ইদানীং অপরাধসংক্রান্ত খবর দেখতে গিয়ে একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন বারবার মাথায় আসে।
দুর্নীতি, ঘুষ, প্রতারণা, অবৈধ ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার হতে দেখি, তাদের একটা অংশকে অন্তত বাহ্যিকভাবে বেশ ধার্মিক বলেই মনে হয়। কারও পোশাকে ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট, কারও দাড়ি, কারও কথাবার্তা বা সামাজিক পরিচয়ে ধর্মের উপস্থিতি প্রবল।
এখানেই প্রশ্নটা।
এটা কি শুধুই আমাদের চোখের ভুল? অর্থাৎ ধর্মীয় চিহ্ন দৃশ্যমান বলে আমরা তাদের বেশি মনে রাখছি? একজন সাধারণ পোশাকের দুর্নীতিবাজকে হয়তো কয়েক দিন পর ভুলে যাই, কিন্তু দৃশ্যত ধার্মিক একজন মানুষ একই অপরাধ করলে বৈপরীত্যের কারণে ঘটনাটা বেশি মনে থাকে।
নাকি এর মধ্যে সত্যিই কোনো সামাজিক পরিবর্তন আছে?
গত কয়েক দশকে আমাদের সমাজে ধর্মের দৃশ্যমানতা বেড়েছে। পোশাক, ভাষা, সামাজিক আচরণ, ব্যবসা, এমনকি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়েও ধর্মীয় পরিচয় আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রকাশ্য। একই সময়ে দুর্নীতি, প্রতারণা ও নানা ধরনের অপরাধও আমাদের আলোচনায় প্রবলভাবে উপস্থিত।
কিন্তু দুটি ঘটনা একই সময়ে ঘটছে বলেই একটি আরেকটির কারণ, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না।
বরং আমার প্রশ্নটা উল্টো।
একজন মানুষ কি অপরাধ করতে করতে ধর্মের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন? নিজের কাজ নিয়ে অপরাধবোধ থেকে? ক্ষমা পাওয়ার আশায়? নিজের কাছে নিজেকে নৈতিক মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য? নাকি ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে তার অপরাধের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা শুধু দৃশ্যমান বৈপরীত্যটুকু বেশি লক্ষ্য করছি?
আরেকটি সম্ভাবনাও কি আছে? সমাজে যখন ধর্মীয় পরিচয় নিজেই সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার একটি শক্তিশালী সংকেত হয়ে ওঠে, তখন অসৎ মানুষও কি সেই পরিচয়কে নিজের সামাজিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে?
প্রশ্নটা ধর্ম নিয়ে নয়। প্রশ্নটা মানুষের আচরণ নিয়ে।
ধার্মিক দেখানো আর নৈতিক হওয়া কি একই জিনিস?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



