
ইদানিং বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় এমনিতেই ক্রিকেট বিষয়ক কথাবার্তা প্রায় চাপা যেতে বসেছে। এরফলে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা খুবই কম। এমনকি পত্রিকার পাতায় খুব ছোট করে এক কোণায় ক্রিকেট বিষয়ক খবরাখবর ছাপায় এখন। এর মধ্যে পুরুষদল যারা বাঘ নামে পরিচিত আফগানিস্তানের হোম সিরিজ খেলতে ইন্ডিয়ার দেরাদুন গেল। আর পরপর ৩টি টি-২০ ম্যাচ হেরে এল। শেষেরটি যাও একটি সম্মানজনক হার, কিন্তু প্রথম দু'টিতে যা করেছে, তাতে আর এই টিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে ভারত-পাকিস্তান-শ্রিলঙ্কার সমর্থক জোটের সাথে বাংলাদেশের সমর্থকদের বাগাড়ম্বর করার সুযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে।
পুরুষদলের এহেন লজ্জাজনক ঘটনাত্রয়ের পর নারী দল আমাদেরকে একটা উপলক্ষ এনে দিল। আসল বাঘিনী যেন একেক জন। এমনিতেই বিশ্বকাপ ফুটবল মৌসুম। তার উপর আবার নারী দলের খেলা। এমনিতেই জনমনে আগ্রহ কম। কিছুদিন টানা খারাপ করার পর এশিয়া কাপ খেলছে বাংলাদেশ নারীদল। কিন্তু পুরুষদলের টানা পরাজয়ের সংবাদের পাশাপাশি নারীদলের টানা জয়ের খবরে খানিকটা উচ্ছ্বসিত বাঙালি।
আজকের ফাইনালের প্রতিপক্ষ প্রবল পরাক্রমশালী ভারত, যারা টানা ৭ম শিরোপার জন্য খেলছে। সেই ভারতের নারীদেরকেই বালাদেশ নারীরা আগের রাউন্ডে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই নেমেছিল। এবং মাত্র ১১২ রানে আটকে রেখে শেষবলের নাটকীয় জয়ে প্রথমবারের মত শিরোপার স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ দিল বাংলাদেশকে। এর আগে পুরুষদল শিরোপার কাছাকাছি থেকে ফিরে এলেও নারীরা আর আমাদের বঞ্চিত করে নি।
পুরষদলের আজন্ম তীরে এস তরী ডোবানোর ভুত আরেকটু হলেই নারী দলেও ভর করতে বসেছিল। সুন্দর সহজ জয়কে খানিকটা কঠিন করে শেষবলের ডাবল নিয়ে জেতালো তারা। নারীর টেম্পারমেন্ট পুরুষদের চাইতে ভালো, আরেকবার তারা প্রমাণ করলো।
এখন কথা হচ্ছে পুরুষদলের খেলোয়াররা ২ দিন ভালো করলেই গাড়ি-বাড়ি-নারি পেয়ে যায়। তবে বাঘিনীদের এমন উৎসবের জন্য সরকার-বিসিবি কি কোনো পুরস্কারের ব্যবস্থা করে নি? এরা কি ফ্ল্যাট/বাড়ি পাবে না? এরা কি সংবর্ধনা পাবে না?
অভিনন্দন বাঘিনীরা। পুরস্কারের অর্জনের পাশাপাশি সঠিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নারীদেরকেও এগিয়ে আনা হোক। পুরুষদের ব্যর্থতা নারীর অর্জনে ঢাকা পড়ে যাক। দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাক- নারি ও পুরুষ দু'দিকেই। বাঘিনী ও বাঘদের হুংকারে ক্রিকেট বিশ্ব কাপুক। দেখুক বাঙালিও পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




