somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফরাসী কবি জাঁ আর্তুর র‌্যাঁবো-র কাব্যগ্রন্থ "নরকে এক ঋতু" হতে দুইটি কবিতা

০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি জাঁ আর্তুর র‌্যাঁবো-র কাব্যগ্রন্থ "নরকে এক ঋতু" (une saison enfer)মুল ফ্রেন্চ বুক কভার

প্রলাপ ২

শব্দের রসায়ন

আমার কথা এইবার।আমার পাগলামির কাহিনী।
ব হুদিনের গর্ব আমার,সম্ভব অসম্ভব সমস্ত নিসর্গশোভার ওপরই আছে আমার দখল-আধুনিক কাব্য ও চিত্রকলার গগনস্পর্শী খ্যাতির আড়ালে জেনেছি তার চূড়ান্ত অসাড়তা।
আমাকে টানে অর্থহীন ছবি,দরজার ওপর দিকটা,সাজসজ্জা,ক্রীড়কের পট,বিজ্ঞাপন ফলক,লোকশিল্পের রং চং,সেকেলে সাহিত্য,গির্জার ল্যাটিন,বানান ভুলে ভর্তি সস্তা যৌনতার চটিবই,প্রাগৈতিহাসিক কাহিনী,রুপকথা,শৈসবের ছোট বই, পুরণো গীতিনাট্য,সরল-অস্হায়ী,অমার্জিত ছন্দ।
স্বপ্নে দেখেছি ধর্মযুদ্ধ,নামহীন আবিষ্কারের আশায় দেশান্তর যাত্রা ,হুজুগশুন্য রাস্ট্র,ধর্মে ধর্মে গুমোট লড়াই,নীতি সংক্রান্ত বিপ্লব,জাতিতে জাতিতে ও মহাদেশে কত ওলটপালট, বিশ্বাস করেছি সমস্ত জাদুমন্ত্রে।
বার করেছি সমস্ত স্বরবর্ণের রং-আ কৃষ্ন,অ শ্বেত,ই রক্ত,ও নীল,উ-সবুজ-নিরুপন করেছি প্রতিটি ব্যান্জনবর্ণের গতি-প্রকৃতি।আর সহজাত প্রেরণার ছন্দেই আজ আবার লালায়িত হয়েছি কাব্যিক এমন একটি সুগম ক্রিয়াপদ আবিষ্কার করতে যা একদিন না একদিন প্রযোজ্য হতে পারবে সমস্ত অর্থে। এই অনুবাদের সমস্ত সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত করে রাখলাম।

প্রথমে সে ছিল শুধু সমীক্ষণ। রুপ দিয়েছি মৌনকে,বাণী দিয়েছি রাত্রিকে লিখে গেছি অনির্বচনীয়কে-স্থৈর্যে বেঁধেছি চিরচন্চল ঘুর্ণিকে।

যেখানে অনেক দুর পাখিরা,ভেড়ার পাল,গাঁয়ের মেয়েরা
কী পান করছিলাম সেইখানে,নতজানু সেই উলুখড়ে,
ঘিরে ছিলো যখন বাদাম-বন নরম বাকলে ভেজা
ঝাপসা এক বিকেলের উষ্ন সবুজ কুয়াশায়?

কী পান করার ছিল তরুণী সে *ওয়াজের তীরে- (Oise-নদীর নাম)
বাণী নেই পাদপের পুষ্পরিক্ত তৃণদল, আকাশ ঢেকেছে:
আমার নিবিড় প্রিয় নীড় হ'তে দুরে
পান করা হলদে মাটির ভাড়ে?
সে কোন সোনালী সুরা,যাতে ঘাম ঝরে।

আমি যেন সস্তা বিজ্ঞাপন এক সরাইখানার
-এলো ঝড় আকাশ মথিত করে সহসা। সন্ধ্যায়
কুমারী বালুর পুন্জ শুষে নিল অরণ্যের রস,
দেবতার হাহাকার বাতাসে বাতাসে
ছুড়ে দিল সরোবরে তুষার-কণিকা।

