আজ ৩১ জানুয়ারী, ২০১২ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) এবং এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) প্রযুক্তি সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজি উদ্দিন রাজু।পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওই ঘোষণা দেন। মোশতাক আহমেদ রুহীর (নেত্রকোনা) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশবাসীর জন্য আমরা ফোরজি প্রযুক্তি সেবা নিয়ে আসতে পারবো।’ এর আগে ইসরাফিল আলমের (নওগাঁ-৬) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দুই তিন মাসের মধ্যেই থ্রি জি প্রযুক্তি সেবা চালু করা হবে।এদিকে আজই এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ জানান, আগামী জুন মাসে থ্রি জি লাইসেন্স প্রদানের জন্য নিলাম আহ্বান করা হবে।এজন্য গাইড লাইন শিঘ্রী মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।এছাড়াও সম্প্রতী কালে ঘোষনা আছে আগামী ২৬ মার্চ আসছে টেলিটকের থ্রীজি।কিছু দিন পর টেলিটকের এই এই থ্রীজি আপগ্রেড করে ফোর্জি হয়ে যাবে।এখন আপনারা এদের দুইজনকে প্রশ্ন করেন, কোন ডা কিবায় ? ডিটেইল বুঝায়া দেন।কারন ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষনা দিয়েই প্রথম যে কাজটি সবচেয়ে জরুরী ছিল তা হলো ডিজিটাল যোগাযোগের অবকাঠামো ও ব্যান্ডউইথের ত্যাৎক্ষনিক ও সূদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়া।অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যান্য কাজ যেমন, কম্পিউটার যন্ত্রপাতী কেনা, ওয়েবসাইট বানানোতে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে অনেক অগ্রগতী করলেও ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম অপরিহার্য অবকাঠামো বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় প্রয়োজনীয় এক ইঞ্চিও অগ্রগতি করেনি।যার প্রভাব ও ক্ষতির পরিমান আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।তাই এদের জিগান ভালো করে, কারন এই দুই ব্যাক্তি প্রথম দিন থেকেই ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে বিশাল প্রতারনা করছে।নিচের ছোট ভিডিওটি দেখতে পারেন।
এবার শুনুন আমি সামান্য কয়েকটা বিষয় টাচ করে বলি, কি হয়েছে গত তিন বছরে ? তাহলে ক্লিয়ার হবে যাবে কি হবে ভবিষ্যতে।সব কুত্তা যেমন কুকুর না তেমনি টেলিটকের থ্রীজিও কোন দিন থ্রীজি হবে না, আপনার আমার কোন কামেই আসবে না।প্রমান হিসাবে দেখেন না ওয়াইম্যাক্স ফোর্জি স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারলেস ব্রডব্যান্ড হয়েও বাংলাদেশে এসে কেবিপিএস ব্যান্ডউইথের উপর সহসা লেদায় না! আর বেলেন, টেলিটকের থ্রীজি - দেশের মাত্র ৩০% গ্রাউন্ড মোবাইল কভারেজের ও অবর্ননীয় খারাপ নেটওয়ার্কের টেলিটক, যার মাত্র ৮ লাখ ইউজার তাকে সামনে রেখে যখন ৯ কোটি মোবাইল ইউজারের দেশের পলিসি মেকাররা থ্রীজি ফিউচার প্লান করে তখনই বুঝতে হবে ভিষন চক্রান্ত হচ্ছে, এর গভীরতাও অনেক অনেক - এটা অবশ্যম্ভাবী ধরে নিতে পারেন।