মৌণতা ভেঙ্গে পরম পুরুষ তার ভরাট কন্ঠে বলে চলে,
তোমার সুখ, তোমার দু:খের অবগুন্ঠন উন্মোচন।
অন্তরআত্নার যে নিবিড় উৎস থেকে প্রমোদ জেগে ওঠে,
সেই একই উৎসই ভাসে চোখের জলে।
এ ভিন্ন আর কি হতে পারে?
তোমার অন্তর আত্না দু:খের যাতনায় গড়ে নেয় যতটা গভীরতা,
ঠিক ততটাই গভীর আনন্দ সে ধারন করতে পারে।
যে একই পান পাত্র আজ সুধা ধারন করছে-
গতকালই সে পুড়েছিলো নিজেকে তৈরী করতে,
কুমারের আগুনে, নয় কি?
যে বাঁশীর মোহন সুরে আজ তোমার মন প্রাণ ভরে ওঠে,
গতকালই সেই বাঁঁশীর কাঠকে ছুড়ির আঘাতে খোদাই করেছো।
যখন তুমি প্রবল আনন্দিত থাকো, তখন খুব গভীরভাবে নিজের অন্তরে তাকিয়ে দেখো;
দেখবে যা তোমার প্রবল দু:খ ডেকে আনে, সেই একই উৎসই আজ আনন্দের ঢেউ বয়ে আসছে।
যখন তুমি প্রবল দু:খের জোয়ারে ভেসে যাও, দেখো তোমার গভীর অন্তরে তাকিয়ে
যার জন্য তুমি কেঁদে চলছো, ঐ একই উৎস ছিলো তোমার তীব্রতর আনন্দের কারন।
কেউ কেউ বলে, "সুখ, সে দু:খের চেয়ে বড়", আবার অন্যরা বলে, 'না, দু:খই বড়"।
আমি বলি, তারা একে অন্য থেকে আলাদা করার নয়।
একসাথে ওরা আসে,
যখন তুমি ওদের একজনের সাথে নৌকায় ভাসো,
জেনে নিও গলুয়ের নীচে আরেকজন তখন ঘুমিয়ে আছে।
নিশ্চিতভাবেই তুমি ভেসে থাকো তোমার সুখ আর দু:খের মাঝারে।
যখন তুমি নিজেকে শুণ্য করে দিতে শিখবে, সেদিন তুমি দাড়াবে ভারসাম্যে।
মূল কবিতাটি:
http://www.columbia.edu/~gm84/gibran8.html
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



