somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুবিন খান
অদৃষ্টরে শুধালেম, চিরদিন পিছে, অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে?সে কহিল, ফিরে দেখো। দেখিলাম থামি, সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।

প্রভাতফেরি

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রতিক্রিয়াশীল চক্র প্রভাতফেরি আর শহিদমিনারে ফুল দেয়াকে মূর্তিপূজা সঙ্গে তুলনা করে মানুষকে শহিদমিনারে যেতে নিরুৎসাহীত করতে চাইছে। কাজটি করতে গিয়ে তারা বরাবরের মত ধর্মকেই ঢাল হিসেবে বেছে নিয়েছে। ব্যাপারটা আসলে নতুন নয়। এরা সব সময়েই আমাদের সমাজের মগজ ধোলাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করতে ধর্মকেই ব্যবহার করে। এদের নিজেদের চর্চাটাও উর্দু ফার্সি আর আরবি ভাষায়। এই এরাই উর্দু অক্ষরে বাংলা লেখার নিয়ম চালু করেছিল। তারপরই তো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের সেই পরাজয় আজও এদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দৌড়াদৌড়ি করে।

১৬ জুলাই ১৯৭১ জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয়তে লিখেছিল, 'আইয়ুব খানের গভর্নর আজম খান ছাত্রদেরকে খুশী করার জন্য যে শহিদমিনার তৈরি করলেন, তাকে পূজামণ্ডপ বলা যেতে পারে। কিন্তু মিনার কিছুতেই না। সেনাবাহিনী এই কুখ্যাত মিনারটি ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ গড়ে সেখানে শহিদদের প্রতি যথার্থ সন্মান প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন জেনে দেশবাসী খুশি হয়েছে।'...পয়তাল্লিশ বছর পেরুলেও আমরা এখনও শহিদমিনারকে পূজামণ্ডপ আখ্যান আমরা এখনও শুনছি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সাদুল্লাহ্ তার 'ইস্ট পাকিস্তান টু বাংলাদেশ' বইয়ে শহীদ মিনারের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, 'হাই স্কুল পেরুবার সময় আমরা দেখলাম একটা শহীদ মিনার, কোথাকার কোন ভাষা আন্দোলনের সময় নাকি ঢাকার দুই তিনজন ছাত্র মারা যায় তারপর থেকেই হিন্দুয়ানী বাংলার প্রতিটি স্কুলে স্কুলে শহীদ মিনার গজায়। জিনিসটার একটু বর্ণনা দেই। মিনারের পাদদেশে আছে একটা কবর। প্রতিদিন সকালে মিনার প্রদক্ষিন একটা রিচুয়াল। খালি পায়ে ফুল হাতে নিয়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে হয়।...'

পাকিস্তান সরকার দুবার কেন্দ্রীয় শহিদমিনার ভেঙেছিল। প্রথমবার ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আর দ্বিতীয়বার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। অথচ রাজাকার বাহিনীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গোলাম আযমকে জামায়াত ভাষা সৈনিক দাবী করেছে। শহিদমিনারে ফুল দেয়াকে মূর্তিপূজার সঙ্গে তুলনা করতে, শিরক হিসেবে সাব্যস্ত করতে, এই প্রজন্মকে দূরে সরিয়ে রাখতে বছর জুড়েই এরা তৎপর থাকে।
শহিদমিনারে তো কোন প্রার্থনা হয় না। কেউ সেখানে মনের আশা পূরণের মানত করে না। নিজের পাপের জন্যে ক্ষমা চেয়ে কপাল ঠুকে কান্নাকাটি করে না। যেটা করে সেটা শ্রদ্ধা প্রদর্শন। এই যে বাংলা ভাষায় আমরা কথা বলছি, লিখছি, এই ভাষাকে আমাদের করতে যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। এটাকে শিরক বলে না। আগে শিরক সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আসুক 'শিরক' কাকে বলে ?'
শহিদমিনার কেবলই একটা সংস্কৃতি চর্চা। এই সংস্কৃতিকে এত ভয় কেন ? শহীদ দিবসের চেতনাটা বিলুপ্ত করা গেলে সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালানোটা সহজ হয়। সেই আগ্রাসনের আক্রমণটা চালাতে আবার ধর্মকেই ব্যবহার করছে। ধর্ম ব্যবহার করে মানুষের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। আর আমাদের ছেলেমেয়েরা তাতে বিভ্রান্ত হচ্ছেও। এ আমাদেরই ব্যর্থতা।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ ভোর ৪:৪৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×