টেলিটকের এই থ্রীজি কাহিনীর আইডিয়াটা শুরু হয় ২০০৯ সালেই।থ্রীজি হলে ভিওআইপি যেহেতু অটোমেটিক ওপেন হয়ে যাবে তাই দেশে প্রতিদিন ৬ কোটি মিনিট আইএসডি কলের সামান্য ভিওআইপিতে দৈনিক ৫০ কোটি টাকার অবৈধ্য বানিজ্য যতদিন সম্ভব বহাল রাখা যায় তাই করতে হবে।যেই চিন্তা সেই কাজ, চীন থেকে আড়াই শতাংশ সূদে টেলিটক ১৫০০ কোটি টাকা লোন নেয় তার থ্রীজি আপগ্রেডেশনের নামে, তিন চার বছর কাটানো যাবে এই উছিলায়, দেশী পন্য কিনে হও ধন্য শ্লোগান তো আছেই।যার শর্ত, চীন থেকে প্রডাক্ট আকারে এই টাকা নিতে হবে।প্রোডাক্ট আনার পারমিট পায় সামিট টেলিকম।আসলে টেলিটকের থ্রীজি, ফ্রীজি কিছু না, এই ১৫০০ কোটি টাকা লুটে খাওয়ার ধান্দা - দুনিয়ার কোন ইডিয়টই কল্পনাও করতে পারে না ৮ লাখ ইউজার ৩০% কভারেজের নেটওয়ার্ক ৯ কোটি মোবাইল ইউজারের দেশে থ্রীজি লীড করবে।আসলে একই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে টেলিটককে থ্রীজি করার উপযোগী করার সুজোগে ২০০৯ সালেই থ্রীজি রোলআউট কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় ব্যায় করা হবে এয়ারটেলকে সরাসরি থ্রীজি নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করার সুজোগ সৃষ্টি করতে।যার মানে গাছেরও খাওয়া তলারও কুড়ানো। এরপর বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল দুই মার্কেটই দখল করার নীতিগত সকল ব্যবস্থা করা হবে এয়ারটেল তথা ভারতের জন্য, যেমন ওয়ারিদের ৭০% শেয়ার এয়ারটেলকে মাত্র ১ কোটি টাকা দেখিয়ে কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছিল শুধু সরকারী ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য - ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কই হবে একটা দেশকে নিয়ন্ত্রন করার অন্যতম মাধ্যম, ভারতের বাংলাদেশ।অন্যদিকে এয়ারটেলের একমাত্র্র প্রতিদন্দি গ্রামীনফোনকে ঘায়েল করা কোন বিষয়ই না - ড ইউনূসের গ্রামীনের শেয়ারের মাধ্যমে ওটাকে আর একটা টেলিটক হতে পাঁচ বছরও লাগবে না।অথচ এই গ্রামীনফোন নেটওয়ার্কই হওয়ার কথাছিল এদেশের জনগণের গণতন্ত্রের নেটওয়ার্ক।কোম্পানীটি অলরেডি মার্কেটে আইপিও দিয়েছে - সরকারের উচিত ছিল আরও শেয়ার ছেড়ে নেটওয়ার্টিতে আরও অধিক জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।সরকার আসলে চাচ্ছে ভারত ও নিজেদের রাজনৈতীক স্বার্থে বাংলাদেশে একটি নিয়ন্ত্রীত ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরী করতে।এর অংশ হিসাবে গত তিন বছর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।দেখেন না, গত তিন বছরে দেশের মূল অবকাঠামো অপটিক ক্যবল ব্যডব্যন্ড বেকবোনের এক ইঞ্চিও কাজ হয়নি।বরং সামিট এট হোম ও আর একটি কোম্পানী দিয়ে তারা নাকি দেশের ১০০০ ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত অপটিক ক্যাবল নিয়েগেছে, যা হবে সকল সরকারী অফিস আদালত গুলোর জন্য ইন্ট্রানেট।আপনি কোথাও কোন জেলায়ও দেখেছেন কেউ বাসায় বা অফিসে অপটিক ক্যবল সংযোগ পেয়েছে ? অথচ ১০০০ ইউনিয়ন পর্যন্ত নাকি, তাড় চলে গেছে !
