
ছবি: লেবু,

ছবি: কালামাঞ্চী।
আমার শরীরে গ্যাস্ট্রিক বাসা বেঁধেছে সেই যৌবনেই। প্রথমে পাত্তা দিতাম না। তার পর একটু বেশী যন্ত্রণা হলে এন্টাসিড খেয়ে নিতাম। ধীরে ধীরে এন্টাসিড এসিডের কাছে হার মানলো, শুরু হল সেকলো/লসিক্টেল এর পালা। এভাবেই চলছিলো। কয়েক মাস আগে আমার এক ফিলিপিনো বন্ধু আমার এই ওষুধ খাওয়া দেখে বলল গ্যাস্ট্রিকতো প্রাকৃতিক উপায়েই ভালো করা যায়। জানতে চাইলাম কিভাবে? বলল লেবুর শরবত পান করে।
- তোমার মাথা খারাপ লেবুতো ভীষণ এসিডিক!
- হ্যাঁ লেবু এসিডিক। আমরা যে সকল খাবার খাই তার প্রায় ৭০% এসিডিক। কিন্তু লেবুর সরবত নিয়ম মাফিক পান করলে তুমি অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকবে এবং এসডিটি হবে না।
- কি ভাবে?
- এখানেতো লেবু তেমন পাওয়া যায় না। যেটা পাওয়া যায় সেটাকে আমরা বলি কালামাঞ্চী। লেবুর চেয়ে অনেক ছোট। প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে খালি পেটে কয়েকটি লেবুর শরবত পান করতে হবে। মনে রাখবে, শরবতে কোন পানি, লবন বা চিনি মেশানো যাবে না। সতেজ লেবু পরিস্কার করে ধুয়ে কাটতে হবে। তারপর একটি শুকনো কাপ বা গ্লাসে চিপে রস বের করবে। বিচি থাকলে ছেঁকে নিবে। এরপর পান করবে। এর পর ৩০ মিনিট বা ১ ঘন্টা কিছু খাওয়া বা পান করা যাবে না। খেলে এসিড হবে। লেবুর সাইজ বড় হলে ২ থেকে ৩টি লেবুর রস যথেষ্ট। আর কালামাঞ্চি হলে প্রথমে ৪টি দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ২৮ টি পর্যন্ত শরবৎ পান করা যাবে।
আমার সকাল শুরু হল লেবুর শরবত দিয়ে। একটু হাটাহাটি, গোসল সেরে সকালের নাস্তা। পকেটে গ্যাসের ওষুধ নিলাম, যদি দরকার হয়। কিন্তু সারাদিনেও তার আর দরকার হলনা। এ ভাবে দিন সপ্তাহ মাস গেল আমার আর গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দরকার হয়নি। আমার উচ্চ রক্তচাপ খুব বেশী মাত্রার না হলেও, মাঝে মাঝে মাথা চাড়া দিতো, কিন্তু এই লেবুর শরবত পান করা শুরু করার পর একটি দিনের জন্য ও আমার ব্লাড প্রেসার বেশী হয়নি। প্রায় সাত মাস যাবত আমি এই লেবুর শরবত পান করছি। এর মধ্যে একবার ডাঃ এর সাথে এ নিয়ে কথা বলেছি। উনি বলেছেন আমি যদি এই অভ্যাস নিয়মিত করতে পারি তাহলে সাধারণ অসুখ বিশুখ আমার থেকে দূরে থাকবে।
আমি নিজেও লক্ষ্য করেছি, আমার গ্যাস্ট্রিক নেই, নেই হাই ব্লাড প্রেসার। জ্বর সর্দি মাথা ব্যাথা জাতীয় সমশ্যা নেই বললেই চলে। নেই কোস্টকাঠিন্য। লেবুর শরবত আমাকে রেখেছে ওষুধ মুক্ত।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৮:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



