একজন দুই চোখ দিয়ে দেখতে লাগল প্রশান্ত স্বর্গলোকের সমস্ত ভোর কীভাবে সোনার বরণ আলো ঝরায়, দিগন্তহীন ফুলের অজস্র রঙ কোন কোন ব্যাকুল পথে আকুল করা সুবাস ছড়ায়। আরজনের চোখ অতদূর, অত দিকে দিকে যেতে পারে না। অতো নীল, অতো উজাড় করা রঙিন স্বর্গ তার কাছে অজানাই থেকে গেল। চোখের সীমানা জুড়ে কেবল এক প্রাণহীন মানব মূর্তি। তার চোখেরা যুগ যুগ ধরে সেই একমাথা নিষ্প্রাণ কেশ, নির্জীব পিঠ, নিতম্ব আর একজোড়া থেমে থাকা পা দেখে স্বর্গজীবন কাটাতে লাগল।
প্রায় কয়েক হাজার বছর পর পৃথিবীর মানুষ যখন বিনাতারের টেলিফোনে খবর পাঠানো শিখল, তেমন জাদুকরী একদিনে....
একটা পথ পশ্চিমের অস্তপ্রায় সূর্য থেকে এসে এই সন্ধ্যাঘন ঘাটে মিশে আছে। আরেকটা পথ চলে গেছে নদী বরাবর সোজা উত্তরে। একটা কেবল নৌকা এসে ভিড়ল তখন ঘাটে। সেই দুইজন মানুষ-মূর্তিতে আচানক দেখা হল। দুনিয়ায় তাদের কেবল তরুণ যৌবন । সেই একমাথা নিষ্প্রাণ কেশ এখন কালোকাজল জ্বলে আছে; সেই বহুযুখ দেখা নিষ্পাণ শরীর এখন প্রাণের আবেগে কূলহীন ভেসে চলেছে।
এইতো সবার চেয়ে আপন হবে। সকল মনের চেয়ে এই মন তাকে বুঝবে ভীষণ; ভরা নদীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে এই আপনজনার মন বরাবর নাও ভাসানো যাবে; ঘোর ঘূর্ণিঝড়ে সমস্ত দুনিয়ায় এই আপনজনের মনেই হবে নির্ভরতার ঠাঁই।
একবার আকাশমুখে, আরেকবার মাটির বুকে চেয়ে রইল । তারপর সেইসব একাকার দিনের কথা, স্বর্গের সুগন্ধী রাতের কথা ধরে নিজের পরিচয় দিল সবচেয়ে আপনজনকে, যাকে অসংখ্য বছর পরে এই একলা নদীর ঘাটে চিনতে পেরে তার বুকের কোন এক মধ্যেখানে খানিক রক্ত রাঙা জবা হয়ে ফুটে আছে।
বৃথা সেই পরিচয়। অহেতুক এতো সহস্রকাল একসঙ্গে চোখে চোখে বেঁচে থাকা।
সবচেয়ে যাকে আপন মনে হয়, যেন সবচেয়ে দূরের তারার থেকেও তার বসবাস দূরে। তার দুই চোখ দিয়ে সে কেবল দেখেছে প্রশান্ত স্বর্গলোকের সমস্ত ভোর কীভাবে সোনার বরণ আলো ঝরায়, দিগন্তহীন ফুলের সহস্র রঙ কোন কোন ব্যাকুল পথে আকুল করা সুবাস ছড়ায়। তাকে ভালোবেসে বেসে ভেসে উজান বাওয়া চোখ সে চেনে না। কোনদিন পিছন ফিরে দেখতে পারেনি সমুদ্রগভীর নজরে যুগ যুগান্তর কোন একজন অবিরাম চেয়েছিল।
এতো সহস্রকাল চোখে চোখে একসাথে বেঁচে থাকা অর্থহীন। সবচেয়ে যাকে আপন মনে হয়, যেন সবচেয়ে দূরের তারার থেকেও তার বসবাস দূরে।
ছবি: অান্দ্রে ক্রেইজা
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