থ্রীজি-3G হচ্ছে "থার্ড জেনারেশন মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক", এর দুইটি বড় গুন হলো এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আমরা যে ভয়েসের শেয়ার করতে পারি ৩জিতে চাইলে ভয়েসের সাথে দুইজন বা অধিক জনে দূরে ভিন্ন ভিন্ন লোকেশনে থেকেও ভয়েসের সাথে সাথে লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং শেয়ার করতে পারবে।এ ধরনের কলের জন্য নেটওয়ার্ক অপারেটরেরা সাধারনত দেড় গুন চার্য করে থাকে।এতে কি হয় ? অনেক কিছু হয়।আচ্ছা বলুন তো, মোবাইলে কাম হইয়া গেলে কি আপনি জান ? সাথে যদি লাইভ দেখা হয়ে যায় আরও কত কামে লাগব ? আর তখন মোবাইলে টাকা দেওয়া নেওয়াটা যখন হয়ে যাবে তখন কি আর কিছু বাকি থাকবে ? রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনাও কমে যাবে -কেননা অনেক কাজেই কেউ বাইরে যাবে না, তালিকা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকবে।
বাংলাদেশে আমরা ২০১১ সালেও যে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছি একে অন্তত দশ বছর আগের ২.৫জি/(জিপিআরএস-GPRS) বা ২.৭৫জি/(এজ-EDGE) নেটওয়ার্ক দাবি করা হয়।এক কথায় বলতে পারবেন দ্বিতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক।একে থ্রীজিতে আপগ্রেড করতে মোবাইল অপারেটরগুলির সরকারের অনুমোদন লাগবে ও থ্রীজে স্পেকটার্ম ফি দিয়ে চালাতে হবে।উল্লেখ্য ১৯৯৮ সালে জাপানে চালু হয়েছিল বিশ্বের প্রথম প্রী-কমার্শিয়াল থ্রীজি নেটওয়ার্ক।বিশ্বের সর্বশেষ দেশ হিসাবে ভারত ২০০৯ সালে, সুদানে ৩জি রোলআউট হয় ২০০৭ সালে, শৃলংকায় ২০০৪ সালে ৩জি স্পেটার্ম টেস্ট ওপন করে ২০০৫ সালে ৩জি ফ্রি রোলআউট হয়।৯ জুলাই, ২০০৮ সালে বার্মায়, ৬ মে, ২০০৮ সালে ভুটান, মে, ২০০৭ নেপালে, জানুয়ারী, ২০০৮ পাকিস্তান, ফেব্রুয়ারী, ২০০৮ মালদ্বীপ, ৭ মার্চ, ২০০৮ উগান্ডা।
থ্রীজির আবির্ভাবে মোবাইল কমিউনিকেশনে যতনা প্রভাবফেলে তারচেয়ে বহুগুন বেশি প্রভাব ফেলে ইন্টারনেটে জগতে।মোবাইল ব্রডব্যন্ড বা ইউনিভার্সাল ব্রডব্যন্ড এ্যন্ড ইউজারের হাতে পেয়ে ইন্টারনেট জগতে তোলপার হয়ে যায়।ওয়েব জগতে একের পর এক ঢুকতে থাকে মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডের অসংখ্য বিষয়।মূলত গত দশকের শুরুতেই ব্রডব্যন্ড ছাড়া ইন্টারনেট অচল হয়ে যায়।আর তখনও আমাদের এদেশে সেই আদিকালের কপার তাড়ের টেলিফোন সিস্টেম।এই অপটিক ক্যবলে রিপ্লেইস হয়ে সারাদেশের সর্বোচ্চ ১০% হোল্ডিংস পর্যন্তও আগামী ত্রিশ বছরেও পৌছুতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।একদিন জেলা, উপজেলা হাওড়, বাওড় ও পাহাড়ে জালের মত অপটিক ক্যাবল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেব, সেরকম স্বপ্ন দেখা ঘুমের মধ্যেও উচিত হবে না।