-সেখানে,সজল চোখে,সোনা দেখে- পান করা হলো না আমার।

ভোর চারটেয় গ্রীষ্মবেলায়
প্রেমের নিদ্রা তখনো জোর-
কুন্জের পথে উড়ে উবে যায়
গত সন্ধ্যার গন্ধঘোর।

ঐখানে ঐ মস্ত তাদের চত্বরে
জ্বলে সূর্যের আলো যেন কোন রুপকথার-
আস্তিন তুলে এই সকালেই কাজ করে
শ্রমিক সূত্রধার।

শ্যাওলার মরু চেঁছে ওরা ধীর মনে
গ'ড়ে তোলে কতো দামী তক্তার আচ্ছাদন,
কবে একদিন মংগল লগনে
নগরী করবে মিথ্যা আকাশ রন্জন!

এই মনোহর মজুরগণের তরে,
ব্যাবিলনিয়ার অধীশ্বরের দাস হয়ে থাকে যারা।
ভেনাস, তোমার অনুরাগীদের ত্যাগ কর ক্ষণতরে।
যাদের হৃদয় চেনেনি কিছুই মুকুট ছাড়া।

এই শ্রমীদের জন্য রাখাল রাণী
আনো ভরে আনো জীবনরসের পাত্র কানায় কানায়-
ওদের শক্তি শান্তিতে পাক বাণী
দুপুর সূর্যে সাগর স্নানের স্নিগ্ধতায় ।।

আমার ক্রিয়াপদের এই রসায়নে কাব্যের যতো পুরোনো ভাঙাচোরা জিনিসের ভূমিকা।
নিজেকে সইয়ে নিয়েছি সরল মতিভ্রমে-সত্যি,দেখেছি আমি কারখানার জায়গায় মসজিদ,দেবদূতের পরিচালনায় যন্ত্রসংগীতের বিদ্যালয়,আকাশপথে শকটের মিছিল,হ্রদের গভীরে বৈঠকখানা: কতো যে দৈত্য,কতো রহস্য!কী এক প্রহসনের নাম চোখে আমার বিভীষিকা ঘনিয়ে তুলেছে।
এ ছাড়া শব্দের ছায়াবাজিতে বুঝিয়েছি কুহকের যত কূটতর্ক।
অবশেষে আমার চেতনায় এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে খুঁজে পেলাম পবিত্রকে।তৃষ্নায় ছটফট করেছি,আক্রান্ত হয়েছি প্রবল জ্বরে-ঈর্ষা করেছি পশুর সুখ,শুঁয়োপোকার নিরপরাধ বিস্মৃতিলোক,গন্ধমুষিকের কৌমার্যময় তন্দ্রা।

তিক্ততায় ছেয়ে গেল আমার চরিত্র-কয়েকটা গাথার মত কবিতায় পৃথিবীকে বিদায় জানালাম।


উচ্চতম মিনারের গান

হোক সময়,সময় তার
হৃদয় প্রেমে পড়বে যার।

কতো যে আমি সয়েছিলাম
কিছুই নেই স্মরণে,
যা কিছু ভয়,যন্ত্রণা
মিলায় দূর গগনে।
ধমনী করে অন্ধকার
তৃষ্না জলে রুগ্নতার।

হোক সময়,সময় তার
হৃদয় প্রেমে পড়বে যার।

এমনিতর গুল্মখেত
বিস্মরণে মুক্তি পায়,
মন্জরিত, সে পুষ্পিত
গন্ধধূপে বনচারায়।
নিজ্বনিত নোংরামির
নেশায় বুঁদ মাছির ভীড়।

