somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মঈনকে পঁচিয়ে লেখা সায়েনস ফিকশন: মঈননগর আবাসিক প্রকল্প

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পাছে আপনারা বুঝতে ভুল করেন, তাই একেবারে শিরোনামে আমার উদ্দেশ্য বাংলা ও ইংরেজির খিচুড়িতে লিখলাম। এই গল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের টপ ব্লগারদের একজন, জনাব মঈনকে নির্মমভাবে পঁচানোর জন্য। লেখার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ওনারই একটি পোস্ট। মঈন এতে দুঃখ পেলে আমার কিছু করার নেই, বড়জোর দেখা হলে দুইটা বিক্কু খেতে দিতে পারি।)


প্রেস কনফারেনস চলছে। বাঘা বাঘা সাংবাদিকদের সামনে হাসিমুখে বসে আছেন মঈন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। এককালে কোথায় যেন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করতেন, সম্প্রতি নাসার কিছু প্রজেক্ট লটারিতে জিতে চাঁদে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করেছেন।
"জনাব মঈন," দৈনিক ঠুকে মারি পত্রিকার সাংবাদিক ফুয়াদ মহাজন উঠে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে নিয়ে গর্জে ওঠেন, "আমরা সবাই জানি এইসব চাঁদে হাউজিং ব্যবসা সম্ভব নয়! কিন্তু আপনি বাংলা ব্লগের মাধ্যমে সারা দুনিয়া জুড়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে বেড়াচ্ছেন, আপনি চাঁদে মঈননগর নামে এক আবাসিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যাচ্ছেন! আমরা তো একে এক প্রকৌশলীর আজগুবি চিন্তা হিসেবেই দেখছি। আপনি কি দয়া করে ব্যাখ্যা করবেন, আপনি কিভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করবেন?"
মঈন মৃদু হাসেন। অনেক কষ্টে তাঁকে এই মৃদু হাসি ম্যানেজ করতে হয়। হাসতে গেলেই সাধারণত তাঁর দুই পাটি দাঁতই বেরিয়ে পড়ে, সেগুলোকে বুঁজিয়ে রেখে হাসার ব্যাপারটা তাঁকে শিক্ষা করতে হয়েছে আয়নার সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে।
"পারি বইকি জনাব!" দৃপ্ত কনেঠ বলেন তিনি। "মঈননগর এখন আর অসম্ভব কিছু নয়, সত্যি। শিগগীরই আপনারা চাঁদের বুকে ঘরবাড়ি তুলে দারাপুত্রপরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে ঘর করতে পারবেন। চাঁদে বড় বড় দালান তুলবেন, বাড়ির সামনে ফুলের গাছ আর পিছনে পুঁইশাকের গাছ লাগাবেন, বিকালে চাঁদের গর্তগুলোতে বেড়াতে যেতে পারবেন। আর মাত্র কয়েকটা বছর!"
ফুয়াদ মহাজন ক্রুর হাসেন। "হাসালেন জনাব মঈন! ভুলে যাবেন না, আমিও ইস্কুলে দুইপাতা বিজ্ঞান পড়েছি! চাঁদে বাতাস নেই, পানি নেই, ওখানে কিভাবে মানুষ বাস করবে? চাষ করা তো দূরের কথা!"
মঈন করুণার হাসি হাসেন। মনে মনে অবশ্য একটু শঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি, সাংবাদিকগুলো আজকাল অ্যাতো লেখাপড়া করে কেন?
"এ কথা ঠিক যে চাঁদে বাতাস নেই।" মঈন হাসেন। "কিন্তু বাতাস দেয়া হবে। পানি নেই চাঁদে, সত্যি কথা। কিন্তু পানিও দেয়া হবে।"
ফুয়াদ মহাজন ঠা ঠা করে হাসেন। "কিভাবে দেবেন? পৃথিবী থেকে ফুঁ দিয়ে তো বাতাস পাঠাতে পারবেন না। দুই টাঙ্কি পানি পাঠিয়েও কুলাতে পারবেন না! তবে?"