উল্লেখ্য দক্ষিন কোরিয়া তার অপটিক ক্যবল বেকবোনের কাজ শুরু করেছিল ১৯৮৯ সালে।তাহলে বাংলাদেশ ব্রডব্যন্ড অবকাঠামোর উপায় কি ? ইমিডিয়েট উপায় একটাই, থ্রীজি।সে হিসাবে ২০০৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ যখন প্রথম সাবমেরিন ক্যবলে যুক্ত হয়ে ছিল সেই সময়টাই ছিল বাংলাদেশে থ্রীজি রোল আউট করার উপযুক্ত ও অপরিহার্য সময়।এর আগে আসলেও যে কথা না আসলেও একই কথা ছিল -কেননা ব্যন্ডউইথই ছিল না, আবার ব্রডব্যন্ড।আবার এত দেরিতে সাবমেরিন ক্যবলে যুক্ত হওয়ায় ক্ষতি সামান্য পুষিয়ে নিতে ব্রডব্যন্ড সহায়তা করতো।তাই থ্রীজি মোবাইল নেটওয়ার্কের চেয়ে থ্রীজি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ন - একমাত্র ইমিডিয়েট ব্রডব্যন্ড সলিউশন।যদি ওয়াইম্যাক্স তাহলে বলবো গত প্রায় চার বছরেও যেই ওয়াইম্যাক্স শুধু ঢাকার মানুষের কাছেই পৌছুতে পারছে না তাহলে এই ব্রডব্যেন্ড সুনামগঞ্জের শাল্লায় পৌছাতে পুরো একবিংশ শতাব্দী লেগে যাবে ! সুতরাং থ্রীজি অন্য যে কারো তুলনায় আমাদের জন্য একমাত্র আশির্বাদ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেই বর্তমান সরকার ঘোষনা দিয়েছিল, ৬ মাসের মধ্যে আসছে থ্রীজি অথচ এই থ্রীজি নিয়ে সেনা বাহিনীর কলংক অবসর প্রাপ্ত এই জেনারেল সাহেব কি করলেন !আমাদের থ্রীজি লাইসেন্সিং নীতিমালা তৈরী করতে করতে ২০০৯ থেকে সাড়ে তিন বছর লাগিয়ে দিলেন - এখনও ইনকমপ্লিট- যদিও কেয়ারটেকার সরকার না এলে ২০০৮ সালের মধ্যে এখানে ৩জি ওপেন হওয়ার কনফার্ম ছিল।এত দেরি হওয়ার পরও আরও সাড়ে তিন বছর লাগিয়ে এই ইডিয়ট-ইভিল বিটিআরসি ও এর চেয়ারম্যান ব্রিঃ জেনারেল জিয়া উদ্দিন যা একটা নীতিমালা করলেন! নয় কোটি মোবাইল ইউজারের এই দেশে, প্রথমে আট লাখ গ্রাহকের টেলিটককে পরীক্ষামূলক অনুমতি দেওয়া হবে - শোনা যাচ্ছে আগামী ২৬ মার্চ আসছে - চিন্তা করুন অবস্থা ! ছয় মাস পরীক্ষার পর ওপেন করা হবে বাকি অপারেটরদের জন্য, এরপর হবে থ্রীজি স্পেকটার্ম নিলাম, এরপর চালু।অথচ গ্রামীন সহ কয়েকটি মোবাইল অপারেটর তাদের নেটওয়ার্ক অলরেডি আপগ্রেড করে রেখেছে -সবুজ বাতি বিজ্ঞাপনটি দেখবেন - এই মুহুর্তে অনুমতি দিলে তিন ঘন্টার মধ্যে সারা ঢাকায় থ্রীজি চালু করতে পারবে। সাবমেরিন ক্যবলেও ১১০ জিবিপিএস ব্যন্ডউইথ অব্যবহৃত রয়েছে।
জানেন কি থ্রীজির অভাবে দেশকে প্রতিদিন কি পরিমান ব্যন্ডউইথ ক্ষতি হচ্ছে।