হোক সময়,সময় তার
হৃদয় প্রেমে পড়বে যার।

আমি ভালবাসি মরুভূমি,শুকিয়ে যাওয়া ফলের বাগিচা,বিবর্ণ ম্লান দোকান,ঠান্ডা হয়ে আসা পানীয়।নিজেকে টেনে নিয়ে যাব পচা দুর্গন্ধের অলিগলি দিয়ে বন্ধ আঁখির কাছে,উৎসর্গ করবো সূর্যের চরণে,আগুনের যিনি দেবতা।
'সেনাপতি, ধ্বংসস্তুপ পরিখার আড়ালে এখনো যদি ভাঙাচোরা কোন কামান তোমার অবশিষট থাকে ,আমাদের তুমি বোমা মেরে উড়িয়ে দাও এই শুকনো ভূমিখন্ডের ওপর।ফাটিয়ে দাও চমৎকার কাচের জানালায়,বৈঠকখানায়-শহরকে ভক্ষণ করাও তাদের ভষ্মশেষ।মানুষমুখো নালীতে ভরুক আদ্রতার সবুজ কলংক।জ্বলন্ত মণির গুড়োয় ভরে দাও নিভৃত বেশগৃহ।'
দংশ আসুক সরাই-এর পেছনে প্রশ্রাবখানার গন্ধে মাতাল হয়ে মূত্রবৃদ্ধিকারক গুল্ম-উদ্ভিদের প্রেমিক সে-একটু রশ্মি ছিটিয়ে দিয়ে যাক।


কবি জাঁ আর্তুর র‌্যাঁবো-র কাব্যগ্রন্থ "নরকে এক ঋতু" English translated book cover

নরকে এক ঋতু(une saison enfer)
-জা আর্তুর র‌্যাঁবো

মূল ফরাসী হতে অনুবাদ
লোকনাথ ভট্টাচার্য
প্রকাশক
সুবল সামন্ত

এবং মুশায়েরা
কলকাতা ।


র‌্যাঁবো ভালোলাগা কয়েকটা কবিতা শেয়ার করলাম-ফ্রেন্চ ভাষা জানলে নিজেই অনুবাদ করবার একটা চেস্টা চালাতাম-জানিনা যেহেতু অন্যের দ্বারস্থ হতে হলো।


কবি জাঁ আর্তুর র্যাঁবো

জাঁ আর্তুর র‌্যাঁবো নিয়ে কিছু কথা:

উনিশ বছর বয়সে বালক ফরাসী কবি র‌্যাঁবো তার বন্ধু ভেরলেনকে তার কিছু কবিতা দেখিয়ে বললেন যে এগুলোই তার শেষ কবিতা কেননা এরপর লিখলে তা কেবল পুনরাবৃত্তিই ঘটবে।এরপর সত্যই তিনি আর লিখেননাই।

র‌্যাঁবো-র হস্তলিপি
র‌্যাঁবো তার এক চিঠিতে বলেছিলেন- “The poet turns himself into visionary a long, drastic and deliberate disordering of all his senses”- সেচ্ছায় সকল ইন্দ্রিয়ের বিশৃঙ্খলা-ই কবির প্রকৃত কাজ হওয়ার দরকার। এ দর্শনই যেন দেখতে পাই তার কবিজীবনে মাতাল জীবনযাপনে।সুশীল ও গৎবাঁধা ও রাস্ট্রযন্ত্রের ভাড়াটে কবিদের তিনি দেখতে পারতেন না।এমনও মিথ আছে যে সুশীল কবিদের এক কবিতার আসরে এক কবির কবিতায় তিনি মূত্রবিয়োগ করেছিলেন প্রকাশ্যে-হাহাহাহাহ!!!

