকে জানানো; দেখে সবাই বলবে "বুড়ো ভাম ফের খোকা হল"!
সো হোয়াট???
সবই আসলে আমাদের প্রতি তাদের হিংসে :P

উপরে উল্লেখিত ২ ক্যাটাগরির পড়ুয়ার মধ্যে আমি সম্ভবত প্রথম ক্যাটাগরির; দেখানে পড়ুয়া :/ আমি অলস :(

ফেসবুকে কিছু পড়ুয়ার বুক সেলফের ছবি দেখে হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছি।

চাইলে আপনাদের বুক সেলফের ছবি কমেন্টে দিতে পারেন :)
আশা করি কেউ কারো বই দেখে ধার চাইবেন না :P

ফেসবুক পোস্ট লিঙ্কঃ Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×