somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার প্রথম কদম ফুল

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপু মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, মা-বাবার একমাত্র সন্তান, জীবনে সে অনেক হিসেব কষে বড় হয়েছে, কিন্তু অপু একটা জায়গায় কোন ভাবেই হিসেব মিলাতে পারে না, যতই ইচ্ছে করে হিসেবগুলো কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়।।

সেটা হচ্ছে রেনুর কাছে, অপু রেনুকে প্রচন্ড রকমের ভালোবাসে, রেনুর কথা মনে হলেই অপুর বুকের বাম পাশটায় প্রচন্ড রকমের শূন্যতার সৃষ্টি হয়, রেনুর মুখটাকে দু-হাতে ধরে অনন্তকাল দু-চোখ ভরে দেখতে ইচ্ছে করে।

রেনুর সাথে অপুর দেখা হয়, দুই বছর আগে কেমেস্ট্রি ক্লাসে, ক্লাসের প্রথম দিনই অপুর রেনুকে ভাললাগে যায় প্রচন্ড রকমের, যতই দিন গড়ায় অপু রেনুকে খুব গভীর ভাবে লক্ষ করতে থাকে আর এই ভালোলাগা আস্তে আস্তে ভালোবাসায় রুপ নেয়। রেনু খুব ভদ্র ভাবে ক্লাস করে, তেমন কারো সাথে কথা বলেনা, চুপ-চাপ ক্লাস করে আর চলে যায় আর রেনু সবসময় ক্লাসের সামনের সারিতে গিয়ে বসে আর অপু পিছনের সারিতে বসা ছাত্র, তাই রেনুও কখনো অপুকে ভালো করে খেয়াল করেনি কোনদিন।

এইভাবে দেখতে দেখতে ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসে, অনেক সাহস নিয়ে অপু পরীক্ষার পর রেনুকে জানায় তার ভালোলাগার কথা, রেনু প্রথমে খুব অবাক হলেও খুশি হয়, কিন্তু সরাসরি কিছু বলেনা, তারপর তাদের মাঝে প্রথমে ফেসবুকে টুকটাক কথা-বার্তা তারপর মোবাইলে কথা এইভাবে চলার পর প্রায় আট মাস পনের দিন পর রেনু অপুকে বলে রেনুর সাথে দেখা করার জন্য।।

আর সেই প্রথম দেখাতেই রেনু অপুকে তার ভালোবাসার কথা জানায়, প্রতিউত্তরে অপু নিস্পলক মিনিট দুয়েক তাকিয়ে থাকে রেনুর দিকে, তারপর অনেক আকুতি নিয়ে রেনুকে শুধায় আমি কি তোমার হাত দুটো একটু ধরতে পারি? একটু মুচকি হেসে রেনু মাথা নাড়ে।।

আজো অপুর সাথে রেনুর দেখা করবার কথা, অপু রেনুকে কথা দিয়েছিলো বর্ষার প্রথম কদম ফুলের গুচ্ছ রেনুকে উপহার দিবে, তাই আজ সকাল বেলাই অপু ঘর হতে বের হয়েছে কদম ফুলের জন্য। অপু বাসা হতে বের হয়ে, খানিক পায়ে হেটে, খানিক বাসে, খানিক সি-এন-জিতে করে, সমগ্র ঢাকা চষে বেড়ায় কদম ফুলের জন্য, কিন্তু সব বৃথা।। অবশেষে এক মাঝবয়সী রিকশাওয়ালা কে ডাক দেয় মামা এদিকে আসো।
মামা কদম গাছের কাছে নিয়ে চলো, রিকশাওয়ালা রহিম প্রথমে বুঝতে পারে না, আবার শুধায় কই যাইবেন কইলেন??
অপু আবার বলে, মামা বিকেলের মধ্যে কদম ফুল লাগবে, ঢাকা শহরে তো কোন ফুলের দোকানে কদম ফুল পাওয়া যায়না, তাই সারা শহর ঘুরেছি, কিন্তু কোন লাভ হয় নাই বলেই অপু রিকশায় উঠে বসে।
রহিম মাথা নাড়ে কই যামু কন মামা, কদম গাছ কই পামু?? অপুর উত্তর যান যেদিকে ইচ্ছা ।।

