somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘দহন’

৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘অই ছ্যাড়া, কি নাম তোর?’ বাসের ভিতরে পা রাখতেই এরকম একটা প্রশ্ন ভেষে আসলো অর্ণবের দিকে। অর্ণব প্রথমে কিছুটা বিব্রত হলেও পরক্ষণে বুঝতে পারলো যে, ওই মিষ্টি প্রশ্নটা তাকে করা হয়নি। প্রশ্নটা করা হয়েছে বাসের ভিতরে যাত্রীদের সামনে নীরবে হাত পেতে থাকা ছোট্র ছেলেটাকে। ছেলেটার বর্ণনা দিতে গেলে এক কথায় বলা যায়, পাটকাঠি। রুক্ষ হলেও চুল গুলো কিছুটা আচড়ানো। বুকের হাড্ডি গুলো অনেক দুর থেকেই গোনা যায়। পেট থেকে পিঠের দূরত্ব তিন ইঞ্চি হবে হয়তো। প্যান্ট খুলে পড়ছে প্রায়। বেল্ট হিসেবে আছে একটা চিকন পাটের দড়ি। যা হোক, ছেলেটা কোন কথা বলছে না। নীরবে প্রত্যেকের সামনে হাত পেতে যাচ্ছে। হঠাৎ একজন বললো
–‘এই, ভাই তোর নাম জানতে চাইলো না?’ আর একজন বললো
–‘এই ভিক্ষা করো ক্যা? মা-বাপ আছে, না নাই?’ ছেলেটা নির্বাক। আরো কিছু প্রশ্ন এবং উপদেশ ছুড়ে দেয়া হচ্ছিল ছেলেটার দিকে। তখন, পেছনে ছয় ছিটে বসে থাকা একজন বললো
–‘আপনারা অকারনে ছেলেটাকে কেন বিভ্রান্ত করছেন? পারলে দু’চার টাকা দেন, না পারলে ও ওর মতো চলে যাক।’ ভদ্র লোকের দলটি হো হো করে হেসে বললো
–‘আহা আমার দরদীরে! যান, যান বাড়ী নিয়ে জামাই আদর করে খাওয়ান ওকে।’ লোকটা আর কোন কথা বললো না। ছেলেটা এসবে অভ্যস্ত। ও বুঝতে পারলো যে, এখান থেকে অনেক কিছুই পাওয়া যাবে, কিন্তু তাতে পেট ভরবে না। তাই আর দাড়িয়ে না থেকে বাস থেকে নেমে গেল। অর্ণবও নামলো। ছেলেটি রাস্তার পাশ দিয়ে সোজা হাঁঠছে।
-‘এই ছেলে, এই ছেলে শোন’ বলে অর্ণব কয়েক বার ডাকলো। ছেলেটা হেঁটেই চলছে। হয়তো দ্বিতীয় কোন প্রশ্নত্তর পর্বকে এড়ানোর জন্য। অর্ণব আরো জোরে ডাকলো-‘শোন তোমার কোন ভয় নেই। আমি কিছু বলবো না।’ ছেলেটা দাড়াল। অর্ণব পাশের দোকান থেকে বড় আকারের দুটি রুটি কিনলো। কিন্তু ছেলেটাকে আর দাড়ানো পেল না। ও আবার হাঁটছে। অর্ণব আবার জোরে ডাক দিলো
–‘এই শোন তোমার জন্য খাবার এনেছি।’ কথাটি শুনে ছেলেটার পা যেন মাটির সাথে চুম্বকের মতো আটকে গেলো। এ যেন আনাকাঙ্খিত এবং জীবনের সবচেয়ে প্রিয় কিছু পাওয়া। ছেলেটা পেছনে ফিরে দেখলো অর্ণব খাবার নিয়ে তার দিকে আসছে। এ যে মহা আনন্দের ক্ষণ ওর। ওর এই আনন্দের ক্ষণটাকে উপভোগ করছে রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে থাকা নিরীহ গাছপালা গুলো। ওর হাতে খাবার দিতেই চোখ থেকে গড়াতে লাগলো নীরব অশ্রু। সমাজের লোক দেখানো thank you বা ধন্যবাদ হয়তো ও জানে না। কিন্তু, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যত ভাষাই থাকুক না কেন, ওর এই নির্ভেজাল নীরব অশ্রুর কাছে কৃতজ্ঞতার সকল ভাষাই আজ মাথা নত করতে বাধ্য। পরক্ষণে ভালো লাগার এক অকৃতিম হাসি। যেন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে ওই হাসিটা। অর্ণব ছেলেটার হাতে খাবারটা দিয়ে রুক্ষ চুলগুলোয় হাত বুলিয়ে চলে গেল। কোন প্রশ্ন করলো না। বললো না অন্য কোন কথাও। শুধু যাবার সময় বললো –‘ভালো থেকো।’ বাস চলে গেল। অর্ণব কিছুক্ষন বাসের অপেক্ষা করে একটা রিক্সায় উঠলো। হঠাৎ দেখলো সেই ছেলেটা দৌড়াচ্ছে, যাকে সে খাবার কিনে দিয়েছিল। দু’টো কুকুর ওর সেই খাবার নিয়ে গেছে। সাথে কাকও আছে কয়েকটি। কুকুরে পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে পড়ে গেল ছেলেটা। হাটু কেটে গেছে কিছুটা। সে দিকে খেয়াল নেই। শুধু ওর অশ্রু সিক্ত চোখ দু’টি তাকিয়ে আছে সেই খাবারের দিকে.......।
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×