ব্যান্ডউইথঃ তথ্য প্রযুক্তির তিনটি পিলার হলো ব্যান্ডউইথ, অনলাইন ইন্টারফেইস টেকনোলজি ও ডিভাইস।ডমেস্টিক ব্যান্ডউইথ ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার।এই তিনটির মথ্যে আবার ব্যান্ডউইথ অন্যতম।সকল কিছু পরিমাপ করার জন্য যেমন কোন না কোন পরিমাপের ব্যবস্থা থাকে তেমনি একটা দেশ তথ্য প্রযুক্তিতে কতটুকু অগ্রগতি করেছে বা তার আইসিটি এ্যাকটিভিটির পরিমান কত তা জানতে ঐ দেশের জাতীয় ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমান জানতে হবে।আবার বলা যেতে পারে কোন দেশের মাথাপিছু ব্যান্ডউথ ব্যবহারই ঐ দেশের তথ্য প্রযুক্তির অর্জন। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি বা ব্যান্ডউইথ নিয়ে যে অচল অবস্থা, বিশ্বের সর্বনিম্ন গতি, তা কিন্তু আমাদের ব্যান্ডউইথ না থাকার কারনে না, বরং ব্যান্ডউইথ ব্যবহার নীতিমালার কারনে।কারন আমাদের ব্রডব্যান্ডের সংগা ও ব্যান্ডউইথ ব্যবহার নীতিমালার করনে এই মুহুর্তে আমাদের সাবমেরিন ক্যবলে গত বছর অক্টবর মাসে থার্ড আপগ্রেডেশনে যোগ হওয়া নতুন ১১০ জিবিপিএস ও ২০০৮ সাল থেকে থাকা আগের ৪৪ সহ ১৬৪ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের ১১ ভাগের মাত্র ১ ভাগ ব্যবহার হচ্ছে ও ১০ ভাগ অব্যবহৃত থাকছে - ঠিক থাকে না নষ্ট হয়।অর্থাৎ আমাদের মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার মাত্র ১৫ জিবিপিএস।কারন ব্যন্ডউইথ ব্যবহার করা না করা সব বিটিআরসির ব্যান্ডউইথ পলিসি ও নীতিমালার উপর নির্ভরশিল - এরপরও দেখবেন ফেয়ার ইউজ পলিসি নামে কন্টেন্ট লিমিটেশনও আছে।
এক হিসাবে দেখা যায়ঃ সাবমেরিন ক্যবলে গত ৩ বছরে (৩০ x ৬০ x ৬০ x ২৪ x ৩৬৫ x ৩) ভাগ ১০০০ = ২৮,৩৮,২৪০ টেরাবিট বা প্রায় ৩০ লক্ষ টেরাবিট কন্টেন্ট অব্যবহৃত ছিল - যেখানে ১ জিবি কন্টেন্ট বর্তমান বাংলাদেশে ভ্যাট ছাড়া ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।এখন প্রতি জিবি কন্টেন্ট ১০০/- টাকা করে ধরলেও এই ক্ষতির আর্থিক পরিমান ২৮,৩৮,২৪০ x ১০০ x ১০০০ = ২৮৩,৮২,৪০,০০,০০০ টাকা বা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।এই মুহুর্তেও ১৫০ জিবিপিএস ব্যন্ডউইথ নষ্ট হচ্ছে।আর আমরা বিশ্বে সবশেষ দেশ হিসাবে সাবমেরিন ক্যবলে যুক্ত হয়ে গত ৩ বছর ধরে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত রেখে জনগণকে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করেও গত ৩ বছরে আপনার যে ডিজিটাল অগ্রগতি হয়েছেন বলে আপনি আস্ফালন করেন, তার পরিমান কিন্তু অব্যবহারের অর্থেক বা ১৪,১৯,১২০ টেরাবিট'ই।এইটুকু কন্টেন্টই বাংলাদেশ গত ৩ বছরে আপলোড ও ডাউনলোড করেছে।আজ নেটে সার্চ দিয়ে যা বাংলার কন্টেন্ট পান তা এরই অংশ -৩ বছর বাংলাদেশ এটুকুই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।যদি এই ব্যবহারের পরিমান ৪২,৫৭,৪০০ টেরাবিট হতো তাহলে আজ আরও তত পরিমান নেটে আপলোড/ডাউনলোড হতো নাকি ? এতে আপনার উন্নতি কি কম হতো, না বেশি ? আপনি জানেন কি আজ পর্যন্ত ভিয়েতনামের কন্টেন্ট অভিজ্ঞতা, কয় শত কোটি টেরাবিট ?
