ঘটনাটা গত শুক্রবার রাতের...যশোর-খুলনা রোডের...সময় রাত ৮-৩০ এর মত তখন।
একটা স্টপেজ থেকে চারজন যাত্রী (তিনজন পুরুষ এবং একজন মহিলা) উঠলেন গাড়িতে। তাদের প্রত্যেকের বয়স হবে ২২-২৫ বছরের মধ্যে।
যথারীতি গাড়ি অবরোধের মধ্যে প্রায় ফাঁকা রাস্তায়ই চলছে। এভাবে চল্লিশ মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার পরে আমরা যখন প্রায় গন্তব্যের কাছাকাছি তখনই ঘটনাটা ঘটল।
একটা স্টপেজে এসে গাড়ি থামল আর ঐ চার যাত্রী ও সেই স্টপেজেই নামবেন। তাদের মধ্যে একজন নেমে গেলেন, বাকি দুইজন নামবেন কিন্তু বিপত্তি বাঁধল মহিলা যাত্রীকে নিয়ে। আমি বাসের মাঝামাঝি অবস্থায় থাকায় দুই-তিন মিনিট পরে ঘটনাটা নজরে এল। যখন শুনতে পেলাম, ঐ মহিলা যাত্রীকে ডাকাডাকি করা হচ্ছে ঘুম থেকে তোলার জন্যে, কিন্তু অনেক ডাকাডাকি আর চিৎকার-চেচামেচিতেও তার ঘুম ভাঙছে না। আশপাশের যাত্রীদের পরামর্শে ঐ দুই অপেক্ষারত ব্যক্তি সেই মহিলার চোখেমুখে পানি ছিটানো ও হয়ে গেছে। কিন্তু তার ঘুম ভাঙছে না কোনক্রমেই।
ঐ অবরোধের সময়ে রাত নয়টারও পরে প্রায় ফাঁকা বাস স্টপেজে আমাদের গাড়িটা কিন্তু প্রায় ৭-৮ মিনিট ধরে অবস্থান করছে। একদিকে আমরা গাড়ির যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত আর অন্যদিকে আবার অনেকেই (যারা পেছন দিকে অবস্থান করছিলেন) ঐ ডাকাডাকির ঘটনায় উৎসাহীও।
অবশেষে প্রায় ১৫ মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার পরে ঐ তৃতীয় ব্যক্তি যিনি গাড়ি থেকে নেমে অপেক্ষা করছিলেন তিনি আবার উঠে এলেন এবং কয়েকজন যাত্রীর পরামর্শে তারা ঐ মহিলাকে তিনজন মিলে ঘুমন্ত অবস্থায়ই প্রায় কোলে করে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে গেলেন, এবং তারপরে গাড়ি আবার ছাড়ল।
গাড়ি চলা শুরু করার পরে আমার পাশের যাত্রী হঠাৎ বলে বসলেন, এমনও তো হতে পারে ঐ মহিলাকে কোনও ঘুমের ওষুধ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা কে জানে!! কারণ, পরে জানতে পারলাম গাড়িতে যখন তারা ওঠে তখন নাকি মহিলাটি স্বাভাবিক ই ছিলেন এবং অনেকক্ষণযাবত কথাও বলছিলেন। তাদের কাছে মনে হয়নি কেউ হঠাৎ করে এতটা গভীর ঘুমের ঘোরে চলে জেতে পারে যা প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টায় ভাঙবে না। তাদের কথা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত বলেই মনে হল। আর বাকি তিন পুরুষ সহযাত্রী ও কিন্তু নাকি একবারের জন্যেও এই কথা বলেনি যে মহিলাটি অসুস্থ ছিলেন।
তারপরেই আমার মনে প্রশ্ন যেটা জাগল সেটা হল এইভাবে করে কি ঐ মহিলাকে বাকি তিনজন মিলে কোথাও অজ্ঞান করে কোথাও নিয়ে গেল???
সহযাত্রীদের ভাষ্যমতে যা জানলাম, তাদের কাছে ঐ মহিলাকে তার আচরণে ঐ তিন ব্যক্তির কারো আত্মীয় বলে মনে হয়নি!!!
এই কথা যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে আমার যেটা মনে হয় আমাদের যাত্রীদের আরেকটু শক্ত করে ঐ তিন ব্যক্তি কে চেপে ধরা উচিত ছিল, যে আসলে কি হচ্ছে এখানে? আর আমাদের যাত্রীদের মধ্যে অনেকটা ভীতি হয়ত কাজ করছিল এই ভেবে যে এমনিতেই অবরোধের সময় তার ওপরে গাড়িটা প্রায় ১৫ মিনিট ধরেই এক অবস্থায় দাঁড়ানো প্রায় ফাঁকা রাস্তায়। জানিনা ঐ মহিলার ভাগ্যে কি ঘটেছে বা ঘটবে?!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



