somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুল সময়ের রূপকথা

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুকের মধ্যে একটা বোবা কান্না কেমন যেন হুমরে উঠছে নিতুর। কান্নাটাকে চেপে রাখার যত চেষ্টাই সে করছে ততই যেন বাধ ভাঙ্গা নদীর মত দুই কুল ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বারবার একটি কথাই মনে আসে। খুব বেশি কি চেয়েছিল সে জীবনের কাছে থেকে! কেন সে আর দশটি সাধারন মেয়ের মত একটু স্বপ্ন দেখতে পারবে না। কেন সে তার হাতটি একটু ছুঁয়ে দিতে পারবে না কোন এক নক্ষত্রের রাতে। এটুকু কি 'তার' কাছে অনেক বেশি চাওয়া? আজ সারাদিন বৃষ্টি পড়ছে, কালো মেঘে ঢেকে আছে সারা শহর। কিন্তু সে কোনদিনও জানবে না আজ কতটা বৃষ্টি ঝড়েছে নিতুর বুকের ভিতর। সারাটাদিন কি একটা ফোন করারও কি সময় হলোনা তার।

সিডি প্লেয়ারে একটা রবীন্দ্রসংঙ্গীত ছেড়্বে দিয়ে বারাব্দায় বসে নিতু। বৃষ্টির শব্দের সাথে মিশে যায় গান...

ভালবেসে যদি সুখ নাহি
তবে কেন--
তবে কেন মিছে ভালবাসা।
মনদিয়ে মন পেতে চাহি।
ওগো, কেন--
ওগো, কেন মিছে এ দুরাশা।
হৃদয়ে জ্বালায়ে বাসনার শিখা,
নয়নে জালায়ে মায়ামরীচিকা,
শুধু ঘুরে মরি মরুভূমে।
ওগো, কেন--
ওগো, কেন মিছে এ পিপাসা।

আজ সারাটাদিন কি অস্থির আকুলতা নিতে বসেছিল নিতু। মনে হচ্ছিল এই বুঝি ফোনটা আসবে। বার বার সেল ফোনটা দেখছিল। মনে হচ্ছিল আচ্ছা ফোনে ঠিকমতো চার্জ আছেতো? কলটা মিস করিনিতো? কোন ফোনটা বেজে উঠলেই বুকটা মধ্যে ভাবে কেঁপে উঠতো যেন মনে হতো এখনি হৃদপিন্ডটা বেরহয়ে আসবে। কিন্তু অবহেলা করেও আমার জন্য দুটো মিনিট সময় হলনা তার।

গানের সুর কোনো এক অতীতে চলে যায় নিতুকে। নিতু জানে তার জীবনে নিতুই প্রথম নয়। তাই বলে কি এতটুকু বাকি নেই আজ আর কিছু নিতুর জন্য। মঝে মঝে মনে হয় কেন ছুটছি আমি এই মিথ্যা মরিচিকার পিছনে, হয়তো কোনোদিন আমাকে সে কনাটুকুও দিতে পারবেনা। কি আমার এই অবুঝ মনকে মানাবে কে। সে কখন, কেমন করে আমার সর্বস্ব নিয়ে গেলো এতটুকু যদি আগে জানতাম। যখন জানলাম তখন কিছুই করার নেই আর। কি মায়া দেখলাম ঐ চোখদুটিতে? এর পর কত চোখতো দেখলাম কিন্তু এমন করে আর কোন চোখ তো আমার সব কিছু এলোমেলো করে দেয়নি। অত অবহেলা, এত অপমান তবু কেন আমার সব কিছু বিলীন হয়ে যায় তার চোখের দিকে তাকালে। আমাকে কেন এমন করে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সে।

প্রথম যখন ভালবাসা বুঝতে শিখি তখন থেকে বিশ্বাস কর‌তাম, যদি কাউকে সর্বস্ব দি্যে ভালবাসা যায় তাহলে সেই ভালবাসা উপেক্ষা করার সাধ্য কারো নেই, তাহলে এই এতগুলো বছর, মাস, দিন, প্রতিটি মিনিটের বিন্দু বিন্দু ভালবাসা কেন এমন মিথ্যা মনে হয়। কেন সে বোঝেনা তার মুখের একটু সুখের কথা আমার আকাশকে সোনালী আলোয় ভরিয়ে দেয়। মনে হয় আহা বেঁচে থাকাটা এত সুন্দর কেন।

এত সব ভাবতে ভাবতে আবারো কখন যে নিতুর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরে, সে নিজেই জানেনা। কখনো মনে হয় হয়তো আমি তার যোগ্য নই। কত সাধারন একটা মেয়ে আমি। কেন ভালবাসবে সে আমার মত একটি নগণ্য মেয়েকে। তাকে ধরে রাখার মত কিছুইতো নেই আমার কাছে। আমি শুধু পারি আমার সবকিছু্‌ দিয়ে তাকে ভালবাসতে। এছাড়া কিবা আছে আমার।
পৃথিবীতে কেও আসে সবকিছু নিয়ে যেতে। কেও আসে সব কিছু ভরিয়ে দিতে। সবকিছু হারিয়ে যতটুকু নিঃশ্ব হয়েছে সে, আমি শুধু চেয়েছি আমার সবকিছু দিয়ে সেটুকু ভরিয়ে দিতে। নিজের জন্য আজ আর কিছুই চাইনা। তবু তুমি সুখি হও।

কোনদিন যদি হারিয়ে যাই,
ঐ নীল নক্ষত্রলোকে।
হাসিটুকু তোমার ধরে রেখ শুধু,
ম্লান করোনাকো মোর শোকে।

যেটুকু মোরে পারনি দিতে,
অনেক যত্ন করে রেখ।
সবটুকু দিয়ে ভরিয়ে দিও,
যদি আবার আসে কেহ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:০৪
৮০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×