somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নষ্ট ধর্মবোধ। নষ্ট ধার্মিকেরা।

০২ রা মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গঙ্গার ধারের কালীঘাটের মন্দির। লোকে গিজগিজ। মা'য়ের দর্শন (মূর্তি দেখা) হচ্ছে ভিতরে, তিল ধারনের জায়গা নেই। আমি মন্দিরের কাছে যেতেই পান্ডারা (মন্দিরের দালালেরা) এগিয়ে এলো। দাদা, এদিকে আসুন। মা'য়ের দর্শন দেবেন তো? আমাদের সাথে আসুন। খুশি করে দেবেন, আমার লাইন ছাড়া ভিতরে ঢোকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। মায়ের জন্য ফুল কিনুন, প্রসাদ কিনুন। লাইনে দাড়ালে দুই ঘন্টা লেগে যাবে।

লোকজনের ভাবসাবে রূচি হলো না। ঘুরে বেরিয়ে অন্যদিকের দরজা দিয়ে মন্দিরের চত্ত্বরে ঘুরে বেড়ালাম। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বড্ড নোংরা লাগে। এখানেও সেটা চলছিলো। টাকা দাও, ঠাকুর দর্শন করো। ও আমার পোষায় না। বেরিয়ে আসতে দেখি একটা গাড়ির বনেট খোলা। ফুলের মালা ঝোলানো। ধুপ দিয়ে সেটাকে পবিত্র করা চলছে। ঠাকুরেরা পুজা দিয়ে গাড়িকে আশর্ীবার্দ করছে। টাকা দাও, পুজোর সার্ভিস নাও।

কালী ঘাট মন্দির ছাড়িয়ে পাশে মাদার তেরেসার নির্মল হৃদয়ের ঘর। আমার বন্ধুর সেখানে অবাধ এ্যাক্সেস, তাই ভিজিটর আওয়ার্স ছাড়াও ঢুকতে পারলাম। পাশের মন্দিরে ধর্ম নিয়ে ব্যবসার সাথে এ বড় কনট্রাস্ট। এখানে একেবারে মৃতু্য পথযাত্রী, কুষ্ঠ রোগী, রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হাড় মাংস একসাথ হয়ে যাওয়া দুস্থদের সেবা দেওয়া হয়। তাদের সেবা করতে দুরদুরান্ত থেকে ভলান্টিয়াররা কাজ করেন। সাথে আছে মিশনারী খ্রিস্টানরা। খুব ভালো লাগলো ওদের ডেডিকেশন, যীশুর নামে মানবতার সেবা।

অন্যদিনের কথা। আমি যে বাড়িতে ছিলাম সেই এলাকাটা মুসলিম অধু্যষিত। একদিন সন্ধ্যায় লোড শেডিং। হঠাৎ শুনি মুহাররমের তাজিয়া যাচ্ছে। মুহাররাম চলে গেছে অনেকদিন হলো। গিয়ে জানতে চাইলে বললো মুহাররমের চলি্লশা। পুরো রাস্তা বন্ধ করে শ'খানেক লোক রাস্তার মাঝখানে বুক চাপড়াচ্ছে। পেছনে গাড়ি ঘোড়া যেতে পারছে না। মিছিলটা একটু যায়, তারপর থামে আর গান গায়। পুরো রাস্তা দিয়ে একটা গাড়িতো ভালো, একটা সাইকেল যাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। রাস্তা বন্ধ করে লোক দেখানো ধর্ম পালন হচ্ছে সেখানে।

সেন্ট জোসেফ ওলডেজ হোমে গিয়েছিলাম। একেবারে থুরথুরে বৃদ্ধদের নিবাসস্থল। ওখানে সিস্টাররা নিরলসভাবে ভলান্টিয়ারদের সাথে নিয়ে সেবা করে যাচ্ছেন গরীব, কারো সব ছেলে মেয়ে মারা গেছে, যাবার কোন জায়গা নেই এরকম বৃদ্ধদের নিয়ে। তখন রাতের খাবারের সময় হয়েছে। অন্যান্য ভলান্টিয়ারদের সাথে মিলে আমরা বুড়ো বুড়িদের খাবার পরিবেশন করলাম। ওরা অল্প বয়স্কদের নিজেদের ভিতরে পেলে খুব খুশি হয়। হাত বুক জড়িয়ে ধরে কথা বলে, ধন্যবাদ জানায়। ওখানেও মিশনারী সিস্টারদের নিরলস সার্ভিস মুদ্ধ করার মতো।

এই টুকরো ছবিগুলো উদাহরন মাত্র। তবে বিচ্ছিন্ন নয়। আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি ও পর্যবেক্ষন বলে যে অসংখ্য ধর্মের দেশ ভারতে এই মুহুর্তে কেউ যদি সত্যিকারের ভালো কাজ করে থাকে, মানবতার সেবা করে থাকে তবে তা ঐ ক্যাথলিক খ্রিস্টানরাই করছে। বাকি সবাই হয় ধর্মের নামে ব্যবসা করছে, নয়তো স্বার্থপরের মতো নিজের ক্ষুদ্রতা আর আমিত্ব নির্ভর ধর্মপালনেই ব্যস্ত। ভারতের মুসলিম, ভারতের হিন্দু - উভয় গ্রুপের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তাদের না আছে বৃহত্তর সমাজ সেবার মানসিকতা, না আছে পরিশীলিত মানবতা বোধ। খালি স্বার্থপরতা। এমনকি সেই স্বার্থপরতার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করতে হলেও সেটাও আছে।

ছবি: মিশনারী অফ চ্যারিটি যাদের জন্য কাজ করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×