র‌্যাঁবো বলেছিলেন যে কবিকে দ্রস্টা হতে হবে।সেই সূত্রে তিনি শার্ল বোদলেয়রকে প্রথম দ্রস্টা বলে স্বীকৃতি দেন।
অথচ বোদলেয়রকে তৎকালীন ফরাসী দেশ স্বীকৃতি তো দেয়নাই বরং বোদলেয়রকে সে সমাজ একপ্রকার মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।


শিল্পীর চোখে পল ভেরলেনের বাগানে কবি জাঁ আর্তুর র‌্যাঁবো কবিখেয়ালে নগ্নদেহে সকালের রোদ পোহাচ্ছেন
"Eternity"
Drawing of Arthur Rimbaud by Ralph Haselmann Jr.1994


যাই হোক,ভেরলেনের সাথে র‌্যাঁবোর সেই কিংবদন্তী প্রেমের কথা স্মরণ হলো,কিন্তু একটা সময় লন্ডনে র্যাবো এক নারীর প্রেমে পড়লেন-ফলে ভেরলেন গেলেন খেপে,শেষে ঝগড়া এমন পর্যায়ে গেল যে ভেরলেন র‌্যাঁবোকে গুলি করলেন-তারপর আরো কত কাহিনী-
যাই হোক-র‌্যাঁবো ১৮৭৪ এর পরে আর লেখেননাই-
লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে তিনি অনেক অনেক ভ্রমন অনেক পেশা-ই করেন,সেনাবাহিনী,ফোরম্যান,কফি কোম্পানীর সুপারভাইজর।১৮৮০ থেকে টানা দশবছর উত্তর ও পূর্ব আফ্রিকায় দাস ব্যাবসা,বন্দুকের চোরা ব্যাবসা,হাতীর দাঁতের ব্যাবসা করেছেন।কেমন যেন একটা বুনো ঘোড়ার ছুটে চলার আমেজ পাই তার জীবনে।
অবশেষে ৩৭ বছরে তিনি মারা যান।
জন্ম-১৮৫৪,মৃত্যু-১৮৯১

সূ্ত্রসমূহ-
১।র‌্যাঁবো:একটি জীবন-চন্ডী মুখোপাধ্যায়।
২।একটি ফিল্ম-টোটাল একলিপস(Total.Eclipse)1995-র‌্যাঁবোর ভুমিকায় অভিনয় করেন লিওনার্ডো ডি ক্যাপ্রিও।
টরেন্ট ডাউনলোডের জন্য-এখানে ক্লিক করুন
৩।উইকিপিডিয়া-http://en.wikipedia.org/wiki/Arthur_Rimbaud
৪।আমার ক্ষয়িষ্নু ও প্রায়শঃই বিশ্বাসঘাতকতাপ্রবণ স্মৃতি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হেদায়াত পেতে আলেম বাদ দিয়ে ওলামাকে মানুন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৯:১৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সহিহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্নিল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:২৪

বালকটি একা একাই খেলতো। একদিন একটা সাইকেলের চাকার রিমের পেছনে এক টুকরো লাঠি দিয়ে ঠেলে ঠেলে মনের আনন্দে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের কাঁচা রাস্তা ধরে সে দৌড়ে বেড়াচ্ছিল। দৌড়াতে দৌড়াতে মফস্বলের রেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিক দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ুক বর্ষবরণের সৌন্ধর্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

লিখেছেন মিশু মিলন, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ২:২৭

এই দেশ থেকে উপমহাদেশ, তার বাইরে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা সর্বত্র আজ বাঙ্গালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব হয়ে দাঁড়াচ্ছে নববর্ষ- পয়লা বৈশাখ। বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের মাস খানেক আগে থেকে ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:১৩



সবাই কে ঈদের সুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখলাম। তারাবী পড়লাম। শেষ তারাবির সময় কেমন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মনে হচ্ছিলো যেমন রোযা তাড়াতাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। গুলশানের হাই রাইজ বিল্ডিং

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:২৬

নিকেতন থেকে ভর সন্ধ্যায় রূপনগর ফিরছি উবের চড়ে । আজকের ফাকা শুনশান রাস্তায় গুলশান দেখা শুরু করলাম । বাহ অনেক দালান উঠেছে দুপাশে । সন্ধ্যার আলো জালানো দালানগুলো খুব চমৎকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×