somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুক্রবারের ছুটি নিয়ে ধমর্ান্ধদের মুড়ি

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাম্প্রতিক সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার - ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য মহলের দাবীর প্রেক্ষিতে শুক্রবারের পরিবর্তে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিপুল জ্ঞানী (!) মোছলমানদের থেকে একটি পক্ষ গলার রগ ফুলিয়ে 'ধম্ম গ্যালো, ধম্ম গ্যালো' আওয়াজ তুলতে শুরুু করেছে। এই পক্ষ থেকে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি যাতে অপরিবর্তিত থাকে তার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ভাবখান এমন, যেন শুক্রবারের ছুটি তুলে নিলে মোছলমানের জন্য সেটা ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াবে, অনৈছলামিক হবে এবং বিধমর্ীদের রবিবারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। হাস্যকর!

এইখানে মজার বিষয়টা হলো তারা শুক্রবারের ছুটিকে ঘিরে একটা ধমর্ীয় আবহ ও সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করতে ব্যস্ত। এইটাও আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে একটা ক্লাসিক কেস কিভাবে ধর্মান্ধরা লাগামহীনভাবে সাধারনের ভিতরে ধর্মান্ধতার বীজ প্রয়োগে ব্যস্ত।

শুক্রবারের ছুটি প্রসঙ্গে যদি কুরআনের রেফারেনসের দিকে তাকানো যায় তাহলে দেখা যাবে সেখানে ছুটির পরিবর্তে শুক্রবারে কাজের কথাই পরোক্ষভাবে বলা আছে। মুসলিমদের জন্য শুক্রবার কোন স্যাবাথ ডে বা ধমর্ীয় বিশ্রামের দিন (যেমনটা ইহুদীদের জন্য প্রচলিত ছিলো) ধার্য করার বিধান কোথাও নেই, ছিলোও না।

শুক্রবারের জুম্মা বা সাপ্তাহিক নামাজ সমর্্পকিত সুরা আল জুমুুয়ার 9 ও 10 আয়াত দ্রষ্টব্দ্য। ইংরেজী অনুবাদটি এরকম:

062.009
O you who believe! when the call is made for prayer on Friday, then hasten to the remembrance of Allah and leave off trading; that is better for you, if you know.

062.010
But when the prayer is ended, then disperse in the land and seek of the Bounty of Allah, and remember Allah much, that you may be successful.


সরল অনুবাদটি এরকম:
হে বিশ্বাসীগন, যখন শুক্রবারের জমায়েতের (জুম্মা) জন্য ডাক দেওয়া হবে (আযান) তখন তোমরা স্রষ্টার স্মরণে ধাবিত হও, তোমাদের বানিজ্য বন্ধ রাখো। এতে তোমাদের মঙ্গল, যদি তোমরা অনুধাবন করতে।
এবং যখন প্রার্থনা শেষ হবে তখন আবার ছড়িয়ে পড়ো পৃথিবীর বুকে এবং স্রষ্টার অনুগ্রহন অনুসন্ধান করো, এবং নিয়মিত স্রষ্টার মহিমা স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।
---------------

প্রথম আয়াতের লক্ষ্যনীয় জায়গাটি হলো, [গাঢ়] জুম্মার নামাজের সময়ে [/গাঢ়] ব্যবসা, বেচাকেনা বন্ধ করতে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। তারমানে শুক্রবারে ব্যবসা ও কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে এবং অলসভাবে বসে থাকতে উৎসাহিত করা হয় নাই, বরং সেইদিন স্বাভাবিক কর্মকান্ড পরিচালনার কথাই বলা হয়েছে। জুম্মার নামাজের সময়ে প্রার্থনার জন্য সাময়িক বিরতির (leave off trading) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আয়াত শুরু হইছে, যখন নামাজের ডাক দেওয়া হবে, অথর্াৎ আযান সেইখানে থেকে এবং দ্্বিতীয় আয়াতটি শুরু হয়েছে যখন প্রার্থনা শেষ সেইখানে। তারমানে ব্যবসা বাণিজ্য কেবলমাত্র প্রার্থনার সময়ে বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে, পুরো দিনের জন্য নির্দেশ নেই কোথাও। এবং একই সাথে নামাজ শেষে 'ছড়িয়ে পড়ো' এবং 'স্রষ্টার অনুগ্রহ সন্ধান করো' যার মানে রিজিকের সন্ধান করা, পরিশ্রম করা, কাজ করার কথাই বলা হয়েছে।

কুরআনের নির্দেশতো খুব কঠিন কিছু না। তারপরেও কাঠমোল্লাদের ধর্ম নিয়ে ট্রেডলাইসেনস বাজী আর রাজনৈতিক ফতোয়াবাজীর মুখাপেক্ষি হওয়ার কারন কেবলই উন্নাসিকতা, অসচেতনতা, অন্ধত্ব আকড়ায়ে ধরার প্রচল কুঅভ্যাস। এই সুযোগটা করেই ঘটে ধর্মান্ধতার ইমপোর্ট।

শুক্রবারের পরিবর্তে রবিবারে ছুটি চালু করার মধ্যে অনৈসলামিক কিছু নাই, বরং শুক্রবারে কাজ করা, শ্রম দেওয়াটাই সুরা জুমুআর পরোক্ষ নিদের্শ। তারপরেও একদল মানুষ ধর্মান্ধতা পুজি করে শুক্রবারের ছুটি বহাল রেখে (বা রাখার পক্ষে গলাবাজি করে) বেশি ধার্মিক সাজতে চায়। আফসোস! এইটারে ধর্মের আফিম বলা যায়।

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য, আনর্্তজাতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ভাবমূর্তির উন্নয়নের জন্য রবিবারে সাপ্তাহিক ছুটি চালু হোক। শুক্রবারে সাপ্তাহিক ছুটির কোন ইসলামী ভিত্তি নাই। ভুয়া, অসৎ এছলামী লেবাসগিরি বন্ধ হউক।

রেফারেনস: [link|http://www.usc.edu/dept/MSA/quran/062.qmt.html|myiv RygyAvi m
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৫১
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×