
আমরা বাঙালিরা অল্পতেই খুশি। আবার অল্পতেই বেজায় রাগি। এটা হয়তো আমাদের জিনগত বৈশিষ্ঠ্য।সে যাই হোক, আমরা আপামর ক্রিকেট সমর্থকরা আমাদের ধ্বজভঙ্গ ক্রিকেট টিম নিয়ে যারপণাই আশা করে আসছি। একদিন ক্রিকেট বিশ্বে এই টিম শক্তিশালী এক দল হবে।
এ টিম মাঝে মধ্যে যে আমাদের কিছু খুশির উপলক্ষ দেয় নি, সেটা বললে বড় দোষের বিষয় হবে। কালভদ্রে এই নখদন্তহীন ব্যঘ্র দলের গর্জনে আমরাও বেজায় খুশি হই। গৌরবে ফেঁটে পড়ি। ভাবি আহা কত দেশপ্রেমিক দামাল ছেলের দল ক্রিকেট মাঠে রোদে পুড়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। যদিও সে টিম নাম উজ্জ্বলের চেয়ে অনুজ্জ্বলই যে বেশি করছে!
কিছুদিন পূর্বে নিয়মিত প্রতি সিরিজেই প্রায় একটা করে অন্তত ম্যাচ জিতে আমাদের সুদিনের সুবাতাস দিচ্ছিল। আমরাও সুখস্বপ্নে বিভোর হতাম- সুদিন অভ্যাগত। সবাই ম্যাচ ফি বাড়াও, বেতন-ভাতা বাড়াও, সুযোগ-সুবিধা দাও ইত্যাদি বলে বেশ হল্লা তুলেছিল। আমরাও সায় দিয়েছিলাম। বোর্ডও খেলোয়ারদের যথাসম্ভব সবকিছু বাড়িয়ে চলছিল।
কোন খেলায় একটু ভালো করলেই সরকারি-বেসরকারি উৎস থেকে ফ্ল্যাট-জমি-গাড়ি-বাড়ি পেয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক-ব্যালেন্সের কথা নাইবা বললাম।

আফগানিস্তান সদ্য টেস্ট পরিবারে জায়গা পেয়েছে। সে দলেের পার্ফর্মেন্সও ভালো। কিন্তু তাদের বোর্ড অতি দরিদ্র। যুদ্ধকবলিত আফগানদের নেই নিজদেশে খেলার পরিবেশ। ধার-কর্য করে খেলে বেড়াচ্ছে। জাত প্রতিভার ছড়াছড়ি, কিন্তু নেই তাদের সুব্যবস্থা। তারপরও মোহাম্মদ নবি, রশীদ খান, জাদরান, শেহজাদ খেলোয়ার গুলোর লড়াকু প্রতিভাকে আমরা শ্রদ্ধা না করে পারি না।
এখন কথা হচ্ছে- আমাদের এত সুযোগ সুবিধাপ্রাপ্ত গুনধর সুখেলোয়ারগুলো নিয়মিতভাবে আফগানিস্তানের মত অভাবী দলের কাছে নিয়মিত হেরে চলেছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তান মনে হয় বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়া!!
কোন কর্মচারী যদি আশানুরূপ কর্ম প্রদর্শন করতে না পারে তবে তার চাকুরি কি থাকে? অথবা চাকুরি থাকলেও কি তার বেতন-ভাতা দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি পাওয়টাই কতটুকু যুক্তি সংগত? একজন খেলায় নেমেই মাসে ১০/১৫/২০ লক্ষ, বুড়াগুলি কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। যেখানে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে বেশিরভাগ লোকের বাৎসরিক আয় ১-২ লক্ষ টাকা। একজন সাধারণ লোক সারাজীবন কামাই করেও নিজের গাড়ির শুধু স্বপ্নই দেখতে পারে, স্বচক্ষে আর দেখে না। আর একজন খেলতে নেমে দু-তিন বছরেই দামি গাড়ি হাকিয়ে চলে। দু-চারটা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ফুর্তিও করে কেউ কেউ! হায় সেলুকাস জাতি আমাদের !
এতদিন ধরে বোর্ডের খেয়েপড়ে আর বিজ্ঞাপণের মডেল হয়ে এনারা কি খেলা ভুলে যাচ্ছে? সময় এখন হয় এসব খেলোয়ার ঝেড়ে ফেলে নতুন ও পার্ফর্মারদের সুযোগ দেয়া হোক নতুন এদের বেতন-ভাতা পার্ফর্মেন্স অনুযায়ী কমানো হোক। জাতীয় দলে অপার্ফরমারদের সুযোগ না দেয়াই কাম্য। আর কত?


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

