somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতালে ঢাকা শহর

২৮ শে জুন, ২০১০ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্যান্য দিনের চাইতে আজকে ঢাকা শহরের চেহারা একটু অন্যরকম ছিল। কারণ আজ ছিল হরতাল। আজকের সকালটা শুরুও হয়েছিল একটু অন্যভাবে। প্রতিদিনের মত সকালে উঠেই অফিসে যাওয়ার তোরজোর শুরু করতে হয়নি। বসকে আগেই বলে রেখেছিলাম যে অফিসে আসব না। তাই বেশ আয়েশ করে ৯টা পর্যন্ত ঘুমাতে পেরেছি। অবশ্য আরাম বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। কারণ গিন্নী ছুটি পায়নি। তাকে অফিসে যেতেই হবে। আর অফিসে দিয়ে আসার ভারটা আমার উপরেই পরেছে। যাই হোক বাসা থেকে বের হতেই রিকসা পেয়ে গেলাম। যতই সামনে যাচ্ছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম। ঢাকা শহরের এইরূপ আগে কখনো দেখি নি। শুক্রবারেও এত ফাকা থাকে না। শাহবাগের ওখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ দেখলাম। অল্প কয়েকটা বাস আসা যাওয়া করছিল। শাহবাগ থেকে একটু এগোতেই দেখলাম পিকেটাররা একটা যায়গায় জরো হয়ে বাসের উদ্দেশ্যে ঢিল ছুড়ছে। অবশ্য রিকসা যাত্রিদের প্রতি তারা মোটামুটি সহানুভূতিশীল ছিল। এমন সময় আমাদের পিছনদিক থেকে একটি বাস আসল। চালক একদম শেষ মুহুর্তে পিকেটারদেরকে দেখতে পেল। ততক্ষণে গাড়ী ঘোরানোর সময় শেষ হয়ে গেছে। সে গাড়ী রেখে জানালা দিয়ে চম্পট দিল। যাত্রিদের মধ্যে শুরু হল তাড়াতাড়ি নেমে যাওয়ার প্রতিযোগীতা। এরমধ্যে কাঁচ ভাঙ্গা শুরু হল। কিছুক্ষনের মধ্যে গাড়ীতে আগুনও ধরানো হল। আমরা রিকসা থামিয়ে বিকল্প পথ খুঁজছিলাম। এমন সময় পিকেটারদের আনন্দকে মাটি করে দিয়ে বেরসিক পুলিশের আগমন ঘটল। পিকেটাররা নিমেষেই পগার পাড়। বাসের হেল্পার তখন আগুন নেভাতে ব্যস্ত। আবার শুরু হল আমাদের যাত্রা।

আজকের হরতাল কতটুকু সফল হয়েছে জানি না। তবে বাস থেকে নেমে দৌড়ানোর সময় মানুষের চোখে যে আতঙ্ক আমি দেখেছি তা কোনদিন ভুলব না। এর মধ্যে দুএকজন মহিলাও ছিল। হরতালকারী দের বলছি, আর কিছু না পারলেও পেরেছেন মানুষের মধ্যে এই অবর্ণনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে। বর্তমান সরকার যখন বিরোধী দল হবে তখন তারাও আবার হরতাল ডাকবে। এই হরতাল সংস্কৃতি কবে যে বন্ধ হবে!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১০ রাত ১:২৫
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×