রহিম প্যাডেল ঘুড়ায়, রিকশা সামনে বাড়ে, কিন্তু কদম গাছের দেখা মেলেনা, অবশেষে টানা তিন ঘন্টা রিকশা চালানোর পর রহিম মিয়া একটি কদম গাছ আবিস্কার করে, ভাড়া মিটিয়ে অপু কদম গাছের নিচে গিয়ে দাড়ায়, অপু নিজে গাছে উঠতে পারেনা, কয়েকজনকে বলার পর মুখের উপর না করে দিয়েছে তারা, দূর থেকে রহিম মিয়া সব দেখতে পায় এবং অবশেষে রহিম মিয়া তার রিকশা নিয়ে এগিয়ে আসে, অপুকে বলে মামা আমার গামছাটা ধরেন তো দেখি। বলে কয়েক লাফে গাছে উঠে যায় রহিম, নিচ থেকে অপু চিৎকার করে বলে –মামা পাতা সহ ফুল গুলো পাইড়ো, এক গোছা ফুল নিয়ে রহিম মিয়া গাছ থেকে নামে, তারপর অপুকে বলে আহেন রিকশায় উইট্টা বহেন।। কন কই যাইবেন ।।

অপু উত্তর করে, মামা নিউমার্কেটের দিকে যান, নিউমার্কেটের দুই নাম্বার গেইটে রেনুর সাথে দেখা হবার কথা, অপু যাবার একটু পরেই রেনু আসে, এসেই অপুকে জিজ্ঞেস করে এই তোমার হাতে পলিথিন মোড়ানো ওইটা কি, অপু উত্তর দেয় বলা যাবেনা, রেনুও মাথা নাড়ে আচ্ছা না বললে নাই।।
নিউমার্কেটে হাটতে হাটতে রেনুর একজোড়া কাচের চুড়ির পছন্দ হয়, একদম লাল দেখে রেনু চুড়ি কিনে, পাশে দাড়িয়ে অপুর সবুজ রঙের চুড়ি পছন্দ হয় এবং লুকিয়ে কিনেও ফেলে। তারপর দুইজন হাটতে হাটতে এক বেঞ্চিতে গিয়ে বসে। বসার পর অপু রেনুর কাছ থেকে রেনুর হাত দুটো চেয়ে নেয় আর রেনুর মুখের দিকে নিস্পলক তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন ।।
এরই মধ্যে রেনু বলে, আমি যাই আজকে।।অপু মাথা নাড়ে আর পলিথিনে মোড়ানো ব্যাগ হতে কদম ফুলের গুচ্ছ রেনুর হাতে দেয়। রেনু খুব অবাক হয়ে বলে তুমি কই পাইলা কদম ফুল, পাগল একটা বলে রেনু মুচকি হাসে।।

অপু এরপর সবুজ চুড়ি রেনুর হাতে দেয় আর বলে প্লিজ একটু পরো আমি দেখি, হাসতে হাসতে রেনু এক হাতে লাল চুড়ি আরেক হাতে সবুজ চুড়ি পড়ে, উঠে পড়ে আচ্ছা গেলাম তাহলে, রেনু সামনে হাটতে হাটতে একটি কদম ফুল হাতে নিয়ে তার পাপড়ি ছিড়তে ছিড়তে সামনে এগোয়, অপু ঠায় সেই বেঞ্চে বসে থাকে, রেনুর একহাতে সবুজ চুড়ি আরেকহাতে কদম ফুল দেখে অপু বেশিক্ষন রেনুর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেনা, কেমন যেন কুয়াশায় আদ্র হয়ে আসে দুই চোখ।।

কদম ফুলের পাপড়িগুলোকে পিচডালা রাস্তার বুকে ছিটাতে ছিটাতে এগিয়ে চলে রেনু আর পিছনে পড়ে থাকে ভালোবাসার রঙ্গিন জলছাপ।।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×