এবার আর একটি মজার কাহিনী দেখুন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আজ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতিরাও মাইকে গলা ফাটায়া বলেন, ১৯৯৪ সালে বিএনপি সাবমেরিন ক্যবলে সংযুক্ত না হয়ে বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষতিটি করেছে - এই কথা শুনে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী থেকে শরু করে ঢাবির ভিসি পযন্ত হাত তালি দেয়।চলুনতো সে সময়ের ক্ষতির পরিমানটি টাকা ভ্যালুতে দেখি! কি বলেন ? সে সময় সাবমেরিন ক্যবল না থাকলেও আমারা ভিস্যাটের মাধ্যমে আনা নেট ইউজ করেছিলাম।যার পরিমান সর্বোচ্চ কয়েক এমবিপিএস থেকে ২০০৬ সালে এসে সর্বোচ্চ ৫০০ এমবিপিএস পর্যন্ত ছিল।ততকালীন সিমিউই-৩ ক্যবলে, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে ২০০৬ পর্যন্ত আপগ্রেড করে সর্বচ্চ ৫০০ এমবিপিএস থেকে ২ জিবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ পেতো।তাহলে ১২ বছরে বিএনপি ক্ষতি করেছে সর্বোচ্চো ৩,৭৮,৪৩২ টেরাবিট কন্টেন্ট। সুতরাং দেখা যায় বর্তমান সরকার ৩ বছরেই সেই সময় বিএনপির করা ক্ষতির ৯ গুন বেশি ক্ষতি করেছে।
এখানেই শেষ নয়, সেদিন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে জানালেন, গত বছর অক্টবর মাসে আমাদের সাবমেরিন ক্যবল তৃতীয় আপগ্রডেশনের মাধ্যমে মাত্র ৫০ কোটি টাকা খরচ করে ৪৫ জিবিবিএস থেকে ১৬৪ জিবিপিএস সংযোগে উন্নিত হয়েছে।তার মানে গত ৩ মাস যাবৎ ব্যবহার করছি ১৫ জিবিপিএস আর অব্যবহৃত রাখছি ১৫০ জিবিপিএস -হায়হায়হায়।এটাও কিন্তু ঠিক না, আরও আছে, এই যে তৃতীয় আপগ্রেডেশনটি তা সিডিউল মত হওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালে ডিসেম্বর মাসে।এরপর ২০১০ সালে ও ২০১১ সালের আপগ্রেডেশন এই ক্যবলটি আজ তার সর্বশেষ ১.২৮ টেরাবিট ব্যন্ডউইথে উন্নিত হয়ে গেছে।শ্রীলাংকার'ই এই একই ক্যবলে ১.২৮ টেরাবিট ব্যন্ডউইথ আছে আজ।তাহলে দেখেন ৩ বছরে বিএনপির কয়েকশ গুন বেশি ক্ষতি করেছে ? তাই বলছিলাম ১৯৯৪ সালে সাবমেরিন ক্যবল মাথায় না দিয়ে বিএনপি যা ক্ষতি করেছিল, গত ৩ বছরেই আওয়ামী লীগ তার ৩০০ গুনেরও বেশি ক্ষতি করেছে -হিসাব সহ দেখাইয়া দেওয়া যাবে -শুধু দেশের শিক্ষিত-মূর্খরা বুঝবে না এই যা, কারন এরা সব টিউব লাইট, তাই সরকারের প্রতিটি মাইর এদের বুঝতেই ৫ বছর লেগে যায়।
পরিশেষে বলবো - আপনাদের জন্য তৈরী হচ্ছে বৈজ্ঞানীক সমাজতান্ত্রীক ইন্টারনেট - ভবিষ্যতবানীঃ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ইন্টারনেট (চীনে সমাজতান্ত্রীক ইন্টারনেট)
এখনও জেগে উঠুন, তানা হলে নতুন করে শুরু করবেন দূরের কথা এই বৈজ্ঞানীক সমাজতান্ত্রীক ইন্টারনেটের তাড়ের ব্যেড় খুলতেই দুই দশক লাগবে।
তথ্যসূত্রঃ Digital Bangladesh Warriors
পাঠকের প্রতি অনুরোধ লেখাটি আপনি অন্তত ১ জায়গায় কোথাও শেয়ার করুন, এতেই এই গুরুত্বপূর্ন তথ্য লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে ছড়িয়ে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

