আগের পর্বের লিংক
আমাদের এইচএসসি পরীক্ষার সময় প্রথমবারের মত ঢাকা কলেজের সিট পড়লো ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজে(এইটা নিয়াও কম কাহিনী হয় নি,অন্য আরেকদিন সেই গল্প করবো)।মাঝারি সাইজের রুম।প্রতিদিন ১জন করে টিচার গার্ড পড়তেন এবং সাধারণত ১ম পত্রের পরীক্ষায় যিনি গার্ডে আসতেন ২য় পত্রের দিনও তিনিই থাকতেন।
ফিজিক্স ১ম পত্রের দিন এলেন হিন্দি সিনেমার ভিলেনসদৃশ এক স্যার।কামানো মাথা,ফরসা চেহারা,সুঠামদেহী,চোখে সানগ্লাস।দেখেই ভয় পাইলাম।
স্যার এসেই ঘোষণা দিয়ে দিলেন তিনি গার্ড পড়লে নাকি কোন ছাত্রেরই পরীক্ষা খারাপ হয় না। আমরা তো অবাক! জীবনে ১ম কোন টিচারের মুখে এমন কথা শুনলাম।
পরীক্ষা শুরু হইলো।স্যার তার কথা রাখতে চেষ্টার কোন ত্রুটি করলেন না। গোটা ৩ ঘন্টা সময়ের আধা ঘন্টা তিনি হলে ছিলেন।বাকিটা সময় তিনি আমাদের হলরুমের পাশে রাখা বেন্চিতে বসে এক দপ্তরীর সাথে ধুমায়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন।বলা বাহুল্য,আমরাও জামাতের সাথেই পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।যেটুকু সময় রুমের ভিতরে ছিলেন তখনও কিছুই বললেন না আমাদের।আমার পাশের ফ্রেন্ড আমার খাতার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল।অবাক হয়ে আমি লক্ষ্য করলাম স্যার ঐ ফ্রেন্ডের
দিকেই তাকিয়ে আছেন। কিছু তো বললেনই না বরং আমার সাথে চোখাচোখি হতেই এমন একটা ইঙ্গিত করলেন যার অর্থ করা যেতে পারে-চালিয়ে যাও।
২য় পত্রের দিনও স্যারই গার্ড পড়লেন।পরীক্ষাও ভাল হল। এই পরীক্ষা দেওয়ার পর আমার পিছে বসা ১ ফ্রেন্ড আমারে পেট ভইরা খাওয়াইছিলো।কারণ আমার কল্যাণে (নাকি স্যারের?) তার পরীক্ষা সেইরকম হইছিলো
ম্যাথ ১ম পত্রের দিন এক হুজুর স্যার গার্ড পড়লো। বেশ কড়া গার্ড।খাতা-টাতা কেড়ে নিয়ে অস্থির অবস্থা।
২য় পত্র পরীক্ষা। আমরা ওয়েট করতেছি হুজুর স্যারের জন্য।ওমা! রুমে ঢুকলেন আমাদের ফিজিক্স স্যার। অধিক শোকে মানুষ পাথর হয়। অধিক আনন্দে কি হয় কে জানে । তবে আমরা এমন ১টা চিৎকার দিছিলাম যা শুনে ঐ কেন্দ্রের কন্ট্রোলার সার চলে এসেছিলেন। তিনি এসেই এমন একটা হুমকি দিলেন যে আমরা সবাই সাথে সাথে চুপ মেরে গেলাম।তোমরা না চুপ করলে আমি কিন্তু আগের দিনের হুজুর স্যারকে পাঠায়ে দিবো-এই ছিল তার ডায়লগ।আমাদের ফিজিক্স স্যার তখন পাশে দাড়িয়ে,মুখে গর্বিত হাসি।
স্যারের (সংগত কারণেই নামটা উল্লেখ করলাম না) সাথে পরীক্ষা শেষ করে কথা হল।আলাপচারিতায় জানতে পারলাম আমরা যে ফিজিক্স সারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম উনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।সংক্ষিপ্ত ঐ আলাপেই বোঝা গেল স্যার মানুষ হিসেবে অসাধারণ। পরবর্তীতে প্র্যাকটিকাল পরীক্ষার সময়ও স্যার যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন।
স্যার,বেচে থাকুন,ভাল থাকুন। আপনার মত স্যার যেন বাংলার ঘরে ঘরে ,থুক্কু , স্কুল-কলেজে থাকে।
চলবে........
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


