সামাজিক বিবর্তনের সামপ্রতিক প্রবণতা: আমাদের ভূমিকা
আবর্তন ক্রিয়েটিভ সেল।।
(গত পর্বের পর)
শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীলতা:
বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঠামোগত কিংবা ক্ষেত্র, পরিধি ও শাখা-প্রশাখার বিস্তার সাধিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত নৈতিক মূল্যবোধ, নীতি নৈতিকতার পরিমাণ কমেছে। শিক্ষার মাধ্যমে আজ মূলত: সামাজিক সংহতি ও মানুষের প্রতি ভালবাসা বোধ জাগিয়ে তোলা হয়না। শিক্ষার মাধমে আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বস্তুগত ধ্যান-ধারণা ও বৈষয়িক স্বার্থগত উন্নতির কথা চিন্তা করা হয়। যে শিক্ষাা কারিকুলাম বা শিক্ষা নীতি মানুষের তাত্তি্বক ও মানসিক উন্নতি সাধনে উপযোগী তা বাংলাদেশের শিক্ষাা ব্যবস্থায় অনুপস্থিত। পাশ্চাত্য ও বস্তুবাদী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাবে সামাজিক ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে তাতে করে আত্মকেন্দ্রীকতা, স্বার্থপরতা, পারিবারিক বন্ধনহীনতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক আইন ও রীতি নীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন, বেকারত্ব বৃদ্ধি, যান্ত্রিকতা বৃদ্ধি, মানবতার লংঘন, পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-ভালবাসার পরিবর্তে হিংসা-বিদ্বেষ, চাতুর্যতা, ঠকবাজি, হঠকারিতা ইত্যাদি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়াও সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সামপ্রতিক যেসব প্রবণতা চোখে পড়ছে সেগুলোর মধ্যে মানুষের মধ্যে পাশ্চত্যমুখী সংস্কৃতির লালন, সামাজিক প্রথা ও কুসংস্কার ত্রাস পাওয়া, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ছেলে-মেয়েদেরকে পড়ানো ইত্যাদি অন্যতম। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ানো-তো আজকাল একটি ফ্যাশন ও আভিজাত্যের পরিচায়ক হয়ে উঠেছে।এতে করে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে শিশু-কিশোররা নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য,সংস্ক্ৃতি ভুলে বিদেশী সংস্কৃতিতে মোহাচছন্ন হয়ে পড়ছে।কারণ এ সমস্ত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর পাঠ্যসূচীতে বিদেশী বই-পত্র ও ইতিহাসই পড়ানো হয়। বর্তমান সময়ের শিক্ষার ফলে মানুষ যে আত্মকেন্দ্রীকতার পরিচয় দিচেছ তাতে সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা, অন্যের সুখে দঃুখে অংশগ্রহণের মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়, ব্যর্থ হয় শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য, শিক্ষা পথ হারা অন্ধকার গলিপথের দিশেহারা পথিকের সামনে আলোর মশাল না হয়ে বরং অবতীর্ণ হচ্ছে ডাকাতের ভূমিকায়, সর্বশ্ব লুটের নেশায়। অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষা পারিবারিক কাঠামো দুর্বলের সহায়ক হয়েছে। বৃদ্ধ পিতা-মাতা কিংবা ছোট ভাই-বোনের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য থেকে মুক্ত হয়ে একান্ত স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালসহ উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান নিম্মমুখী, শিক্ষা আজ কেবলই বাণিজ্যিক পণ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ কথিত বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষকরা দুনীর্তিতে নিমজ্জিত এবং বুদ্ধি ব্যবসাযী হিসেবে কাজ করছে। তবে এর মাঝেও কিছু মহৎ প্রাণ ব্যক্তি আলোর মশাল না হলেও লন্ঠন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের তৎপরতা ও সহযোগিতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




