somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবর যিয়ারতের শরয়ী বিধান

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামের সূচনালগ্নে যখন মানুষ কবর পূজা করত তখন আল্লাহর নবী সা. কবর যেয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ শরিফের ১৫৭১ নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “আমি তোমাদের কবর-যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। (এখন ঐ নিষেধাজ্ঞা মানসূখ করা হচ্ছে) এখন তোমরা কবর যিয়ারত করতে পার। কারণ তা দুনিয়ার মোহ দূর করে এবং আখিরাতকে মনে করিয়ে দেয়। (মিশকাত পৃ ১৫৪) এরপর ইসলাম আসার পর সাহাবায়ে কেরাম যখন জাহিলিয়্যাতের রীতিনীতি ভুলে যান তখন রাসুল সা. আবার কবর যেয়ারতের অনুমতি প্রদান করেন। কারণ কবরের দৃশ্য দেখে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্বের বিশ্বাস তাজা হয়, নিজের মৃত্যু ও কবর-জীবনকে স্মরণ করে আখিরাতের প্রস্তুতির সংকল্প গ্রহণ করা যায়। তাছাড়া আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করা এবং মাগফিরাতের দুআ ও ঈসালে ছওয়াবের মাধ্যমে তাদের উপকৃত করা যায়। আর আল্লাহওয়ালাদের কবর যিয়ারতের দ্বারা যে পথে চলে তারা আল্লাহর দরবারে মাকবুল হয়েছেন ওই পথে চলার পাক্কা এরাদা করা যায়। এ ধরনের বিভিন্ন মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কবর যেয়ারতকে নিষিদ্ধ করার পরও আবার অনুমতি দান করা হয়েছে।
তবে পুরুষরাই শুধু এই অনুমতির আওতায় পড়ে। নারীদের জন্য কবর যেয়ারতের অনুমতি নেই। যেহেতু তারা কবরে গিয়ে সেখানে কান্নাকাটি ও অস্থিরতা প্রকাশ করার আশংকা থাকায় তাদেরকে কবরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সুনানে তিরমিযীর একটি হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম কবর যিযারতকারী নারীদের উপর অভিসম্পাত করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৪৪৯; জামে তিরমিযী, হাদীস ১০৫৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৫৭৫; মিশকাত পৃ ১৫৪)
কবর বা মাজার যিয়ারতের জন্য নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় যাওয়া ঠিক নয়। তবে সেখানে যদি ভিন্ন কোনো কারণে গিয়ে থাকে তাহলে সে এলাকার ওলী বুজুর্গদের কবর যিয়ারত করে আসাতে সমস্যা নেই। তবে রাসুল সা. এর কবর যিয়ারতের বিষয়টি ভিন্ন। অন্যদের কবর বা মাজারকে এর ওপর কিয়াস করা সঠিক নয়। (মায়ারিফুস সুনান ৩/৩৩৫) উল্লেখ্য, কবর যিয়ারতে গিয়ে কবরওয়ালার কাছে কিছু প্রার্থনা করা যাবে না। যিয়ারতের আসল উদ্দেশ্য হলো, কবরওয়ালার জন্য ঈসালে সাওয়াবের দ্বারা তার উপকার করা। হাদিস শরিফে কবর যিয়ারতের যে পদ্ধতি বলা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে নিজের জন্য কোনো কিছু চাওয়ার কথা নেই। বরং দোয়া-দরুদ পড়ে তাদের রূহে সাওয়াব পাঠানোর কথা আছে।
কবর যেয়ারতের বিষয়ে আমাদের দেশের মানুষ চরম প্রান্তিকতার শিকার। কবরের বিষয়ে শরিয়ত ইফরাত-তাফরীত (কোনো প্রকারের প্রান্তিকতা) অনুমোদন করে না। সুতরাং কবরের অসম্মানও যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি সম্মানের সীমা অতিক্রম করাও নিষিদ্ধ। হজরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম কবর পাকা করতে, এর উপর গম্বুজ নির্মাণ করতে আর কবরের উপর বসতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদীস ৯৭০; মিশকাতুল মাসাবীহ পৃ ১৪৮)
এক হাদীসে আছে, ‘কবরের উপর বসবে না, কবরের দিকে ফিরে নামাযও পডবে না’। (সহিহ মুসলিম, হাদীস ৯৭২) আরেক হাদীসে আছে, ‘তোমাদের কেউ যেন কবরের উপর না বসে। সে জ্বলন্ত
কযলার উপর বসুক, যার কারণে তার পরিধেয় কাপড় পুড়ে তার শরীরও পুড়ে যায়- এ-ও তার জন্য ভালো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদীস ৯৭১) এক হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম কবর পাকা করতে, তার উপর কিছু লিখতে এবং তা পদদলিত করতে নিষেধ করেছেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১০৫২)
এ সব হাদীস থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, কবরের অসম্মানও কাম্য নয়, সীমাতিরিক্ত সম্মানও কাম্য নয়। তবে কবরের উপর খেলাফে শরা কর্মকা- হলে তা সংশোধন করা জরুরি। হজরত আলী রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম আমাকে এ কাজে পাঠিয়েছিলেন যে, যে ছবি বা মূর্তিই দেখি তা যেন বিলুপ্ত করি আর যে কবরই উঁচু দেখি তা যেন সমান করি। (সহিহ মুসলিম, মিশকাত শরীফ পৃ ১৪৮) এই হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হয়, পাকা কবর বানানো বা কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ জায়েজ নয়। স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম ও তাঁর দুই সাহাবি (হজরত আবু বকর ও ওমর রা)-এর কবরও পাকা নয়, কাঁচা। (সুনানে আবু দাউদ, মিশকাতুল মাসাবীহ পৃ ১৪৯)
সুতরাং এসব হাদিসের আলোকে ওই সব কার্যকলাপ সম্পর্কে চিন্তা করা উচিত, যা আমাদের দেশের মানুষ ওলী-বুযুর্গদের কবরে ও তাদের মাজারে করে থাকে। যেমন কবরে গেলাফ চড়ানো, বাতি জ্বালানো, কবরে সিজদা করা, তাওয়াফ করা, কবরে চুমু খাওয়া, কপাল ঘষা, কবরের সামনে হাত বেধে এমনভাবে দাঁডানো যেভাবে নামাজী আল্লাহর সামনে হাত বেধে দাঁড়ায়, কবরের সামনে রুকুর মতো ঝোঁকা, কবরের উদ্দেশ্যে মান্নত মানা, নিয়ায চড়ানো ইত্যাদি। কবর বা মাজারের এসব কার্যকলাপ স্পষ্ট শিরক ও কবিরা গুনাহ।

লেখক : সম্পাদক, মাসিক আরবি ম্যাগাজিন, ‘আলহেরা’

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৭:০২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুভি রিভিউ - ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা : দেশ ভাগের ট্র্যাজেডি আর হারিয়ে ফেলা প্রেমের অসাধারণ এক মেলবন্ধন 

লিখেছেন আলভী রহমান শোভন, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



একটা সময় হিন্দি মুভির বেশ ভক্ত ছিলাম। ভালো কোন হিন্দি মুভি রিলিজ পেলেই দেখে ফেলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে হিন্দি মুভি তেমন দেখা হয়ে ওঠে না। বছরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×