এইখানে মজার বিষয়টা হলো তারা শুক্রবারের ছুটিকে ঘিরে একটা ধমর্ীয় আবহ ও সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করতে ব্যস্ত। এইটাও আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে একটা ক্লাসিক কেস কিভাবে ধর্মান্ধরা লাগামহীনভাবে সাধারনের ভিতরে ধর্মান্ধতার বীজ প্রয়োগে ব্যস্ত।
শুক্রবারের ছুটি প্রসঙ্গে যদি কুরআনের রেফারেনসের দিকে তাকানো যায় তাহলে দেখা যাবে সেখানে ছুটির পরিবর্তে শুক্রবারে কাজের কথাই পরোক্ষভাবে বলা আছে। মুসলিমদের জন্য শুক্রবার কোন স্যাবাথ ডে বা ধমর্ীয় বিশ্রামের দিন (যেমনটা ইহুদীদের জন্য প্রচলিত ছিলো) ধার্য করার বিধান কোথাও নেই, ছিলোও না।
শুক্রবারের জুম্মা বা সাপ্তাহিক নামাজ সমর্্পকিত সুরা আল জুমুুয়ার 9 ও 10 আয়াত দ্রষ্টব্দ্য। ইংরেজী অনুবাদটি এরকম:
062.009
O you who believe! when the call is made for prayer on Friday, then hasten to the remembrance of Allah and leave off trading; that is better for you, if you know.
062.010
But when the prayer is ended, then disperse in the land and seek of the Bounty of Allah, and remember Allah much, that you may be successful.
সরল অনুবাদটি এরকম:
হে বিশ্বাসীগন, যখন শুক্রবারের জমায়েতের (জুম্মা) জন্য ডাক দেওয়া হবে (আযান) তখন তোমরা স্রষ্টার স্মরণে ধাবিত হও, তোমাদের বানিজ্য বন্ধ রাখো। এতে তোমাদের মঙ্গল, যদি তোমরা অনুধাবন করতে।
এবং যখন প্রার্থনা শেষ হবে তখন আবার ছড়িয়ে পড়ো পৃথিবীর বুকে এবং স্রষ্টার অনুগ্রহন অনুসন্ধান করো, এবং নিয়মিত স্রষ্টার মহিমা স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।
---------------
প্রথম আয়াতের লক্ষ্যনীয় জায়গাটি হলো, [গাঢ়] জুম্মার নামাজের সময়ে [/গাঢ়] ব্যবসা, বেচাকেনা বন্ধ করতে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। তারমানে শুক্রবারে ব্যবসা ও কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে এবং অলসভাবে বসে থাকতে উৎসাহিত করা হয় নাই, বরং সেইদিন স্বাভাবিক কর্মকান্ড পরিচালনার কথাই বলা হয়েছে। জুম্মার নামাজের সময়ে প্রার্থনার জন্য সাময়িক বিরতির (leave off trading) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আয়াত শুরু হইছে, যখন নামাজের ডাক দেওয়া হবে, অথর্াৎ আযান সেইখানে থেকে এবং দ্্বিতীয় আয়াতটি শুরু হয়েছে যখন প্রার্থনা শেষ সেইখানে। তারমানে ব্যবসা বাণিজ্য কেবলমাত্র প্রার্থনার সময়ে বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে, পুরো দিনের জন্য নির্দেশ নেই কোথাও। এবং একই সাথে নামাজ শেষে 'ছড়িয়ে পড়ো' এবং 'স্রষ্টার অনুগ্রহ সন্ধান করো' যার মানে রিজিকের সন্ধান করা, পরিশ্রম করা, কাজ করার কথাই বলা হয়েছে।
কুরআনের নির্দেশতো খুব কঠিন কিছু না। তারপরেও কাঠমোল্লাদের ধর্ম নিয়ে ট্রেডলাইসেনস বাজী আর রাজনৈতিক ফতোয়াবাজীর মুখাপেক্ষি হওয়ার কারন কেবলই উন্নাসিকতা, অসচেতনতা, অন্ধত্ব আকড়ায়ে ধরার প্রচল কুঅভ্যাস। এই সুযোগটা করেই ঘটে ধর্মান্ধতার ইমপোর্ট।
শুক্রবারের পরিবর্তে রবিবারে ছুটি চালু করার মধ্যে অনৈসলামিক কিছু নাই, বরং শুক্রবারে কাজ করা, শ্রম দেওয়াটাই সুরা জুমুআর পরোক্ষ নিদের্শ। তারপরেও একদল মানুষ ধর্মান্ধতা পুজি করে শুক্রবারের ছুটি বহাল রেখে (বা রাখার পক্ষে গলাবাজি করে) বেশি ধার্মিক সাজতে চায়। আফসোস! এইটারে ধর্মের আফিম বলা যায়।
দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য, আনর্্তজাতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ভাবমূর্তির উন্নয়নের জন্য রবিবারে সাপ্তাহিক ছুটি চালু হোক। শুক্রবারে সাপ্তাহিক ছুটির কোন ইসলামী ভিত্তি নাই। ভুয়া, অসৎ এছলামী লেবাসগিরি বন্ধ হউক।
রেফারেনস: [link|http://www.usc.edu/dept/MSA/quran/062.qmt.html|myiv RygyAvi m
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


