বরাতজোরে শরৎচন্দ্রের সমস্ত রচনার সমগ্র হাতে পেয়েছি এবং এ কয়দিন এ নিয়েই আছি। শরৎচন্দ্র আমার খুবই প্রিয় একজন লেখক, স্কুলে থাকাকালীন মহেশ পড়েছিলাম- পড়েছিলাম বিলাসী, সে সময় আমি সেবা প্রকাশনীর- তিন গোয়েন্দার মহাভক্ত ছিলাম, রাতদিন তাহা নিয়াই মাতিয়া থাকিতাম, আমার বাপ আমার এই অবস্তা দেখে একদিন একখানা বই পড়ে দেখেছিলেন তিন গোয়েন্দার, সে বই পড়ে তিনি আমাকে কিছু বলেন নাই কিন্তু পরের দিনই আমাকে কিনে দিয়েছিলেন শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত নামক বইটি, সে থেকেই শরৎবাবুর যে লেখা আমি হাতে পেয়েছি তা অন্তত দুইবারের কম না পড়িয়া ছাড়ি নাই।
আমি অত পড়ুয়া না হলেও নিতান্ত কম লেখকের বই পড়ি নাই, রবীন্দ্রনাথ, সমরেশ, শীর্ষেন্দু, হুমায়ুন, জাফর ইকবাল, আনিসুর রহমান আরও অনেকে সবার নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছেনা, তবে এদের লেখা আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ি আর এদের অসংখ্য লেখাই আমি পড়িয়াছি।
শরৎচন্দ্রের সাথে ইহাদের বিস্তর ফারাক, তিনি জাতিতে হিন্দু ছিলেন, কিন্তু নিজের জাতির অসম্মানের কথা প্রকাশ করতে তিনি কুন্ঠিত হন নাই , তার প্রায় রচনায় তিনি উচু জাতের-নিচু জাতের প্রতি অন্যায় অবিচারের কথা বলেছেন, তিনি মেয়েদের বাল্যবিবাহের নামে হিন্দু-সমাজে যে মেয়েদের অত্যাচার করা হতো তার কথাও লিখেছেন, তিনি নারীদের নিয়েই বেশী লিখেছেন, কিন্তু নারীজাতিকে বহুবিদ বাহুল্লে ভূষিত করেন নি, বরংচ নারীদের যে সমাজে সত্যিকারের স্থান কোথায়, আর কোথায় এদের স্বাধীনতা তাহাই তিনি প্রতিটি লেখায় প্রকাশ করে গেছেন বারবার। তাহার লেখাগুলো শরতের আকাশের মেঘের মতই নির্মল, মনের আকাশে নির্বিবাদে ভেসে বেড়ায়, কোথাও বিন্দুমাত্র আটকাইয়া থাকেনা।
রবিন্দ্রনাথ তখনকার সমাজে অনেক বড় কুলীন ব্রাহ্মণ জমিদার ছিলেন তাই তার লেখাগুলোতে সমাজের উচু বংশের কথাই বারংবার এসেছে এবং রবিন্দ্রনাথের লেখাগুলোতে গাম্ভীর্য তেমনি প্রবল, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গানগুলোর কথা আলাদা করে বলতেই হবে, এই গান আজীবন সকল সম্প্রদায়কে মোহাবিস্ট করে রাখবে।
সমরেশ, শীর্ষেন্দুরা সমাজের চাইতে সংসারের কথাই বলিয়াছেন বেশী, সংসারের বিভিন্ন জটিল কাহিনী তারা রচনাও করেছেন বেশ, কিন্তু তাদের লেখা প্রথমবার অনেক ভালো লাগা নিয়ে পড়ি কিন্তু দ্বিতীয়বার পড়িতে আর ইচ্ছা হয়না।
হুমায়ুন আহমেদ ও জাফর ইকবালের দুই একটি রচনা বাদে বেশীরভাগই কমেডি শ্রেণীর, পড়তে অনেক মজা লাগে, কৌতুক পড়ে যেমন হাসি আসে তেমনি হাসি আসে, কিন্তু দ্বিতীয়বার পড়ার ইচ্ছা বা ধৈর্য কোনটাই হয়ে উঠেনা।
** ভালোবাসার মানে যে শুধু দুইজনকে দুইজনার পাওয়া নয়, বরং সংসারের সকলকে সাথে নিয়া নিজেদের আপন করিয়া পাইবার নামই ভালোবাসা, এমনটা বোধহয় একমাত্র শরৎচন্দ্রই এমনভাবে বুঝিয়াছিলেন এবং সকলের তরে লিখিয়া গেছেন, এইজন্যই শরৎচন্দ্রকে আমার এত ভালো লাগে, এত কাছের এত আপনার একজন বলে মনে হয়।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



