somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উইকিতে কেন লিখি?

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পোস্টে লিখেছিলাম উইকিতে আমার সূচনা নিয়ে। উইকিতে আগমনের পর বিভিন্নজনের একটা চেষ্টা দেখলাম অন্যদের উইকিতে টানবার। ফলে আমি নিজেও আংশিক এতে অংশ গ্রহণে আগ্রহী হই। প্রথমে এমন কয়েকজনকে টার্গেট করি যাদের নেট আছে। তাদের আহ্ববান জানাবার আগে তাদের বাংলা ইউনিকোড ও ফোনেটিক টাইপিং এর ব্যাপরটা বুঝাই। সবাই বাংলাতে চ্যাটিং-এ খুব আগ্রহ দেখায়।



দ্বিতীয় ধাপে তাদের বললাম, উইকির কথা। দেখলাম ইংরেজী উইকির কথা প্রায় সবাই কম বেশি জানে। কিন্তু, বাংলা উইকি তাদের কাছে অপরিচিত। দু’একজনকে বোঝালাম, কিন্তু প্রথম যে প্রশ্নের সমুক্ষিণ হলাম তা হল, “লাভ কি?”। এ প্রশ্নের কোন পরিস্কার উত্তর ছিল না আমার কাছে। কারন, উইকিতে সময় দিয়ে বর্তমানের কর্মব্যস্ত মানুষের কি পার্থিব বা ব্যক্তিগত লাভ হতে পারে তা আমি ভেবেদেখি নি। একটা পর্যায়ে মনে হল, অন্যকে বোঝাবার আগে আমার নিজের কাছেই পরিস্কার হতে হবে আমি নিজে উইকিতে কেন সময় দেই? কি পাই? কেন লিখি? এ জন্যই এই পোস্ট।


প্রথম যখন ইংরেজী উইকির খবর পাই, তখন দেখলাম গুগল তার খোজাখুজির ফলাফলে উইকিকে প্রাধান্য দেয়। তখন, ইংরেজী উইকিতে বাংলাদেশ অণুজীব বিজ্ঞান সমিতি নিয়ে একটা নিবন্ধ লিখলাম। কিছুদিনের মাঝেই দেখলাম, গুগলে প্রথমেই বিএসএমকে পাওয়া যাচ্ছে। এক পর্যায়ে অভ্র চিনলাম, সেখান থেকে ইয়াহুতে বাংলা উইকি গ্রুপের সাথে পরিচয় ও সদস্য হওয়া। সে গ্রুপ থেকেই বাংলা উইকির সাথে পথচলা।


প্রথমেই গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাতায়। সেখানে আমার ঢাবিতে আমার “অণুজীব বিজ্ঞান” বিভায় নিয়ে লিখলাম, এটাই শুরু। বলতে বাঁধা নেই, প্রথম শুরু করেছিলাম এক প্রকার প্রচারের উদ্দেশ্যে। যেহেতু, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ ও সেই সাথে বিষয়টিও বাংলাদেশের অনেকের কাছেই অপরিচিত এবং অনেকেই এই সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছে। আমি চাইছিলাম, অনলাইনে ব্যাপারটা বাংলায় তুলে ধরা দায়িত্ব নিজে নিতে এবং এর জন্য বাংলা উইকি আমার কাছে সবথেকে ভাল মাধ্যম বলে মনে হয়েছিল।


ঢাবিতে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে লিখতে গিয়ে শুরু করলাম অণুজীব বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে লেখা। লিংক দিতে গিয়ে দেখা গেল, বাংলা উইকিতে জীববিজ্ঞান বিষয়ক কিছুই নেই। প্রথমে নিজের নিবন্ধের লাল লিংক গুলো নীল করবার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলাম। এরপর, চলতেই থাকলাম চলতেই থাকলাম। চলতে চলতে ডুবে গেলাম। লেখা পড়ে হয়ত কারও কারও মনে হতে পারে, বাংলা উইকিতে আমি হয়ত আহামরি কিছু করে ফেলছি। কিন্তু, সত্য হল অনেকের কাজের সামনে, আমি একজন নিতান্তই তুচ্ছ উইকিপেডিয়ান। যদিও, বলতে বাঁধা নেই, আমি একজন যথেষ্ট সক্রিয় ডিইউ উইকিপেডিয়ান।


সময়ের সাথে আজ প্রায় এক বছর পর উইকিতে আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে সময় দেই। এখন, কাজ করি বাংলা ভাষায় আমার আগ্রহের বিষয়গুলোকে অনলাইনে তুলে ধরতে । যদিও বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গঠন মূলক ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি, কিন্তু বিশ্বাস করি একদিন অনেকেই অনলাইনে বাংলায় সার্চ করবেন। অন্তত্য, কিছু আদৌও পাওয়া যায় কিনা তা দেখবার জন্য। সে তথ্য না পেয়ে ইনশাল্লাহ্‌ তার হতাশ হতে হবে না। তার মনে হবে না, অনলাইন দুনিয়ায় তার নিজের বাংলা ভাষা সম্পূর্ণ অচল।


নিজের জানা বিষয় অনলাইনে তুলে ধরবার থেকে, আমার অধিক আগ্রহ সেটাকে বাংলায় তুলে ধরার। সেজন্য, ইংরেজী উইকিতে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। যদিও, অনেকেই আমার সাথে ভিন্নমত পোষন করে দু’একটা উপদেশ ছুড়ে দেবেন। তবুও আমি শুধু বাংলাভাষার জন্যই উইকিতে লিখিব। একটা সময় উইকিতে প্রবেশদ্বার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছিল। তার সারমর্ম ছিল এই যে, আমি উইকির বিশ্বকোষীয় চরিত্রের বিপরীতে গিয়ে, একে শুধু বাঙালির বাংলাভাষার বিশ্বকোষ মনে করছি। কারন, প্রবেশদ্বার আমি এমন ভাবে সাজাতাম যেন, এটা শুধু বাঙালির বিশ্বকোষ। স্বীকার করছি, এটা আমার একটা দোষ। রাগিব ভাই। তার সামহোয়ারইনের একটা পোস্টে লিখেছেন, “নানা লোকে নানা কারনে উইকিতে লিখে”। আমিও না হয় ঐ এক কারনে লিখি, হোক না সেটা খানিকটা দোষের।


এখন, প্রশ্ন হল, বাংলাভাষার জন্য লিখে আমার ব্যক্তিগত লাভ কি? না পাব টাকাপয়সা, না পাব নামধাম!! আমার উত্তর হবে, “হয়ত খানিকটা সস্তি, খানিকটা আনন্দ”। এই মুহুর্তে দেশ, জাতি বা ভাষার জন্য নিজেকে তৈরি করা ভিন্ন আর কিছু করার নেই আমার (হয়ত আছে, কিন্তু আমি তা জানি না, আমার আগ্রহ নেই অথবা যোগ্যতা নেই)। উইকিতে কিছু সময় দিয়ে আমি এটা ভেবে সস্তি পাব যে উইকি নামক মহাযজ্ঞে বাংলাভাষাভাষীদের সাথী হয়ে, বাংলা ভাষার জন্য কিছুটা হলেও দায়িত্ব পালন করতে পারছি।

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×