উপস্থিত জনতার মুখে এই প্রশ্নটাই খেলা করে।
মঈন হাসেন মুহুহুহু করে। "জনাব ফুয়াদ, আপনি দু'পাতা পড়েই বিজ্ঞানে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। কষ্ট করে আরো একটা পাতা উলটালেই আপনি বুঝতে পারতেন, ফুঁ দিয়ে বা টাঙ্কি দিয়ে নয়, চাঁদে এসব জল বায়ুর ব্যবস্থা আমি করবো অন্যভাবে! কইয়ের তেলে কই ভেজে!"
ফুয়াদ মহাজন উদ্ধত স্বরে বলেন, "কিভাবে?"
মঈন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেন। "সোজা! চাঁদে প্রচুর বাতাস এখনই মজুদ আছে, কিন্তু শক্ত অবস্থায়! একেবারে জমাট বেঁধে টাইট হয়ে, মানে টাইটেনাস অক্সাইড হয়ে আছে সেই বাতাস। আমি চাঁদে একটা বিরাট ধামাকা ফাটানোর ব্যবস্থা করছি, যাতে এই বন্দী অক্সিজেন মুক্ত হয়ে চাঁদে একটা ছোটমাপের বায়ুমন্ডল তৈরি করে ফ্যালে! আর পানিও আসবে একই কায়দায়! চাঁদে প্রচুর বরফ আছে, আপনারা সম্ভবত জানেন। ঐ বরফই সেঁকে গলিয়ে পানি বার করা হবে। সেই পানি আমার মঈননগরের লোকজন খাবে, গোসল করবে, পুঁইশাকের গোড়ায় দেবে। বুঝতে পাল্লেন তো? জলবৎ তরলম যাকে বলে!"
চাঁদে যে অ্যাতো বাতাস ছিলো, ফুয়াদ মহাজন জানতেন না, তিনি থতমত খেয়ে একটু চুপ করে যান।
কিন্তু চুপ করে থাকার বান্দা তিনি নন, মূহুর্তেই ডুকরে ওঠেন, "কিন্তু এই ধামাকা আপনি ফাটাবেন কিভাবে, য়্যাঁ?"
মঈন ভুরু নাচিয়ে হাসেন। "কিছু আত্মঘাতী বোমারুর সাথে আমার চুক্তি হয়েছে, তারা আপাতত নাসায় ট্রেনিং নিচ্ছে, আগামী মাসেই রকেটে চেপে চাঁদে গিয়ে ধামাধাম ফাটানো শুরু করবে!"
সবাই শিউরে ওঠে মঈনের ভূমিহারী কূটচালের নমুনা দেখে।
এমন সময় বাইরে একটা শোরগোল ওঠে, সাংবাদিকদের কয়েকজন উঁকি মেরে দেখেন, অনেক লোক সেখানে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে, তারা প্রেস ক্লাব ঘেরাও করেছে। কারো প্ল্যাকার্ডে লেখা, 'মঈননগর বাতিল করো', কারো পোস্টারে লেখা, 'চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা চাঁদের চেয়েও জ্যোতি', কারো ব্যানারে লেখা, 'বিকিরণের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা বানাও!" ইত্যাদি ইত্যাদি।
সবাই এবার ছেঁকে ধরে মঈনকে, "এ ব্যাপারে আপনার কী প্রতিক্রিয়া?"
মঈন খিলখিল করে হাসেন। "ভাইসব, আমি প্রতিক্রিয়া কিভাবে ব্যক্ত করবো? আমি তো এখন অসুস্থ, এই দেখুন।" এই বলে তিনি শার্ট খুলে কোমরে পড়া একটা কোমরবন্ধ দ্যাখান সবাইকে।
সাংবাদিকরা চুপ করে যায়, মঈন চেয়ার ছেড়ে উঠে শিস দিতে দিতে বেরিয়ে যান।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×