সব রেস্তোরাঁকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে তারা।
জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি কমর উদ্দিন আহমেদ খোকন বলেন, “আজ (শনিবার) থেকে আমাদের সব রেস্তোরাঁ ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করছি।”
দেশের প্রায় ৫৫ হাজার রেস্তোরাঁ ধূমপানমুক্ত করার এই ঘোষণা কার্যকর নিশ্চিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তামাকবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধের আইনের মতো এই ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।
‘পাবলিক প্লেসে’ ধূমপানের জন্য জরিমানার বিধান করে আইন হওয়ার পরপরই তা প্রয়োগে তৎপরতা দেখা গেলেও ধীরে ধীরে তাতে ভাটা পড়েছে।
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান রেস্তোরাঁ মালিকদের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে শিগগিরই এই সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ জারির আশ্বাস দিয়েছেন।
“আগামী মাসের মধ্যে রেস্তোরাঁগুলোকে জনসমাগমস্থল ঘোষণা করে একটি অধ্যাদেশ জারি হবে, আমি এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি,” বলেন তিনি।
ঘোষণা বাস্তবায়নের বিষয়ে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব এম রেজাউল করিম সরকার রবিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা একটি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করেছেন এবং তা ধরে এগোবেন তারা।
“আমরা রেস্তোরাঁগুলোতে ধূমপানমুক্ত একটি সঙ্কেত লাগাব এবং ধূমপানমুক্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁ ম্যানেজারদের নির্দেশনা দেব,” বলেন তিনি।
এছাড়া নিজ উদ্যোগে বিষয়টি তদারকির জন্য সব মালিকদের নিজ নিজ রেস্তোরাঁয় যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান মহাসচিব।
বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কমপক্ষে ৪৩ শতাংশ মানুষ তামাক ও তামাকজাত পণ্য সেবন করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে তামাক ও তামাকজাত পণ্য সেবনজনিত কারণে ৫৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ এ সংক্রান্ত রোগে ভোগে।
পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও মানুষের মৃত্যু হয়- সমীক্ষায় এমন তথ্য দেখা যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অফ টোবাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) অনুযায়ী ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি খোকন বলেন, “যখন সরকার এটা করছে না তখন আমরা কিছু করার চেষ্টা করছি।”
রেস্তোরাঁ ধূমপানমুক্ত হলে তাদের ব্যবসাও ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“ রেস্তোরাঁর মধ্যে ধূমপান করতে না পারলে কেউ বেশিক্ষণ বসে থাকবে না। আমরা অন্য ক্রেতাকে খাবার দেওয়ার সুযোগ পাব,” বলেন খোকন।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস ইন বাংলাদেশের সমন্বয়ক তাইফুর রহমান বলেন, আইনে রেস্তোরাঁকে পাবলিক প্লেস হিসেবে ঘোষণা করা হলে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে।
“সংশোধিত অ্যাক্টে এটা প্রস্তাব করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারাও মনে করেন, পাবলিক প্লেসের তালিকায় রেস্তোরাঁকে একবার অন্তর্ভুক্ত করা হলে তারা যথাযথভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, তামাক শিল্প থেকে সরকার যে রাজস্ব পায় তার দ্বিগুন অর্থ ব্যয় হয় তামাক ও তামাকজাত পণ্য সেবনজনিত রোগের চিকিৎসায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


